ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

‘আলো আমার আলো ওগো আলো ভুবন ভরা…’ গানটা বাজতে বাজতে ছুটে আসে একটা স্বপ্নের যান । বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি । আমার কাছে একটা রোমাঞ্চকর অনুভূতি নিয়ে ছুটে আসে । রংবেরঙের বইয়ের মাঝে ভেসে বেড়াই আমি । মনে হয় যেন পৃথিবীর বিখ্যাত মানুষদের মধ্যে অবস্থান করছি আমি । ভয় হয়, এরিস্টেটল যদি আমায় দর্শনের ওপর একটা প্রশ্ন করে বসে ! হয়তো আমি রবীন্দ্রনাথের সাথে আলোচনায় ব্যস্ত থাকব । হয়তো এও হতে পারে টাইম মেশিনে করে আমি পারি দেবো ত্রাতুলের জগতে । এসব আমার প্রিয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে শিখেছি । আজ আমি যে মনের কতক কথা এলোমেলোভাবে খাতায় বন্দি করতে পারছি তাও এই কেন্দ্রের কল্যাণে । যখন আমি স্যার আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের আত্মত্যাগের কথা শুনি তখন আমি যারপরনাই বিস্মিত, হতবাক, উত্তেজিত হই । বইয়ের জগতে প্রবেশ করে আমি সকল সংকীর্ণতা মন থেকে ঝেড়ে ফেলি । আমি নেশায় উন্মত্ত হয়ে কেন্দ্রে ছুটে যাই । এই অধম কেন্দ্র থেকে নিজ মনকে বড় করতে শিখেছে । দুয়েকটা গল্প লিখে হয়তো সাহিত্যকে কিছুটা সমৃদ্ধ করতে পেরেছে । কতো বড় সম্মেলন এই ছোট লাইব্রেরি বাসটিতে । আমি ঘুরে ফিরে বার বার যাই আর হারিয়ে যাই মনীষীদের মাঝে । অনেকের হয়তো অবাক লাগবে এ কথা ভেবে যে একটা বই পড়ে কীভাবে এতো বিখ্যাত লোকদের সাথে কথা বলা যায় । কিন্তু যখন আপনি যখন রবীন্দ্রনাথের একটা লেখা পড়বেন তখন আপনি আপন মনেই বলে উঠবেন, “শ্রী রবীন্দ্রনাথ আমি আপনার সাথে অমুক বিষয়ে একমত নই ।

আমি আমার বিশ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি…” আসলে মহানুভব লোকেরা কখনও মৃত্যুবরণ করেন না । তাঁরা বেঁচে থাকেন স্বীয় রচিত বইয়ের মাঝে । বই পড়ার মাঝে যে কি আনন্দ নিহিত তা বলে বুঝানো মুশকিল । স্যারের বই পড়া আন্দোলন বৃথা যায় নি । অন্যদের সম্বন্ধে মন্তব্য করতে চাইনে কিন্তু আমি নিজের মধ্যে যে পরিবর্তন অনুভব করেছি তা অতুলনীয় । এ লেখা যারা পড়ছেন, তাদের প্রতি আমার আকুল আবেদন বই পড়ার শক্তিকে প্রজ্বলিত করতে একে ছড়িয়ে দিন, (অনেকের কাছে আপাত দৃষ্টিতে হাস্যকর মনে হলেও) আমাদের দেশের দিনমজুররাও যেন বই পড়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় । কাজেই সুহৃদ, আপনাকে বলছি যদি আপনি বিখ্যাত লোকদের সাথে বিচরণ করতে চান, তবে বেশি দূরে যাওয়া লাগবে না, দেখুন আপনার বাড়ির সামনেই হয়তো এসে দাঁড়িয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের জ্ঞান সৌরভমণ্ডিত বাসটা ।