ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

সরকারের টাকা মানেই আমরা মনে করি, ফাও টাকা। বাংলাদেশের খুব কম মানুষেই বুঝে না যে, সরকারের টাকা মানেই দেশের জনগণের টাকা। টাকা দেশের, দেশের জনগণের, সরকারের নয়- এটা দেশের শতকরা ৮০ জন লোক যখন বুঝবে তখনই দেশের উন্নতি সম্ভব হবে। আর দুর্নীতিগ্রস্থ শিক্ষা ব্যবস্থায় সঠিক শিক্ষা অর্জন করাও কঠিন। দেশের সঠিক উন্নতির জন্য শিক্ষা খাত সরকারি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমরা প্রায়ই মিডিয়াতে দেখতে পাই, বাংলাদেশের শিক্ষাখাত একটি দুর্নীতিগ্রস্থ খাত। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই শিক্ষা খাতের দুর্নীতি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রাথমিক শিক্ষা বাদে বর্তমানে শতকরা ৯৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারি। শিক্ষা মন্ত্রনালয়, উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, সকল শিক্ষা বোর্ড, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সকল শিক্ষা অফিস, আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ এ সকল প্রতিষ্ঠানের কাজ হল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই । এ বিশাল কর্মকর্তা-কর্মচারিগণের বেতন-ভাতাদি সরকার বহন করে। বিপুল পরিমান টাকা এ খাতে করচ করছে সরকার। কিন্তু শত চেষ্টা করেও এ খাতের দুর্নীতি কমাতে পারছে না। আমি যে সকল প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করলাম তারাই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হর্তা-কর্তা। তাঁরা যদি কোনদিন শোনে যে, এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ হয়ে গেছে তাহলে তাদের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। কারণ তাদের অতিরিক্ত আয় বন্ধ হয়ে যাবে। কিছু কিছু সৎ কর্মকর্তা আছেন তাঁরা খুশি হতে পারেন।
সরকারে উচিত এবং ফরজ কাজ হল এমপিও ভুক্ত পাঁচ লক্ষ শিক্ষক-কর্মচারিকে এ দুর্নীতির জাল থেকে উদ্ধার করা। এ অবস্থার জন্য আসলে কারও দোষ নেই। এটা একটা প্রক্রিয়ায় পরিনত হয়েছে। শিক্ষকগণ বিপদে পরে অফিসগুলোতে যায় কাজ করাতে। অফিসার ও কর্মচারীগণ দুর্বলতার সুযোগে কিছু পেতে চায়। শিক্ষকগণও কাজ উদ্ধার করার জন্য ঘুষ দেয়।
এ ধরণের সমস্যার একমাত্র সমাধান এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করলে ৯০ শতাংশ দুর্নীতি কমে যাবে। এ কাজটি সহজভাবেই সরকার করতে পারে। এরজন্য দরকার হিসাব-নিকাশ ও জরিপ করা। আমি একটা সহজ হিসাব তুলে ধরছি।
আমাদের দেশে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে প্রায় ৩০ হাজার। মোট শিক্ষক-কর্মচারি হল প্রায় পাঁচ লক্ষ। গড়ে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারি আছেন প্রায় ১৬ জন।
প্রতি বছর সরকার শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা দিচ্ছেন প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। দুই হাজার করে ছাত্র-ছাত্রী আছে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এ সকল প্রতিষ্ঠান প্রতি ছাত্রের নিকট থেকে বেতন নিচ্ছে গড়ে ৩০০ টাকা। এ হিসাবে ১০ হাজার প্রতিষ্ঠানে বছরে বেতন আদায় হয় প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। আর বাকী ২০ হাজার প্রতিষ্ঠানে বছরে বেতন আদায় হয় ৬ হাজার কোটি টাকা। তাহলে বেতন বাবদ আয় হয় ১৩ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে সরকারের খাত থেকে অতিরিক্ত কোন টাকার প্রয়োজন নাই। হয়তবা কিছু লাগতেও পারে নাও লাগতে পারে।
সরকার যদি সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণ করে তাহলে এটি সকারের একটি আয়ের উৎস হতে পারে। এখন আসাযাক এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর কী পরিমাণ টাকা লোপাট হচ্ছে। যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই হাজার ছাত্র-ছাত্রী আছে সে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর সেশন ফি এর কথা বলে অতিরিক্ত টাকা নেয় প্রায় ১ কোটি। এ হিসাবে প্রতি বছর লোপাট হচ্ছে ১০ হাজার কোটী টাকা। আর বাকী ২০ হাজার প্রতিষ্ঠানে লোপাট হয় কমপক্ষে ৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা প্রতিবছর লোপাট হচ্ছে অভিভাবক মহল থেকে। এ টাকা কারা লোপাট করছে এ ব্যপারে সবাই অবগত আছেন।
সরকার যদি ৩০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করে তাহলে কী খরচ হতে পারে? হ্যাঁ, ৪০% বাড়িভাড়া সহ যদি সরকার শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন দেয় তাহলে প্রতিমাসে প্রয়োজন হবে গড়ে প্রায় ৩২ হাজার টাকা। এ হিসাবে বছরে খরচ হবে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা। তাহলে এখন সরকার দিচ্ছেন ১৩ হাজার কোটি টাকা। আর অতিরিক্ত লাগবে ৬ হাজার কোটি টাকা। যদি সরকার বিদ্যালয়ের আয় নিয়ে যায় তাহলে জাতীয়করণ করার পর সরকারের খরচ হবে ৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ সরকারের আয় হবে ৭ হাজার কোটি টাকা। তাও আবার জাতীয়করণ করার সাথে সাথে এ আয় হবে।
সরকার যদি ইচ্ছা করে তাহলে, প্রথমে একটি নিয়ম করে দিতে পারে। যেমনঃ যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিগত ৫ বছরে পাবলিক পরীক্ষায় ৮০% ফলাফল করেছে তাদের জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে। আর বাকীরা এ নিয়মের আওতায় আসতে পারলে তাদেরকেও জাতীয়করনের আওতায় আনা হবে। পরিশেষে সরকারের কাছে আকুল আবেদন যে, এ সকল দিক বিবেচনা করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করে জাতিকে মুক্তির পথ দেখাবেন।