ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

সেদিন টেলিভিশনে সংবাদ দেখছিলাম, সেখানে হঠাৎ একটা তথ্য জেনে মাথাটা প্রায় ঘুরে উঠল। প্রতিবেদনটিতে বলা হচ্ছে বাংলাদেশে মাদক সেবীর সংখ্যা এখন ১ কোটি! জ্বি ভূল বলছি না ঠিকই শুনছেন ১ কোটি! বাংলাদেশের জনসংখ্যা যদি ১৭ কোটি হয় সেই হিসেবে- বাংলাদেশের প্রতি ১৭ জনের একজন মাদক সেবী! যার শতকরা ৮০ ভাগ লোক মাদক হিসেবে ইয়াবা গ্রহন করে। প্রতিবেদনটিতে সংখ্যাগত দিকটি আমার কাছে খানিকটা অতিরঞ্জিত মনে হচ্ছিল, তাই ইন্টারনেটে খুঁজে দেখার সিদ্ধান্ত নিলাম এই সংক্রান্ত কোন পরিসংখ্যান পাওয়া যায় কিনা। বিস্তারিত বলার আগে চলুন ইয়াবা সংক্রান্ত কিছু তথ্য জেনে নেই-

ইয়াবা কিঃ
থাই ভাষায় ইয়াবা মানে হচ্ছে ‘পাগল করা ঔষধ’ যা যথাযত ভাবেই এর নামকরনের সার্থকতা প্রমান করে। ভারতে এর নাম ‘ভুল ভুলাইয়া’, ফিলিপাইন, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া ও হংকং এ এর নাম শাবু, বাংলাদেশে ছদ্মনাম ‘বাবা’ তবে গোটা দক্ষিন-পূর্ব এশিয়া জুড়েই এটা একনামে ‘ইয়াবা’ বলে বেশি পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের বাহিনী এই পিল ব্যাবহার করত দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় ও জেগে থাকার জন্য তখন এর নাম ছিল ‘পারভিটিন’। বিশেষজ্ঞদের মতে এর ক্ষতিকারক প্রভাব হেরোইন এর চেয়েও মারাত্মক।

কি ভাবে কাজ করেঃ
ইয়াবা’র মূল উপাদান হচ্ছে মেথঅ্যাম্ফিটামিন ও ক্যাফেইন, এর সাথে আরও যোগ হয় বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থলী কাজে ব্যাবহৃত পরিস্কারক উপাদান। সেটা সাবান থেকে শুরু করে টয়লেট ক্লিনার ও হতে পারে। মেথঅ্যাম্ফিটামিন নিউরোট্রান্সমিটার ডোপামিন এর নিঃসরণের বৃদ্ধি ঘটায়। ডোপামিন রাসায়নিক; শরীরের আনন্দানুভূতির নিয়ন্ত্রনের একটা উপাদান, ফলে এর অতিমাত্রায় উপস্থিতি শরীরে প্রচন্ড সুখানুভূতির জন্ম দেয়। এই মাদক, গ্রহীতাদের শারিরিকভাবে পূর্ণ মাত্রায় সক্রিয় করে তোলে এবং তাদের কয়েক দিন পর্যন্ত জাগ্রত করে রাখতে পারে। এই জন্য থাইল্যান্ডে একসময় একে ‘ইয়া-মা’ বা ‘ঘোড়ার ঔষধ’ ও বলা হতো। প্রথমদিকে ইয়াবা যৌনউত্তেজক বড়ি হিসাবে বাজারে পরিচিত ছিলো। কিন্তু এটা দীর্ঘদিন সেবনের ফলে যৌন ক্ষমতা হ্রাস পায়।

ক্ষতিকারক প্রভাবঃ
ইয়াবা সেবনের পরিণাম খুবই ভয়াবহ হতে পারে। ৮০-৯০ এর দশকে থাইল্যান্ডে নিত্য নৈমেত্তিক এই মাদক সেবীদের উন্মত্ততায় সাধারণ জনগন অতিষ্ট ছিল। উচু উচু দালান থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করাটা একপ্রকার মহামারির আকার ধারণ করেছিল। এর সেবনে যেই ক্ষতিকর প্রভাব গুলো পড়ে তা হলো-

