ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

বি পি এল। বাংলাদেশ প্রিমিয়াম লিগ। অনেক ঢাক ঢোল পিটিয়ে শুরু হচ্ছে। শুরু হবার সময় সবাই এর পিছনে আলোচনা-সমালোচনার জন্য এত ব্যস্ত ছিল যে অন্য কোন দিকে খেয়াল করার সময় পায় নাই।

যখন খেলোয়ারদের নিলাম হল – ক্লাবগুলো দেখলো তাদের দলের খেলোয়াররা কত বেশী দামে বিপিএল এ বিকোচ্ছে। টাকার অঙ্কটা দেখে একটু লোভ জাগতে শুরু করল। এই সেইদিনের এই পিচ্চি পোলা এত টাকা কামায় কেমনে? সারা বছর আমার দলে খেলে যে টাকা পায় – এই কয়দিন অন্য দলের হয়ে খেলেই তার চেয়ে অনেক বেশী টাকা পাবে! এরে কেমনে একটু টাইট দেওয়া যায়?

এই চিন্তা থেকেই উদ্ভুত হয় – অরে তো আমি সারা বছরের জন্য রেজিস্ট্রেশন করাইছি। তাই ও আমার কেনা গোলাম। অন্য কোন জায়গায় খেলতে গেলে তাই আমি ওর কাছ থাইকা ট্যাক্স পাইতেই পারি। কেননা আমিই হইলাম ওর সরকার।

কিন্তু এই চিন্তা আসতে আসতে অনেক দেরী হয়ে গেছে। বিপিএল অতি নিকটে। তাই এখন কি করা যায়! সেই থেকে চিন্তা উদ্ভুত হল – তাইলে দেখি এইবার বিসিবি থাইকা কিছু সিস্টেম করা যায় কি না! আরে যাইব না আবার! সেখানে তো সব আমাগোই ভাই বেরাদার। বিসিবি -এর টাকা মানে আমাগো টাকা। আমাগো উন্নয়ন মানেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়ন।

ব্যস – শুরু হয়ে গেল বিসিবি’র সাথে দেন – দরবার। হিসাবটাও সহজ হয়ে গেল – আগের দিন পত্রিকায় নিউজ দেয়া হল – ক্লাবগুলোর সাথে বিসিবি’র আলোচনা – আলোচনা সফল করতে বিসিবি বদ্ধ পরিকর। [সফল করতেই হবে – কেননা ক্লাব আর বিসিবি এর কর্ম কর্তারা মুদ্রার এইপিঠ ওপিঠ]

ফলশ্রুতিতে সুপার লিগের প্রত্যেকটি দল পেয়ে গেল ৩৫ লক্ষ টাকা করে। আর পরবর্তি বছরে খেলোয়ারদের টাকার একটা % এর নিশ্চয়তা।

পরবর্তি বছর কলকাতা নাইট রাইডার্স এ খেলার টাকার ভাগ-ও হয়ত চেয়ে বসবে সাকিবের দল।

এন্ড নোটঃ বিসিবি কি পারতো না এই টাকাগুলি দিয়ে দেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যয় করতে! নাকি তাদের সেই চিন্তাই নেই?

তথ্যসুত্রঃ
ক্লাবগুলোকে টাকা দিয়ে রফা করেছে বিসিবি