ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

পর্যটকদের ভ্রমনের জন্য আকর্ষনীয় কয়েকটি দেশের মধ্যে মালয়েশিয়া অন্যতম। । মালয়েশিয়া ভ্রমন ইচ্ছুক বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ব্লগে আমার প্রথম লেখা। বছরের যে কোন সময় আপনি এখানে আসতে পারেন। প্রথম ধাপে আপনাকে ভিসার জন্য মালয়েশিয়া হাইকমিশন অনুমোদিত ২৪টির যে কোন একটি ট্রাভেল এজেন্সীতে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। এজেন্সী গুলির নাম ও ঠিকানার জন্য ভিসা এজেন্ট লিংক এ ক্লিক করুন। পাসপোর্ট এর সাথে জমা দিন যথাক্রমে ১। বর্তমান সময়ে তোলা পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি ছবি (ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা), ২। অরিজিনাল পাসপোর্ট ন্যুনতম ৬ মাসের মেয়াদ থাকতে হবে এবং পরপর ৩টি পাতা খালি থাকতে হবে, ৩। রিটার্ন টিকেট (এজেন্সী সহযোগীতা করতে পারে), ৪। হোটেল বুকিং (এজেন্সী সহযোগীতা করতে পারে) ৫। ব্যাংক স্টেটমেন্ট সর্বশেষ ৩ মাসের এবং এর সাথে সলভেন্সী সার্টিফিকেট (একাউন্টে লাখ খানেক বা তার বেশি টাকা থাকলে আপনারই সুবিধা) , ৫। ট্রেড লাইসেন্স ফটোকপি (বাংলায় হলে ইংরেজিতে অনুবাদ করে নোটারী করাতে হবে) এবং অরিজিনাল কপি এজেন্টকে দেখাতে হবে, ৬। চাকুরীরতদের জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়ন পত্র লাগতে পারে, ৭। ভিজিটিং কার্ড, ৮। স্বামী স্ত্রী একসাথে আবেদন করতে চাইলে তাদের জন্য ম্যারিজ সার্টিফিকেট এর কপি (বাংলায় হলে অনুবাদ করে নোটারী করতে হবে) ৯। সন্তানদের জন্য পাসপোর্ট আর ছবি দিলেই চলবে, এবং ১০। ভিসা ফিস ৩৫০০-৪০০০ টাকা (প্রয়োজনে এজেন্টদের সাথে ফিস ফিস করে জেনে নিন)। আশা করি টেনশন ছাড়াই আপনি ভিসা পাবেন ৩-১০ দিনের ভিতর, ভিসা স্ট্যাটাস দেখার জন্য ষ্ট্যাটাস লিংকটিতে ক্লিক করুন, প্রথম ঘরে পাসপোর্ট নাম্বার এবং দ্বিতীয় ঘরে ক্লিক করে ‘বাংলাদেশ’ সিলেক্ট করুন, এরপর carian এ ক্লিক করুন।

 প্রথম ধাপ শেষ চলুন যাই দ্বিতীয় ধাপে : ভিসা হয়ে গেলে টিকেট এর জন্য এদিক-সেদিক ঘুরাঘুরি না করে ইন্টারনেটে একচক্কর ঘুরে আসুন; বিমান বাংলাদেশ http://biman-airlines.com/ এয়ার এশিয়া http://airasia.com/ মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স www.malaysiaairlines.com/ মালিন্ডো এয়ার www.malindoair.com/ রিজেন্ট এয়ার www.flyregent.com/ এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স www.uabdl.com/ কিনে ফেলুন টিকেট অনলাইনে ক্রেডিট কার্ড এর মাধ্যমে। অনলাইন এ টিকেট এর দাম এবং এজেন্সী কর্তৃক নির্ধারিত দাম প্রায়ই সমান। টিকেট হয়ে গেছে? ভেরি গুড, চলুন এবার মালয়েশিয়ায় অবস্থান করার জন্য একটি হোটেল বুকিং দিই (মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন হোটেল এবং ফরেন কারেন্সি দেখতে চাইতে পারে)। হোটেল বুকিং এর জন্য https://www.agoda.com, https://www.expedia.com.my এবং https://www.booking.com  এই সাইটগুলি জনপ্রিয়। হোটেল কনফার্ম? এখন সময় হয়েছে বাক্স-পেটরা গুছানোর। কি কি নিবেন? http://www.wikihow.com এর পরামর্শ অনুসরণ করতে পারেন; (ক) জামাকাপড় ; পাতলা জ্যাকেট, ৩টি ক্যজুয়াল শার্ট, আন্ডারওয়্যার, মোজা, ৩টি প্যান্ট (একটি অবশ্যই ৩ কোয়ার্টার) এবং আরামদায়ক জুতো (কেড্‌স উত্তম) (খ) ঔষুধ; এলার্জির জন্য, আইড্রপ, এ্যসপিরিন, ব্যান্ডেজ-স্যভলন, ঘুমের ঔষুধ (প্রয়োজনে) (গ) খাদ্য; হালকা স্ন্যাক্‌স এবং মিনারেল ওয়াটার (এয়ারপোর্ট/ ভ্রমনকালীন সময়ে এগুলির সক্ষমতা প্রমানিত) (ঘ) ইলেকট্রনিক্স; পাওয়ার কনভার্টার, চার্জার, ক্যামেরা, ফোন (ঙ) টয়লেট্রিজ; ছোট সাইজের বডি লোশন-শ্যাম্পু-বডি ওয়াশ (চ) বই-পত্র; ট্রাভেল গাইড, পকেট ডিকশনারী, ম্যাপ (ছ) অন্যান্য; ছাতা এবং রিংগিত। আপনার গুছানো শেষ চলুন এয়ারপোর্ট এর উদ্দ্যেশে যাত্রা করি।

বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট এ আপনার সর্বসাকুল্যে ১৫-২০ মিনিট খরচ হবে বোর্ডিং এবং ইমিগ্রেশ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সারতে। ফ্লাইটের ঘন্টা খানেক আগে এয়ারপোর্ট এ আসুন। জেনে নিন এয়ারলাইন্সের কাউন্টার নম্বর। সোজা চলে যান কাউন্টারে। এখানে আপনার সময় লাগতে পারে ৫ মিনিট, বোর্ডিং কার্ড নেওয়া হলে বহির্গমন ফরম পূরূন করুন। ফরমটি কাউন্টার থেকে চেয়ে নিন। পাসপোর্ট, বোর্ডিং কার্ড এবং বহির্গমন ফরম নিয়ে চলে আসুন ইমিগ্রেশন পার হওয়ার জন্য। আমার অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি ইমিগ্রেশন অফিসার সময় নিবে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট আপনার কাগজ-পত্র চেক করতে। ইমিগ্রেশন ক্লিয়ার? বাংলাদেশ পর্ব নিরানব্বই ভাগ শেষ এখন অপেক্ষা প্লেন এ চড়ার। আপনি প্লেন এর জন্য অপেক্ষা করছেন আর আপনার জন্য অপেক্ষা করছে মালয়েশিয়া। (পরবর্তী লেখায় মালয়েশিয়ার বিস্তারিত)

slide