• এই মাদক, গ্রহীতার মানসিক স্বাস্থ্যে ভয়ানক প্রভাব ফেলে। এমনকি স্বল্প মেয়াদি গ্রহনেও ইয়াবা-সেবী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে, দুশ্চিন্তা সহ কাজে কর্মে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এই মাদক সাধারণ শান্ত ব্যাক্তিটিকেও হিংস্র ও আক্রমনাত্মক করে তুলতে পারে। এই মাদক গ্রহনে হ্যালুসিনেশন হয়াটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার, বিভিন্ন প্রকার অবাস্তব দৃশ্যের অবতারণা ঘটার ফলে সেবন কারী ভয়ানক প্রতিক্রিয়া দেখায়। সবচেয়ে বেশি যেই হ্যালুসিনেশনটা হয় তা হলো চামড়ার নীচে দিয়ে পোকা হেঁটে যাওয়ার অনুভূতি অনেকটা মমি সিনেমার মতো। কোন কোন ক্ষেত্রে রোগী নিজের চামড়া খামচে ছিঁড়ে ফেলে।
• দিনের পর দিন র্নিঃঘুম অবস্থা ব্যাক্তির ভালো মন্দ বিচারের চেতনাকে ধ্বংস করে দেয়।
• রক্তচাপ অনিয়মিত ও ভয়ানক ভাবে বেড়ে যায়, হৃদপিন্ডের ক্ষতি সাধন করে, এবং স্ট্রোক করার ঝুকি থাকে।
• হৃদপিন্ডে প্রদাহ ঘটায়।
• অস্বাভাবিক ভাবে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ঘটায়।
• বিষণ্ণতায় ভুগতে থাকে।
• অন্যের প্রতি সর্ম্পকে অবিশ্বাসের সৃষ্টি করে।
• যৌন শক্তি লোপ পায়।
• মাংসপেশীতে প্রবল খিঁচুনি হয়।
• স্মৃতি শক্তি লোপ পায়।
• আত্মহত্যা করার প্রবনতা জন্মায়।
• ইয়াবা অতিমাত্রায় আসক্তি – সৃষ্টিকারী মাদক।
• ফুসফুসের ক্ষতি করে।
• কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
• যকৃৎ এর ক্ষতিসাধন করে।
• স্থায়ী ভাবে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধান হয়।
• পরিশেষে মৃত্যু অবধারিত।

এইতো গেলো শারিরিক সমস্যা, সামাজিক সমস্যা গুলো আরও ব্যাপক ও সু্দূর প্রসারী। মাদক সেবী মাদক সেবনের ফলে নিজের মধ্যেই নিজের একটা আলাদা জগৎ গড়ে নেয় সেখানে থাকে না কোন ভালো মন্দের বিচার, ফলে ধীরে ধীরে সমাজ ও পারির্পাশ্বিকতা থেকে সে সম্পূর্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাদক গ্রহনের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়, সেই অর্থ জোগাড় করতে মাদক সেবী বেছে নেয় বিভিন্ন রকম অপরাধ মূলক পন্থা। শুরুটা হয় নিজ বাড়ি থেকে চুরির মাধ্যমে এর পর গায়ের জোরে কেড়ে নিতে শুরু করে অর্থ সম্পদ এইভাবে ধীরে ধীরে একটা পরিবার নিঃস্ব হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। সে শুধু নিজ পরিবার ধ্বংস করেই ক্ষান্ত হয় না, কারন একজন নিয়মিত মাদক সেবীর মাদকের চাহিদা কখনো ফুরোয় না বরং উত্তরত্তর বাড়তেই থাকে, যেহেতু তার স্নায়ু বিকল হয়ে যেতে থাকে তাই মাদক নেয়ার পরিমান ও গ্রহনের মাত্রা বেড়েই চলে। আর তার চাহিদা মেটাতেই তখন সে ছিনতাই, রাহাজানি, খুন, ডাকাতির মতো বড় অপরাধ করতেও পিছপা হয় না। যেহেতু ভালো মন্দের পার্থক্য করতে সে অপারগ হয়ে যায় তাই আক্ষরিক অর্থেই তার আর একটা হিংস্র পশুর মধ্যে কোন তফাৎ থাকে না।

