ক্যাটেগরিঃ ইতিহাস-ঐতিহ্য

আজ অবশ্য আমার বড় কন্যা নাবিলাকে নিয়ে বের হয়েছি। বৈশাখ মাসের ২২ তারিখ এবং শুক্রবার, মে মাসের ৫ তারিখ ২০১৭ সাল। গ্রীষ্মের মনোরম সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরতে ভালই লাগছিল। আজ আমরা বিকাল ৪টায় প্রথম শিশু একাডেমীতে প্রবেশ করি। নাবিলাকে গানের ক্লাসে দিয়ে নোটিশ বোর্ডের সামনে এসে দাঁড়ালাম। কিছুক্ষণ পর আসলো আমার সহকর্মী আব্দুন নূর। তাঁর দুই মেয়েকেও শিশু একাডেমীতে নিয়ে আসে। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতে প্রায় এক ঘন্টা শেষ হয়ে গেল। সে চলে গেল তাঁর মেয়েদের কছে। এদিকে নাবিলার ক্লাস শেষ।

আজকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘অপরাজেয় বাংলা’ হয়ে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের সমাধিসৌধ পরিদর্শন করবো। দোয়েল চত্বর থেকে রিক্সা নিয়ে চলে গেলাম ৫ মিনিটের মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে।

DSCN4427

.

রিক্সায় বসে বসে অবশ্য ‘অপরাজেয় বাংলা’ ভাস্কর্যের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস নাবিলাকে বললাম, “অপরাজেয় বাংলা তিনজন মুক্তিযোদ্ধার এই ভাস্কর্যটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ ভাস্কর্য। ফার্স্ট এইড বক্স হাতে একজন সেবিকা, সময়ের প্রয়োজনে রাইফেল কাঁধে তুলে নেয়া গ্রীবা উঁচু করে ঋজু ভঙ্গিমায় গ্রামের টগবগে তরুণ এবং দু’হাতে রাইফেল ধরা আরেক শহুরে মুক্তিযোদ্ধা। এ ভাস্কর্যের নির্মাতা শিল্পী সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ। ১৯৭৩ সালে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে ১৯৭৯ সালে শেষ হয়। এ ভাস্কর্যটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ধারক ও বাহক।”

DSCN4430

.

রিক্সাওয়ালাকে বললাম, “তুমি একটু দাঁড়াও, আমরা কয়েকটা ছবি তুলবো।” রিক্সা ওয়ালা বললো, “ঠিক আছে স্যার।” আমরা কয়েকটি ছবি তুলে আবার রিক্সায় উঠলাম। রিক্সায় বসে নাবিলা বললো, “বাবা তুমি তিনজন মুক্তিযোদ্ধার যে বর্ণনা দিয়েছিলে তা খেয়াল করে দেখলাম সব ঠিক আছে।” তার কথা শুনতে শুনতে মধুর ক্যান্টিনের সামনে দিয়ে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের সমাধিসৌধের সামনে গিয়ে নামলাম। রিক্সা ওয়ালাকে ত্রিশ টাকা দিয়ে বিদায় করে দিলাম। সমস্যা হল, এই সমাধিসৌধ শুক্র-শনি বন্ধ থাকে। ভিতরে আর ঢুকতে পারলাম না। ক্যামেরা জুম করে বাহির থেকে কিছু ছবি উঠালাম।

DSCN4431

.

তখন বেলা শেষ, সন্ধ্যা হয়ে গেছে। রাস্তা পার হয়ে রিক্সায় উঠলাম বাসার উদ্দেশ্যে। রিক্সায় বসে বসে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন সম্পর্কে দুজনে আলাপ-আলোচনা করতে করতে চলে আসলাম জিরো পয়েন্টে। রিক্সা সিগন্যালে আটকা, এর মধ্যে নাবিলার চোখে পড়ল বাম পাশে রাস্তার ধারে এক বিশালদেহী হাতি।

DSCN4449

.

রাস্তার পাশে ডাস্টবিন থেকে ফলের খোসা খাছে। অসংখ্য মানুষ তাকে দাঁড়িয়ে দেখছে। নাবিলা আমাকে বললো, “বাবা, রিক্সা থেকে নামো, হাতি দেখবো।” ভাড়া দিয়ে আমরা রিক্সা থেকে নেমে হাতির কাছে চলে আসলাম। এত বড় হাতি নাবিলা এই প্রথম দেখল। খুব মজা পেলো হাতি দেখে। হাতির কিছু ছবি তুলে বাসার দিকে রওনা হলাম।

(চলমান)