ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

এমন কেন হয় আমাদের চিন্তা? যা বললে, লিখলে বা শুনলে মানুষের বিবেকের রক্ত কনিকায় তীব্রভাবে আঘাত হানে ।কেন মানুষের মূল চিন্তা বা ধর্মীয় ভাবধারায় আমরা আঘাত করে বসি। মানুষ যখন খেয়ে না খেয়ে জীবন সংগ্রামে যুদ্ধরত, শরীরে ব্যাথার সংগ্রাম, মানুষ সেই ব্যাথায় কাতর, সেখানে আমাদের সাহায্য করার কথা সেটা না করিয়ে আমরা তাদের কলিজার মাঝে জ্ঞানের অনাচার ছুরি- ঘা দিয়ে বসি । খেটে খা্ওয়া মানুষ হৃদয়টাকে নিরাকার প্রভূর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে অবলীলায় সেখানে গিয়ে আমাদের মাতাব্বরী করিবার কী কারণ আছে? তা আমি জানি না ।

প্রভূর কাছে সুখ-দুখ, চা্ওয়া-পা্ওয়া ও দেন দোরবার করলে অন্যের তো সমস্যা হয়না । তাহলে কেন ধর্মকে নিয়ে অযথা অনুভূতিতে কষ্ট দেয়া । আমারা তো প্রতিটি মানুষের সুখ কামনায় একবার তাদের পাশে দাঁড়াই না । তাদের কর্মে কষ্টে যাতনার সময় আমরা তাদেরকে বিনাশ্রমে একটুকু সাহায্য করি না । তবে আবার বিনাশ্রমে তাদের কলিজায় কেন আঘাত আমরা দিয়ে বসি । বাংলা সাহিত্যে প্রতিষ্ঠিত কোন কবি, সাহিত্যিক ও উপন্যাস্যিককে খুঁজে পা্ওয়া যাবে না যে, কোন মানব ধর্মকে অবহেলা করছেন অবমাননা করেছেন । সব পাঠককে যাদুর সংস্পর্শে এনেছেন ও তাদের কুসংস্কার গুলো দুরীভূত করছেন । কই সেই সময়কার শ্রমজিবী মানুষ তো একটিবার কোন প্রশ্ন তুলেনি । বরং নিজেদের কুসংস্কার গুলো যতো তাড়া তাড়ি ঝেড়ে ফেলেছেন ।

 

কবি গুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর নোবেল পুরুস্কার পেলেন সাহিত্যের সব শাখায় প্রাধান্য বিস্তার করে কই একবার তাঁর নামে ধর্মের অবমাননার অভিযোগ একটিবার পৃথিবীর কোন মানুষ কিরেন নি । কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও প্রমুখ মহাজ্ঞানী মহাতাপস গন । অথচ এই মহাজ্ঞানী মহাতাপস গনই তো ঘুনে ধরা সমাজ ব্যবস্থাকে সংস্কার করেছেন । অনাচারকে দুরীভূত করেছেন । পৃথিবীর কোন ধর্মকে একটি বার আঘাত করে নি আঘাত করবার চিন্তা করে নি । কিন্তু সমাজের কুসংস্কারকে ঠিকে ঝিটিয়ে পিটিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন । সমাজকে আধুনিকতার মহান ছাপ এঁকে দিয়েছেন । থাকতে পারে কিছু অসংঙ্গতি তাতে মারাত্মক হয়ে ওঠার কিছু আছে বলে আমার মনে হয় না । এখন সমাজ যা চায় তা হল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি । ভাবুন আর লেখুন । এই সব বিষয়ে । কে আপনার গায়ে একটা ফুলের টোকা দেয় । এবার আপনি কোন সৈনিক হবেন আপনি নিজে বিচার করুন । আমার মনে হয় সব মানুষের হীত হয় সেই সংগ্রামের অস্ত্র হাতে নিয়ে যতো সম্ভব সমাজের প্রতিটি মানুষের মঙ্গল সাধনায় নেমে পরাই ভালো । সমাজের অনাহারী দরিদ্র দু:খি মানুষের কথা যে যেমন ভাবে লিখতে পারেন লেখেন, তাতে কি বাঁধা আসার কথা । মনে হয় একবার না । তাহলে আজকে রাস্তার পাশে যে ছোট ছেলে-মেয়েটি স্কুলে না গিয়ে রাস্তায় পলি কুরাচ্ছে তার পাশে দাঁড়াই । লেখনি দিয়ে, নিজের সেচ্ছা শ্রমে তাদের জীবনটা পাল্টাই । একদিকে আমাদের লেখনির খুধা মেটবে অন্যদিকে আমাদের সমাজ আমাদের পৃথিবীটাই পরিবর্তন হয়ে যাবে । অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসমতা এই দুনিয়ায় সবচেয়ে কাল হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে । এই দুটো প্রতিহত না হলে সমাজ ব্যবস্থার কোন উপকার হবে না । সারা পৃথিবীর দিকে একবার তাকালে আর বুঝতে বেশি সময় লাগার কথা নয় । মানুষ হয়ে মানুষের দু:খের ঝুঁড়িটাকে তাড়াই আর সুখের পরশকে ভাগ বসাই । এর চেয়ে বড় পা্ওনা আর কোন ধরায় মিলবে? মানুষকে চ্যাপ্টা বানায়ে জাদরাইল হ্ওয়ার বাসনা পরিত্যাগ করি । মানুষের কষ্টগুলোকে সলিল সমাধি দেই । প্রতিটি মানুষ যা চায় কিন্তু আমরা তাদেরকে দিতে পাচ্ছি না । বরং জীবন আর রক্তকে সিঁড়ি বানাচ্ছি ।

কী জবাব দিবে বন্ধুরা না ফেরার দেশে গিয়ে । একবার কি আমরা ভাবতে পারি না । বঞ্চনাকে দুরে ঠেলতে ।মানবতাকে কাছে টানতে । ভাগকে পরিত্যাগ করতে । নিজের বিবেককে নেতা বানাতে । যে নেতা মনের মাঝে দহন করে অহরহ। তারেই কথা শুনবার সময় কী হয় নি আমাদের । সেই নেতার অশ্রুবানী আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করে না । আজকালকার ব্লোগারদের বিস্তর অভিযোগ । কেন ? যাচ্ছেতাই বলার জন্য আমাদের জীবন । এটা কী আমাদের কাম্য । আমরা যেখানে থাকি আমরা মানুষের অন্তরেই থাকি। নিজের অল্প সময়টুকু সেরা ভাবে দিতে পারি । এই আশাই তো আমাদের করা উচিত বলে আমি মনে করি । আপরা কী ভাবছেন আমি জানি না তবে আমদের মুষ্টিগুলো এক হলে অসম্ভবকে সম্ভব আর সম্ভবকে হীরক জয় এনে দিবে, তাতে কি সন্দেহ আছে ! তাই আমার বিচার আপনার বিবেকের কাছে ।