বাংলাদেশে বিস্তারঃ
বাংলাদেশে আকাশ, সড়ক, জল ও রেলপথের মাধ্যমে ইয়াবা আনা-নেওয়া করা হয়। বলতে গেলে বর্তমানে আর্ন্তজাতিক মাদক চোরাচালানের অনেকটা নিরাপদ রুট বাংলাদেশ। ইয়াবার মূল উৎপত্তি স্থল হলো বার্মার গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলে, সেখানে বার্মার আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রতক্ষ তত্বাবধানে বিভিন্ন কারখানায় ইয়াবা উৎপাদন করা হয় সেখান থেকে নাসাকা বাহিনীর সহযোগিতায় কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফ এর বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। সবচেয়ে উদ্বেগের কথা হল সম্প্রতি বিজিবি বার্মার- বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন স্থানে তিনটি ইয়াবা কারখানার সন্ধান পেয়েছে যেখান থেকে সরাসরি ইয়াবা’র চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই নিয়ে নাসাকা বাহিনীর সাথে কয়েক দফা পতাকা বৈঠকও হয়েছে, নাসাকা বাহিনী প্রথমে কারখানা থাকার কথা অস্বীকার করেছে পরে মৌখিক ভাবে আশ্বাস দিয়েছে বন্ধ করে দেয়ার, কিন্ত বিজিবি’র মতে কারখানা গুলো এখনো বহাল তবিয়তে আছে। বাংলাদেশে ইয়াবা’র আগমন ৯০ দশকের শেষের দিকে, এরপর ধীরে ধীরে এর ব্যাপক প্রসার ঘটে।সম্প্রতি চট্রগ্রামে র্যা ব এর হাতে ২ লক্ষ ৭০ হাজার পিস ইয়াবার একটা বিশাল চালান ধরা পরে, অনুসন্ধান করে জানা যায় যে এইরকম আরও কয়েকটি বড় চালান অতীতে পার পেয়ে গেছে। আর প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য ছোট ছোট চালান তো ধরা পড়ছেই। বেশ কিছুদিন আগে খোদ রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে আমিন হুদা নামক এক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, সে তার বাসায় ইয়াবা তৈরী করত। বিপুল পরিমান ইয়াবা এবং ইয়াবা তৈরীর কাজে ব্যাবহৃত যন্ত্রপাতি সহ তাকে আটক করা হয়েছিল, সে এখন বহাল তবিয়তে জামিনে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কিছু পরিসংখ্যানঃ
দেশে মাদকসেবী ও অপরাধীর সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাংলাদেশে মাদকসেবীর সংখ্যা ৫০ থেকে ৭০ লাখ। তবে বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা বলছে, এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তথ্যমতে, দেশে মাদকসেবীদের মধ্যে ৯০ ভাগের বেশি পুরুষ। ৮০ শতাংশ মাদকাসক্ত ব্যক্তির বয়স ১৫ থেকে ৩৫ বছর। ৫৫ শতাংশ অবিবাহিত বা তালাক-প্রাপ্ত। মাদকাসক্তির জন্য চিকিৎসা নিতে আসা প্রতি ১০ জনের মধ্যে একটি শিশু। ২০০২ সালে দেশে মাদক অপরাধীর সংখ্যা ছিল ৬ শতাংশ, বর্তমানে তা ২০ শতাংশের বেশি।
বেসরকারী হিসেব মতে মাদক সেবীদের শতকরা ৮০ ভাগ ইয়াবা সেবন করে যাদের বয়স ১৪ থেকে ৪৫ এর মধ্যে। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যাক্তি শ্রেনীর লোক রয়েছে- ছাত্র ,শিক্ষক,ডাক্তার, প্রকৌশলী,ব্যাবসায়ী,সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, মিডিয়ার ব্যাক্তিত্ব, এমনকি দিন মজুর পর্যন্ত। তবে যেহেতু দামে বেশী তাই উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের মানুষদের মাঝে এর ব্যাবহার সবচেয়ে বেশী দেখা গেছে। প্রকার ভেদে এক একটি ইয়াবার দাম ৩০০-৭০০ টাকার মধ্যে। এই মাদক জনপ্রিয় হবার কারন সহজ লভ্যতা এবং বহনের সুবিধার কারন।অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি খাওয়ার বড়ি হিসাবে সেবন করা হয়, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ধাতব ফয়েলে পুড়িয়ে ধোঁয়া হিসাবেও এটিকে সেবন করা হয়ে থাকে।ঢাকায় তিন ধরনের ইয়াবা পাওয়া যায়। প্রথম ধরনের ইয়াবা ট্যাবলেটের বেশির ভাগ সবুজ বা গোলাপি রঙের হয়। এর ঘ্রাণ অনেকটা বিস্কুটের মত হয়ে থাকে। দ্বিতীয় ধরনেন ইয়াবা ট্যাবলেট এর দাম তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু এটিও নেশাসৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। তৃতীয় ধরনের ট্যাবলেটি আরও সস্তা এবং নেশায় আসক্তদের নিকট এটি ভেজাল বলে পরিচিত।ইয়াবা সেবনকারীদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা অনুসারে, চিতা নামের পিলটি সবচেয়ে নিম্নমানের ইয়াবা পিল হিসেবে গণ্য হয়। এর গায়ে ক্ষুদ্র চিহ্ন থাকে। অন্যদিকে গোলাপ জল নামের ইয়াবা পিলকে উচ্চ মান পিল হিসেবে গণ্য করা হয়। ইয়াবা পিলের গায়ে ইংরেজি ডাব্লিউ ওয়াই লেখা থাকে। ওয়াই লেখার ধরণ দীর্ঘ হলে এবং ইয়াবার রঙ পুরোপুরি গোলাপি হলে ধারণা করা হয় সেটি ইয়াবা হিসেবে ভাল মানের। এর সহজ লভ্যতা এখন এমন এক পর্যায়ে পড়েছে যে পাড়া মহল্লার অলিতে গলিতে পর্যন্ত পাওয়া যায়। কেউ কেউ ব্যাবসা হিসেবে এটাকে লাভজনক মনে করায় এটার ব্যাবসাও শুরু করে দিয়েছে। ব্যাবসাটা যে কি পর্যায়ে গেছে একটা উদাহরণ দেই- স্কুলে দিতে এসে এক নাম করা ইংরেজী মাধ্যমে পড়া বাচ্চার মা বলছেন আরেক বাচ্চার মা কে ‘ভাবী আমি নিয়মিত ইয়াবা খেয়ে শুকিয়ে গেছি আপনিও খেয়ে দেখেন শুকিয়ে যাবেন!!’

