কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-৭

/

এরপর গেলাম একটা হোটেলে, কিছু জল খাবার করার জন্য। কানাই সারাদিন বাইরে ছিল, ভাত খাওয়া হয় নাই। তাই এই সন্ধ্যায় হোটেলে ঢোকা। কানাই হোটেলে বসে আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘কী খাবি?’ আমি বললাম, রাতের খাবার তো বাসাই খাবো, এখন আর কী খাওয়া যায় ভাবছি! কানাই বলল, ‘ওইসব কিছু ভাবা দরকার নাই, রাতে বাসার খাবার কপালে জোটে… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-৬

/

আসলাম ফুলিয়া স্টেশনে, কানাই বুকিং-এ গিয়ে শিয়ালদার টিকিট নিল দুইটা। ওঠলাম ট্রেনে, রাত ১১টার সময় পৌঁছলাম শিয়ালদা স্টেশনে। এদিন বাসায় যেতে রাত হয়েছিল প্রায় ১ টা। বাড়িওয়ালার ঘর বন্ধ, কানাইর দু’বোন রাতে বাড়িওয়ালাদের ঘরে থাকে। বোনদের সমবয়সী বাড়িওয়ালার একটা মেয়ে আছে, ওর সাথে। আমার পেটের খিদায় জান যায়, এখন খাব কী? ভাগ্যিস পকেটে ফুলিয়ার অর্ধেক… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-৫

/

সেদিন হাওড়া ব্রিজ থেকে আসলাম ধর্মতলা, সেখান থেকে গেলাম টালিগঞ্জ। ছায়াছবি দেখা হবে, মেনকা সিনেমা-হলে। সিনামা দেখবো রাত্রিকালীন শো। শো আরম্ভ হবে রাত ৯ টায়, শেষ হবে রাত ১২টায়। ছায়াছবি ‘বাজিগর’ নায়ক শাহরুখ খান, নায়িকা কাজল অভিনীত। দেখলাম, ভারতের সিনেমা-হলে বসে বড় পর্দায় সিনেমা। আমি আরও দেখেছি, সেখানকার মানুষ খুবই সংস্কৃতি প্রিয়। একবেলা খাবার না… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-৪

/

এ ভাবে কানাইর সাথে ঘোরাফেরা করতে-করতে কেটে গেল আরও কয়েকদিন। আমার চিন্তা আরও ঘনীভূত হতে লাগল, এখন আর কিছুই ভালো লাগছে না। চার-পাঁচদিন পর একদিন সকালবেলা কানাই বলল, ‘চল দুইজনে টাউনে গিয়ে ঘুরে আসি।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কোথায় যাবি?’ কানাই বলল, ‘আজ তোকে মেট্রো ট্রেনে চড়াব আর সময় পেলে হাওড়া, তারামণ্ডলও দেখাতে পারি।’ এ তো… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-৩

/

স্টেশনের বাইরে গিয়ে চা-বিস্কুট নিয়ে খাচ্ছি, এমন সময় ট্রেনের হুইসেল শোনা যাচ্ছে। ট্রেনের হুইসেল শুনে আমার বুকের ভেতরে কামড়াকামড়ি শুরু করে দিল। কখন আমি স্টেশনের ভেতরে যাব, সেই চিন্তায় আমার চা-বিস্কুট খাওয়া শেষ। ঝটপট দোকানদারকে চা-বিস্কুটের দাম দিয়ে দৌড়ে চলে আসলাম, স্টেশনের ভেতরে। ভেতরে আসার পর কানাই বলল, “কী খেয়েছিস? এতো ঝটপট চলে এলি যে?”… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-২

/

২৭ চৈত্র ১৩৯৯ বঙ্গাব্দ, ১০ এপ্রিল ১৯৯৩ ইং রোজ রবিবার। ঠিক সকালবেলা বাইর হলাম, বড়দা’র বাসা থেকে। আগেই নাস্তা সেরে জামাকাপড় পড়ে রেডি হয়েছিলাম। জামাকাপড় পড়তেই বড়দাদা জিজ্ঞেস করলেন, “কোথায় যাবি?” আমি বললাম, “দাদা, আমি কানাইদের বাসায় যাচ্ছি। আজই মনে হয় রওয়ানা দিতে পারি, আমার জন্য আশীর্বাদ রাখবি।” বড়দাদা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর বলল,… Read more »

কাজের আশায় ভারত গমন, নিঃস্ব হয়ে দেশে ফেরা! পর্ব-১

/

বিয়ে করার দু’বছর পরই নতুন অতিথির আগমন। আমাদের কোলজুড়ে আসে একটি মেয়ে সন্তান। মায়ের নামের সাথে মিলিয়ে নাম রাখা হলো অনিতা। কিন্তু তখনও অভাব আমার পিছু ছাড়ছে না। তখন আমার বেতন ছিল মাত্র ১৭০০ টাকা। তার উপরে আবার বাসা ভাড়া, খাওয়া খরচ। তবু চলছিল আমার অভাবের সংসার, খেয়ে না খেয়ে। তখন কাজ করি নারায়ণগঞ্জের কোনও… Read more »

কালাপানিয়া ন্যাচার পার্ক ও সাব্রুম শহর ভ্রমণ!

/

একরাত ও একদিনের ভ্রমণ করা হলো ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরা রাজ্যের সাব্রুম শহরে। সাব্রুম শহরে দর্শনীয় স্থান বলতে কাছাকাছি রয়েছে কালাপানিয়া ন্যাচার পার্ক। পার্কটির ব্যবস্থাপনায় রয়েছে সাব্রুম ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি। যারা এই ভ্রমণটির উদ্যোগ নিয়েছিল, তারা হলেন চট্টগ্রামের WE TRAVEL INTERNATIONAL। এর উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন, আকাশ আজিজ, রাহুল ওলো, মোহাম্মদ জোবায়ের সিদ্দিক, কুতুব উদ্দিন। আমরা… Read more »

আমার ভারত ভ্রমণ

/

ভ্রমণটা ছিল সেই ১৪০০ বাংলা। এপ্রিল ১৯৯৩ ইংরেজি সালে৷ আমার বড় দিদির বাড়ি ভারত জলপাইগুড়ি জেলার বীরপাড়া, রবীন্দ্র নগর কলোনীতে৷ আমার বড়দিদির যখন বিয়ে হয় তখন আমার বয়স মাত্র দেড় বছর৷ কথটা আমার মায়ের মুখ থেকে শোনা৷ আমি যখন গিয়েছি তখন আমার বয়স ৩১৷ যাক দিদির বাড়ির কথা না হয় পরে বলবো। প্রথমে যাওয়ার কথটা… Read more »