ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

ফিনল্যান্ড বললে অনেকেই নাও চিনতে পাড়েন, এটা Scandinavian দেশের অন্তর্ভুক্ত।যেখানে বছরের ৯ মাস শীতকাল আর ৩ মাস ঠান্ডা। ৯ মাস জোরেই থাকে তুষারের নিচে ঢাকা, তবে অত্যন্ত পরিস্কার আর নিয়ম কানূন মানার দিক থেকে দুনিয়ার পয়লা নম্বরের আসন টা দখল করে আছে অনেক বছর যাবত। কম দুর্নীতির দিক থেকেও ছিলো পয়লা নম্বরে বহু বছর, বর্তমানে এর আসন কম দুর্নীতে ৩ এ। এর আরেকটি বড় পরিচয় হচ্ছে এটা নকিয়ার দেশ।

১৯০৭ সাল থেকে শুরু হয়ে প্রতি ৪ বছর অন্তর অন্তর সংসদ নির্বাচন হয়ে আসছে এই দেশটিতে। প্রতি নির্বাচনী বছরের মার্চ মাসের তৃতীয় রবিবার নির্বাচন অনুষ্ঠীত হয়ে থাকে। এবছর থেকে ১ মাস পিছিয়ে অর্থাৎ, এপ্রিল মাসের তৃতীয় রবিবার নির্বাচনের দিন নির্ধারন করা হয়েছে এই যুক্তিতে যে তুষার আর বরফের মধ্যে প্রার্থীদের যেমন ক্যাম্পেইন করতে অসুবিধা হয় তেমনি ভোটারদেরও ভোট কেন্দ্রে যেতে তেমনটা চোখে পড়েনা।তাই এক মাস পিছিয়ে গ্রীস্মের একটা হাওয়া গায়ে লাগিয়ে ভোটারদের ভোট দিতে যাওয়ার জন্যই এই প্রচেষ্টা। এই এক মাসের পিছানো ব্যাপারটা এতদিন যে কেন করেনি বুঝতে পারলামনা, কারন এই এক মাসের পেছানো সম্ভবত অনেক কাজেই লাগবে।যদিও এখনো দিনের তাপমাত্রা ১০ এর নিচে। তারপরও এক মাস আগের তুলনায় এখন প্রচন্ড গরম। মার্চের এই সময়ে তাপমাত্রা ছিল -১৮, সুতরাং সে তুলনায় এখন প্রায় ২৮ ডিঃ সেঃ বেশি।

এখানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় প্রতি ৬ বছর পর পর। যার সাথে সংসদ নির্বাচনের কোন সংযোগ নেই।আগামি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামি বছর অর্থাৎ ২০১২ সালে।এদেশের যেকোন নাগরিক ভোটের দিন সকাল পর্যন্ত যার বয়স ১৮ হয়েছে সেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, তবে এটা বাধ্যতা মুলক নয়।আর একটা কথা, ফিনল্যান্ডের নারীরা ই পৃথিবিতে সর্ব প্রথম ভোটাধিকার লাভ করেছে। এখানে ক্লিক করে দেখতে পারেন, সকাল থেকে অত্যন্ত সুষ্ঠ সুন্দর ভাবে ভোট গ্রহন ছলছে।

আজকে হচ্ছে আনুষ্ঠানিক ভোটের দিন, আনুষ্ঠানিক বললাম এই কারনে যে, এখানে অগ্রিম ভোট প্রদানের ও নিয়ম আছে এবং যারা বিদেশে বসবাস করছে তারাও অগ্রিম ভোট প্রদান করতে পারে। বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় আড়াই গুন বড় আয়তনের দেশটি তে লোক সংখ্যা মাত্র ৫৮ লাক আর এর জন্য সংসদীয় আসন হচ্ছে ২০০ টি। কুয়ালিশন সরকার গঠন ই বরাবরের মত হয়ে থাকে। বড় ৩ টি দলের মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি প্রতিযোগিতা চলে। গতবারের নির্বাচনে সোস্যাল ডেমোক্র্যাট দলের আসন ছিল ৪৫ টি যা তার আগের বারের চেয়ে ৮ টি কম। সেন্ট্রাল পার্টির ছিল ৫১ যা আগের বারের চেয়ে ৪ টি কম। আর কোয়ালিশন পার্টির দখলে ছিলো ৫০ টি আসন যা আগের বারের চেয়ে ১০ টি বেশি।আর বাকি ৬-৭ টি ছোট দল গুলোর মিলে ছিল ৫৪ টি আসন। সাধারনত বেশি আসন পাওয়া দলের প্রধান হন প্রধানমন্ত্রী। সেই হিসেবে, সেন্ট্রাল পার্টির প্রধান মাত্তি ভানহানেন (পুরুষ) ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ছিলেন বললাম এই কারনে যে, তিনি মাস ছয়েক আগে পদত্যাগ করেছেন এবং তার দল থেকেই বর্তমান প্রধান মন্ত্রী হচ্ছেন মাত্র ৪৪ বছর বয়সি এক মহিলা যার নাম মারি কিভিনিয়েমি, যাকে দিনে অন্তত ২-৩ বার ফেইসবুকে দেখা যায় এবং নিয়মিত তার স্ট্যাটাস আপডেট করেন।আমি নিজেও তার ফেইসবুক ফ্রেন্ড এবং মাঝে মধ্যে শর্টকাট চ্যাট আলাপচারিতও হয়।অ প্রাসঙ্গিক কথাটা এখানে বললাম তার কারন হলো এখানকার প্রধানমন্ত্রী ও সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে নন যেমনটা আমাদের দেশে কল্পনাও করা যায়না। যেমন গত পরশু আমার কর্মস্থলে আসলেন ৪ বারের নির্বাচিত এম পি এবং প্রাক্তন শ্রম মন্ত্রী, বর্তমান সোস্যাল ডেমোক্র্যাট পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (মহিলা), সংগে মাত্র ২ জন পুরুষ, একজনের হাতে একটা দেয়াশলাই ভরতি ঝুড়ি, দেয়াশলাইয়ের বাকশে শোভা পাচ্ছে মহিলার হাস্যোজ্বল চেহারা আর তার প্রার্থী নাম্বার এবং ব্যাক্তিগত ওয়েবপেইজ ঠিকানা। আরেক জনের হাতে কিছু লিফলেট।আসলেন কথা বললেন অনেক্ষন, কথা প্রসংগে অনেক কথাই হলো। একটা দেয়াশলাইয়ের বাকশ দিয়ে বললেন দয়া করে আমার ওয়েবপেইজটা দেখবেন। কিন্তু আমার কাছে ভোট চাইলেন না। এই হচ্ছে এদেশের রাজনিতীবিদদের অবস্থা আর তাদের অতি সাধারন জীবন যাপন।

যাইহোক প্রসঙ্গে ফিরে আসি, এখানে কোয়ালিশন সরকার গঠনই হয় বেশির ভাগ সমেয়ে। সংসদ সদস্যের আসন হিসেবে অন্যান্য দল গুলো মন্ত্রীত্ব পায়। আর একটা ব্যাপার, এখানে দলের প্রার্থীতা মনোনয়ন এবং ভোটে জেতার বাপারটা খুবই মজার। এটাকে বলা হয় D’Hondt voting system. এই D’Hondt সিস্টেম নিয়ে আরেকদিন বিস্তারিত লিখব। এই সিস্টেম টা বাংলাদেশে চালু হলে মন্দ হতোনা।

অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই ভোট শেষ হবে। এবারের সম্ভাব্য বিজয়ী দল কোয়ালিশন পার্টি। দেখা যাক ফলাফলে কি হয়।