কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-১৩

/

পূর্বের লেখা (পর্ব-১২) পর্ব-১৩: দিদির বাড়িতে ভাড়া থাকা ব্যাচেলর ছেলে দুজনের রুমে গেলাম। ওরা কেউ ঘরে নেই। দুপুরের খাবার খেয়ে আবার ওদের কাজে চলে গেছে। বড়দি আমার সামনে এসে বলল, মনে হয় অনেক টাকা সাথে করে এনেছিস? দিদির কথা শুনে আমি বললাম, কেন? দিদি বললেন, যেখানে তিন টাকা খরচের ভয়ে কেউ রিকশায় চড়ে না, সেখানে… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-১০

/

পর্ব-৯-এর শেষাংশ: ক’দিন পর যখন সব জানাশুনা হয়ে যাবে, তখন হয়ত আর দিবে না। বুঝেশুঝেই দিবে। আমি বড়দিদির কথা শুনে মুচকি হেসে দিদির বাড়ির ভেতরে গেলাম। পর্ব-১০ আরম্ভ: আমার পেছনে রবীন্দ্র নগর কলোনির অনেক মানুষ। সবাই বলাবলি করছে, ‘এতো বছর পর দিদির কথা মনে পড়লো?’ কেউ আবার তাদের বাংলাদেশে থাকা বাড়িঘরের কথাও জিজ্ঞেস করছে। কারোর… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-৯

/

রিকশাওয়ালা আমাকে বলছে, ‘ওই যে রবীন্দ্র নগর কলোনি দেখা যাচ্ছে।’ রিকশা চড়ে যাচ্ছি, রবীন্দ্র নগর কলোনির দিকে। রাস্তার দু’পাশে বড়বড় নানারকম পুরানো গাছ। ইটপাটকেলের তৈরি দালানঘর খুব কম। যা দেখা যায়, প্রায় সবই বাঁশ ও কাঠের তৈরি টিনের ঘর। মাঝেমাঝে ভুটানিদের কাঠের টংঘর। টংঘরের নিচে শুকর, ভেড়া, মুরগির খামার। উপরে ভুটানিদের বসবাস। ঘরগুলো দেখতে খুবই… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-৮

/

তখন সন্ধ্যা ঘোর হয়ে রাতের পালা।কানাই বলল, ‘চল ঘুরে আসি।’আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় যাবি?কানাই বলল, ‘ধর্মতলা যাবো জলপাইগুড়ির একটা টিকেটের জন্য।’বুঝলাম আগামীকালই আমি বাঘা যতীন ত্যাগ করছি। আমি তাড়াতাড়ি করে জামাকাপড় পড়ে নিলাম, কানাইতো আগেই রেডি। একটা ওটো চেপে গেলাম, ধর্মতলা উত্তরবঙ্গ বাসস্ট্যান্ডে। কিন্তু টিকেট আর কেনা হলো না। কারণ, তখন রাত হয়েছে বলে টিকেট… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-৭

/

এরপর গেলাম একটা হোটেলে, কিছু জল খাবার করার জন্য। কানাই সারাদিন বাইরে ছিল, ভাত খাওয়া হয় নাই। তাই এই সন্ধ্যায় হোটেলে ঢোকা। কানাই হোটেলে বসে আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘কী খাবি?’ আমি বললাম, রাতের খাবার তো বাসাই খাবো, এখন আর কী খাওয়া যায় ভাবছি! কানাই বলল, ‘ওইসব কিছু ভাবা দরকার নাই, রাতে বাসার খাবার কপালে জোটে… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-৬

/

আসলাম ফুলিয়া স্টেশনে, কানাই বুকিং-এ গিয়ে শিয়ালদার টিকিট নিল দুইটা। ওঠলাম ট্রেনে, রাত ১১টার সময় পৌঁছলাম শিয়ালদা স্টেশনে। এদিন বাসায় যেতে রাত হয়েছিল প্রায় ১ টা। বাড়িওয়ালার ঘর বন্ধ, কানাইর দু’বোন রাতে বাড়িওয়ালাদের ঘরে থাকে। বোনদের সমবয়সী বাড়িওয়ালার একটা মেয়ে আছে, ওর সাথে। আমার পেটের খিদায় জান যায়, এখন খাব কী? ভাগ্যিস পকেটে ফুলিয়ার অর্ধেক… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-৫

/

সেদিন হাওড়া ব্রিজ থেকে আসলাম ধর্মতলা, সেখান থেকে গেলাম টালিগঞ্জ। ছায়াছবি দেখা হবে, মেনকা সিনেমা-হলে। সিনামা দেখবো রাত্রিকালীন শো। শো আরম্ভ হবে রাত ৯ টায়, শেষ হবে রাত ১২টায়। ছায়াছবি ‘বাজিগর’ নায়ক শাহরুখ খান, নায়িকা কাজল অভিনীত। দেখলাম, ভারতের সিনেমা-হলে বসে বড় পর্দায় সিনেমা। আমি আরও দেখেছি, সেখানকার মানুষ খুবই সংস্কৃতি প্রিয়। একবেলা খাবার না… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-৪

/

এ ভাবে কানাইর সাথে ঘোরাফেরা করতে-করতে কেটে গেল আরও কয়েকদিন। আমার চিন্তা আরও ঘনীভূত হতে লাগল, এখন আর কিছুই ভালো লাগছে না। চার-পাঁচদিন পর একদিন সকালবেলা কানাই বলল, ‘চল দুইজনে টাউনে গিয়ে ঘুরে আসি।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোথায় যাবি?’ কানাই বলল, ‘আজ তোকে মেট্রো ট্রেনে চড়াব আর সময় পেলে হাওড়া, তারামণ্ডলও দেখাতে পারি।’ এ তো… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-৩

/

স্টেশনের বাইরে গিয়ে চা-বিস্কুট নিয়ে খাচ্ছি, এমন সময় ট্রেনের হুইসেল শোনা যাচ্ছে। ট্রেনের হুইসেল শুনে আমার বুকের ভেতরে কামড়াকামড়ি শুরু করে দিল। কখন আমি স্টেশনের ভেতরে যাব, সেই চিন্তায় আমার চা-বিস্কুট খাওয়া শেষ। ঝটপট দোকানদারকে চা-বিস্কুটের দাম দিয়ে দৌড়ে চলে আসলাম, স্টেশনের ভেতরে। ভেতরে আসার পর কানাই বলল, “কী খেয়েছিস? এতো ঝটপট চলে এলি যে?”… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-২

/

২৭ চৈত্র ১৩৯৯ বঙ্গাব্দ, ১০ এপ্রিল ১৯৯৩ ইং রোজ রবিবার। ঠিক সকালবেলা বাইর হলাম, বড়দা’র বাসা থেকে। আগেই নাস্তা সেরে জামাকাপড় পড়ে রেডি হয়েছিলাম। জামাকাপড় পড়তেই বড়দাদা জিজ্ঞেস করলেন, “কোথায় যাবি?” আমি বললাম, “দাদা, আমি কানাইদের বাসায় যাচ্ছি। আজই মনে হয় রওয়ানা দিতে পারি, আমার জন্য আশীর্বাদ রাখবি।” বড়দাদা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর বলল,… Read more »