ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

rezaul_riaz_1349108148_30-DSCN4874__Small_

ছবিঃ গুগল থেকে

মানুষ যখন অমানুষ হয়ে যায় তখন সে পশুর চেয়েও অধম হয়। সেই মুহূর্তে এই মানুষটিই মানুষ খুন করতে পারে। এ রকম একটি লোমহর্ষক বাস্তব ঘটনা বর্ণনা করছি। সমাজে অনেক সময় আমরা দেখি, মানুষ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট হয়। আবার অনেক সময় দেখি, পশুও মানুষের চেয়ে কঠোর ও কঠিন দায়িত্বশীল হয়। মানুষ মনুষ্যত্বহীন হলেই সমাজ কোলুষিত হয়। যা সভ্য সমাজে কাম্য নয় ।
রহিম নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। ছোটবেলা থেকে তার সখ ছিল সৈনিক হবে। সে মা-বাবার কনিষ্ঠ ও পঞ্চম সন্তান। তারা তিন ভাই ও দুই বোন । বড় ভাই বোনেরা সবাই বিয়ে করে যার যার সংসার করছে। তার চাকুরি হয়েছে আট বছর আগে। রহিম ও তার মা-বাবা এক সাথেই বসবাস করত। দুই বছরের ব্যবধানে মা-বাবা মারা যায়। মা-বাবা মারা যাওয়ার পর বিয়ে করেছে সে। বেশিদিন আগে নয় মাত্র ছয়মাস হয়েছে। ফ্যামিলি কোয়ার্টারে উঠার সরকারি অনুমতিও পেয়ে গেছে। এবার বাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে আসার ছুটিও পেয়েছে। সৈনিক থেকে কয়েকটা প্রমোশনও পায় সে। বিয়ে করেছে গ্রামেই, স্ত্রী তার বাপের বাড়িতেই থাকে। রহিম ছুটিতে বাড়ি গেলে স্ত্রীকে নিয়ে নিজের বাড়িতেই থাকে।

এবার সে তিন দিনের ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছে। এদিকে তিনদিনের ছুটি শেষ হয়ে সাতদিন চলে গেছে। কিন্তু রহিম তো ক্যান্টনমেন্টে আসছে না। আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে কলমাকান্দা থানায় ম্যাসেজ এসেছে, রহিমের তথ্য নিয়ে অতি সত্বর হেডকোয়ার্টারে পাঠানোর জন্য। নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ তার বাড়ি গিয়ে তথ্য নিয়ে আর্মি হেডকোয়ার্টারে পাঠিয়ে দিয়েছে যে, সে তিনদিন ছুটি শেষ হওয়ার পর কর্মস্থলে চলে গেছে। পুলিশের তদন্তের পর তার বাড়ির আত্মীয় স্বজন অস্থির হয়ে গেছে। বাড়ি থেকে যাওয়ার আগের দিন রাতে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। কারণ সকালের ট্রেন ধরতে হলে সূর্য উঠার আগে রওনা করতে হবে। এছাড়া রত্নাকে ( রহিমের স্ত্রী) তার ভাবী সকালে জিজ্ঞাসা করলে বলেছে যে, রহিম ফজরের আযানের পর চলে গিয়েছে। তার বড় ভাই আক্কাস বেপারী সব জায়গায় খুঁজ নেয়ার পর থানায় গিয়েছে পরামর্শ করার জন্য। ওসি সাহেব বললেন, “আপনারা সঠিক তথ্য দেন, কিছুক্ষণ আগে আমাদের কাছে আবার চিঠি এসেছে যে, তাকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে। তার বড় ভাই বলল, আর্মিতে আট বছর চাকরি করার পর কেউ পালিয়ে যায় বলে আমার মনে হয়না। ঘটনাটা অন্য কিছু হবে স্যার।” তখন ওসি সাহেব বললেন, “ তাহলে তো চিন্তার বিষয়, আপনাদের কাউকে সন্দেহ হয়?” বড় ভাই কথা বলার আগেই ইন্সপেক্টর সাহেব বললেন, “চলেন আমাদের দায়িত্ব এখন তাকে জীবিত অথবা মৃত খুঁজে বের করা।” ওসি সাহেব একজন দারোগা ও পাঁচজন কনস্টেবল নিয়ে রহিমদের বাড়িতে চলে গেল। চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ গ্রামের সকলকে ডাকা হল। সাড়াদিন চেষ্টার পরও কোন তথ্য পাওয়া গেল না । পুলিশ যখন চলে যাচ্ছিল তখন একটি কুকুর এসে তাদের পথ আগলে দাঁড়াল।

এটি ছিল রহিমের পালিত কুকুর। তার চাকুরি হওয়ার পর এটিকে লালন-পালন করেছে তার বাবা-মা। এর পর তার বড় ভাই। কুকুরটির বয়স প্রায় শেষের দিকে, শক্তি ও সাহস আনেক কমে গেছে। কুকুরটিকে সরিয়ে তারা চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে কুকুরটি ওসি সাহেবের প্যান্টে কামড় দিয়ে ধরল। তখন তিনি বললেন, “কুকুরটিকে ফলো কর।” কুকুরটিকে ফলো করে তারা চলে গেল, রহিমের বাড়ি থেকে একটু দূরে একটি গভীর জঙ্গলে। কুকুরটি জঙ্গলের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় মাটিতে পা দিয়ে আঁচড় কাটছে এবং গুমরে গুমরে কাঁদছে। জায়গাটি দেখে পুলিশের আর বুঝতে বাকি রইল না যে, রহিমের লাশ এখানে আছে। মাটি খুঁড়ে এখনেই পাওয়া গেল রহিমের লাশ। সাথে সাথে পুলিশের তত্ত্বাবধানে লাশ নিয়ে যাওয়া হল নেত্রকোণা লাশ খানায়। ময়না তদন্তে বেরিয়ে আসল রহিমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তাহলে কে হত্যা করেছে তাকে? তার স্ত্রী রত্না ও তার প্রেমিক রবিন-এর যোগসাজশে আরো পাঁচজন। অনেকদিন পর মামলার রায় হল। রহিমের স্ত্রীর ফাঁসি, রবিনের যাবতজীবন কারাদন্ড আর বাকী পাঁচজনের ১০ বছর করে কারাদন্ড। কুকুরটির নাম ছিল ‘বাঘা’। বাঘাকে পুরষ্কারও দেয়া হয়েছিল পাঁচ হাজার টাকা। তার বরণ-পোষণ বাবদ এটা দেয়া হয়েছিল। আমাদের সমাজের খারাপ মানুষগুলোর আচরণ বাঘার মত হলেও সমাজ সুন্দর হয়ে যেত।