ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
S-1

[ছবিঃ এনটিভি নিউজ থেকে]

আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন শুনেছি ডাকাতের গুলি, সন্ত্রাসীর গুলি, মুক্তিবাহিনীর গুলি, পাক বাহিনীর গুলি, দুইপক্ষের গুলাগুলি ইত্যাদি। কিন্ত জনগণের উপর বিনাবিচারে পুলিশের গুলি, র‍্যাবের গুলি এইসব কথা কখনও শুনিনি। এর সাথে এবার যুক্ত হল এমপির গুলি। বর্তমানে একটা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, রাষ্ট্রীয় নীতি ও আইন অনেকেই মানতে চাচ্ছে না। কারণটা আমি না বলতে পারলেও এদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বাষ্ট্র বিজ্ঞানীগণ অবশ্যি বর্ণনা করতে পারবে।
শিশুর গায়ে এমপি সাহেব পিস্তল দিয়ে গুলি মারবে? এটা কারও বিশ্বাস করার কথা নয়। তবে গুলিতো মারল। শিশুর সাথে এমপি সাবেবের কোন শত্রুতা নেই তাহলে কেন গুলি করল? এখন আসা যাক কেন গুলি করল? বিভিন্ন মিডিয়াতে খবরটি পড়ার পর প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে জানা যায় মূল ঘটনা। গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি সাহেব মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন প্রতিদিন সকালে মাতাল অবস্থায় এ রাস্তা দিয়ে যান। আর গুলি করেছেন মাতাল অবস্থায়। দেখা যাক প্রত্যক্ষদর্শীরা কী বলে। সৌরভের চাচা শাজাহান আলী ওরফে সাজা মিয়া বলেন, প্রতিদিনের মত তিনি ভোরে ভাতিজাকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটছিলেন। রাস্তায় এমপি লিটন গাড়ি থেকে ইশারায় তাকে ডাকেন। কিন্তু গাড়ির চালক ইশারায় সরে যেতে বললে সাজা মিয়া দৌঁড়ে সরে যান। এ সময় গুলি ছোড়া হলে তা সৌরভের পায়ে লাগে।
আহত অবস্থায় সৌরভকে প্রথমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
কিন্তু সকাল ৭টার দিকে রংপুর নেওয়ার পথে সৌরভকে বহনকারী গাড়ি বামনডাঙ্গা এলাকায় আটকে দেয় এমপি লিটনের লোকজন। সুন্দরগঞ্জের ওসি জিন্নাত আলী বলেন, এমপির লোকজন গাড়ি আটকিয়েছে এমন খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। পরে তিনি গাড়িটি রংপুরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
সুন্দরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হাই মিলটন বলেন, শিশুটিকে রংপুরে নেওয়ার পথে গাড়ি আটকে দেওয়ার খবর পেয়ে তিনিও সেখানে গিয়েছিলেন। তবে কীভাবে সৌরভ গুলিবিদ্ধ হল- সে বিষয়ে তিনি মুখ খুলতে রাজি হননি।
সৌরভের মা সেলিনা বেগম বলেন, “সড়কে গিয়ে দেখি, ছেলেটা আমার মাটিত পড়ে আছে। আমার ছেলেটার এত রক্ত পড়ল। আমি এর বিচার চাই। ভোট দিয়া এমপি বানিয়েছি, আমার ছেলেকে গুলি করার জন্যে! এমপি হোক আর যাই হোক, আমি আমার ছেলেকে গুলি করার বিচার চাই।”
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এমপি লিটন প্রায় প্রতিদিনই মাতাল অবস্থায় ভোরের দিকে বাড়ি ফেরেন। ওই অবস্থাতেই তিনি গুলি করেছেন। সৌরভের বাবা সাজু মিয়া জানান, ছেলে একটু সুস্থ হলে হাসপাতাল থেকে ফিরে তিনি এ ঘটনায় মামলা করতে চান।
একটা দেশের সংসদ সদস্য যদি এরকম মাতাল, পাগল, নিয়ম-নীতিহীন হয় তাহলে দেশের সাধারণ জনগণ কোথায় যাবে। তবে এই সকারের আমলে আমরা এ ধরণের অপরাধের বিচার পেয়েছি। সংসদ সদস্যপদ বাতিল হতেও দেখেছি। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, “ অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন তার সঠিক বিচার হবে।” আমরা যারা জনগণ তারা চাই অপরাধীর উপযুক্ত বিচার। এবারও আশা করছি এই সংসদ সদস্যের উপযুক্ত
বিচার করে সদস্যপদ বাতিল করা।

[ তথ্য সংগ্রহঃ এনটিভি নিউজ ও বিডি নিউজ ২৪ ডট কম ]