ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

সরকারি অনুদানের সিনেমা নিয়ে ছোটবেলা থেকেই আমার ভেতর এক ধরণের কৌতুহল কাজ করছে। বড় হবার পর সেই কৌতুহল অনেকাংশেই ফিকে হয়ে গেছে। কারণ সে পর্যন্ত আমার এ বিষয়ে কিছু জ্ঞান হয়েছে বৈকি। তাছাড়া আমার তো বয়স খুব হয়নি, প্রশ্ন হলো তাহলে কেন এটা নিয়ে আগ্রহ ফিকে হলো? আসলে ফিকে হবার অনেক কারণ আছে। আমরা যারা এই সেক্টরের সাথে একটু আধটু সম্পৃক্ত তাদের কাছে এই বিষয়গুলো পরিষ্কার। কিন্তু যারা এই সেক্টরে সাথে কোনভাবে সম্পৃক্ত না তাদের কাছে এগুলো একটু অন্যরকম শোনাবে। আজকে আমি আপনাদের এমন একটি গল্পই শোনাবো। আমার কাছে জাতীয় পর্যায়ে অনেক দু নম্বরীর প্রমাণ আছে তার একটা আজ না বলে পারছি না।

প্রথমটা হলো, আমাদের এখানে সরকার কাদের অনুদানের সিনেমার জন্য পয়সা দেন? কী যোগ্যতা লাগে এই পয়সা পেতে? নাকি যোগ্যতার বালাই নেই?

নিয়মানুসারে ভাল স্ক্রিপ্ট ও ভাল পরিচালকরা ক্রমানুসারে এই টাকা পাবার কথা। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো এই টাকাটা আমাদের এখানে শুধু ভাল স্ক্রিপ্টের জন্য দেওয়া হয় না। সেক্ষেত্রে পরিচালনার কোন অভিজ্ঞতাও লাগেনা । এর জন্য আমি আপনাদের ভূরি ভূরি উদাহরণ দিতে পারবো, যারা কোন ধরণের অভিজ্ঞতা ছাড়াই ফিল্মের জন্য সরকারি অনুদানের টাকা পেয়েছেন। আমার কাছে মনে হয়েছে এসব শুধু সরকারি টাকা নষ্ট করারই একটা প্রক্রিয়া মাত্র। সত্যিকার অর্থেই কি তারা ভাল সিনেমা বানাতে পারেন অথবা যে টাকাগুলো তার পান, সেগুলো কি একটি সিনেমা বানানোর জন্য যথেষ্ট? না তা মোটেও না। তাহলে সরকার এই টাকাগুলো গঙ্গায় ঢালছেন কেন? আর অভিজ্ঞতা ছাড়া টাকাই বা দিচ্ছে কেন? আসলে এই টাকাগুলো কাদের দিচ্ছে সে বিষয়ের উত্তরটাও আমাদের সবার জানা। কালচার্ড দালালদের পোষার জন্যই সরকারের এই ব্যবস্থা করেছে। তাদের ডিরেকশন এর উপর কোন যোগ্যতা লাগে না। তারা যে কোন পেশার হতে পারেন। আচ্ছা তাদেরকে কি আমরা কালচারর্ড দালাল বলবো? না থাক তাদের চ্যাপ্টার এবার বন্ধ করে দেই।

Murad

লিংক: http://timesofindia.indiatimes.com/city/kolkata/Bangla-director-lifted-fathers-story-Mustafa-Sirajs-son/articleshow/48795964.cms?from=mdr

 

দ্বিতীয় কথা হলো, আমাদের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার কাদের দেওয়া হয়? কারা পুরস্কার কমিটিতে বিজয়ী মনোনিত করেন? তাদের পরিচয়ই বা কি?

এই প্রশ্নগুলো আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানেন হয়তো। আসলে এবারে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার ঘোষণার পর থেকে ধান্ধাবাজদের মুখোশ টেনে খুলতে ইচ্ছে করছিল। মুখোশ টেনে খুলতে ইচ্ছে করছে যারা এ বছর বিচারক কমিটিতে ছিলেন তাদেরও ।  কী করে একটি নকল করা গল্পকে নিজের বলে চালিয়ে দেয়া দু’নম্বর ছবিকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য ঘোষনা করা হয়? এ বছর আমাদের জাতীয় পুরস্কারের ক্ষেত্রে এটিই হয়েছে।

পরিচালক ও লেখক মুরাদ পারভেজ যে সিনেমার গল্পের জন্য একাধারে সংলাপ, কাহিনীকার এবং শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র তিনটি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন, সেটি তো তার গল্প না ।গত বছর ভারতের জয়পুর চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃত হবার পর ঘটনাটি আলোচনায় আসে।  বৃহন্নলার মূল লেখক সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের পরিবারের দৃষ্টিগোচর হয় সে বছরই। ভারতের সব নামি পত্রিকাতেও এটি ছাপা হয়। কারণ ‘বৃহন্নলা’ সিনেমার গল্পটি সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের ‘গাছটি বলেছিল’ ছোট গল্প থেকে চুরি করা হয়েছে। সে সময় সৈয়দ মুস্তফা সিরাজের কনিষ্ঠ পুত্র সাংবাদিক অমিতাভ সিরাজ টাইমস অব ইন্ডিয়া তে এটি নিয়ে “Bangla director lifted father’s story: Mustafa Siraj’s son” শিরোনামে একটি আর্টিকেলও প্রকাশিত হয়।

আমি বা আমারা বলছি এভাবে একটি সমাজের সংস্কৃতির বিকাশ হতে পারেনা। আর যার তার হাতে জাতীয় পুরস্কারও যেতে পারে না। পাঠকের সুবিধার জন্য লিংক ও ছবিসহ এটি দেওয়া হলো। আর প্রশ্ন রেখে গেলাম সেই সব জুরিবোর্ডের সেইসব বিচারকদের জন্য যাদের কাছে দু’নম্বর বলে কিছু নেই! ধিক তাদের!