মূলত ইয়াবা’র প্রধান শিকার হচ্ছে আমাদের যুব সমাজ, আমাদের চোখের সামনেই আমাদের ভবিষ্যত ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে অথচ আমরা কার্যকর কোন পদক্ষেপই নিতে পারছি না। কিছু কিছু চালান ধরা পরছে, কেউ কেউ গ্রেফতার ও হচ্ছে কিন্ত আইন এর ফাঁক ফোঁকর গলে তারা আবার বেরও হয়ে যাচ্ছে। এটা প্রতিরোধে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার, সরকারের একার পক্ষে সেটা সম্ভব না।আর যা দরকার তা হচ্ছে কার্যকর আইন ও আইন এর যথাযত প্রয়োগ। চেষ্টা করলে কোন কিছুই অসম্ভব না সেটা আমরা থাইল্যান্ড এর দিকে তাকালেই বুঝতে পারব, থাইল্যান্ডে এই ইয়াবা এক সময় মহামারির রূপ ধারন করেছিল, আজকে আমাদের যে অবস্থা তার থেকেও কয়েক গুণ বেশী ভয়াবহ ছিল সেখানকার অবস্থা। কিন্তু থাকসিন সরকারের নেয়া কার্যকর পদক্ষেপ এর কারনে সেই পরিস্থিতি তারা সামলাতে পেরেছে। আমরা চাইলে আমরাও পারব প্রয়োজন কেবল একটু স্বদিচ্ছার। পরিশেষে ‘করাল গ্রাস’ শব্দটা সাধারনত আমরা ব্যাবহার করি নদী ভাঙ্গনের ক্ষেত্রে যেমন পদ্মার করাল গ্রাস, ব্রক্ষ্মপুত্রের করাল গ্রাস ইত্যাদি। নদী যেমন ভাঙ্গতেই থাকে তার গ্রাসে সবই বিলীন হয়ে যায় কোন কিছুই রক্ষা করা যায় না, ইয়াবার করাল গ্রাসও ঠিক সেইরকম সে ব্যাবহারকারীর স্বাস্থ্য,মূল্যবোধ, সম্পদ গ্রাস করতে করতে এক সময় সবই গ্রাস করে নেয় এমন কি শেষ পর্যন্ত জীবনটাও কেড়ে নেয়। শুধু নদীর করাল গ্রাস আর ইয়াবা’র করাল গ্রাসের মধ্যে পার্থক্য একজায়গায়ই, নদী এক জায়গায় ভাঙ্গলে আরেক জায়গায় গড়ে-ইয়াবা শুধু ভয়াবহ ভাবে ভেঙ্গেই যায় আর সেই ভয়াবহ ভাঙ্গার স্মৃতি ও চিহ্ন ফেলে যায় সবার মাঝে।

পরিশেষঃ এখানে আমি যা বললাম তা Abstract মাত্র আসল চিত্রটা আরও অনেক ভয়াবহ। লেখার অনভ্যস্ততার জন্য হয়ত ঠিক মতো গুছিয়ে লেখা হয়নি, কিন্ত এই নিয়ে কিছু একটা লেখার তাগিদ অনুভব করছিলাম তাই লেখা। অনুরোধ রইল সবার প্রতি এই ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তোলার।