ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

দেশের যে অবস্থা তাতে ভাল কিছুই আশা করতে পারি না। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে দেশকে সঠিক পথে নিয়ে আসতে। এর পিছনে কারণ ঘটতে গেলে অনেক কিছুই সামনে আসে। যেমন আওয়ামি লীগ কিছু মানুষদের কাছে বন্দি – যাদের দূর্নীতি + অপমান সহ্য করতে না পারার জন্য সোহেল তাজকে পর্যন্ত সরে যেতে হল, একজন মনে প্রাণে আওয়ামি লীগার হবার পরেও। বিএনপি তারেকের মত চ্যাম্পিয়ন দুর্নীতিবাজের কাছে বন্দি।

এখন দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা দূর্নীতি – কিন্তু যে রাজনৈতিক সরকারের কাছে এর সমাধান প্রয়োজন – সেই দলগুলোই আকণ্ঠ ডুবে আছে দুর্নীতি – সর্ষের মাঝেই ভুত থাকলে ভুত সরাবেন কেমন করে?

আমি বিশ্বাস করি [করতে চাই] হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে দেশের মঙ্গল চান – কিন্তু কেমন করে সেটা সম্ভব – যদি তার আশেপাশের সবাই তাকে পুতুল বানিয়ে রাখে!

সরকার অনেক বড় বড় প্রজেক্ট করছে, যার অনেকগুলোরই বাস্তবের চেয়ে কাগজপত্রে বেশী অগ্রগতি দেখিয়ে ফান্ড থেকে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অনেক প্রজেক্ট তো কাগজ পত্রেই শুরু হয়ে সেখানেই শেষ হয়ে গিয়েছে – প্রজেক্টের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে খাওয়া শেষ – বাস্তবে কিছুই হয়নি। এই প্রজেক্টগুলোর চাপে সরকার ব্যাংক থেকে ইচ্ছে মত লোন করে করে দেশের ব্যাংকগুলির তারল্য [লিকুইড মানি] টেনে নিচে নামিয়ে এনেছে। এটা নিয়ে তাদের কোন চিন্তাভাবনা নেই, কেননা তাদের নিজেদেরকে কখনোই এই ঋণ শোধ করতে হবে না। বড় বড় প্রজেক্ট করতে গিয়ে দেশকে যে আর্থিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে – তার ভার সহ্য করতে না পেরে সরকার গভর্মেন্ট সার্ভিস এবং প্রোডাক্টগুলির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আগের সব সরকার পেট্রলের দাম কমাতে ভর্তুকি দিত। কেননা পেট্রলের দাম বাড়লে এর প্রভাব দেশের প্রায় সব পণ্যদ্রব্যের উপরে পরে, কারণ পণ্যদ্রব্যের পরিবহণ খরচ একটা ফ্যাক্টর এই ক্ষেত্রে। এই সরকার আসার পরে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রলের দাম বেড়ে যায় – তখন পেট্রলের দাম বাড়িয়ে দিল – কিন্তু যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম পরে গেল – তখন আর দাম কমাল না। বরং বলতে লাগল – বিগত বছরগুলিতে এই খাতে যে লস হয়েছে – সেটা পোষাতে দাম কমান হচ্ছে না। … পরবর্তীতে যেটা কমিয়েছে তা যৎসামান্য, শুধু জনগণকে একটু শান্তনা দেবার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু না সেটা। আজিব এই সরকার – জনগণের সাথে ব্যবসা করতে নেমেছে। ডিজেলে ভর্তুকি দিচ্ছে কৃষকদের কথা বলে – এটা ঠিক আছে – কিন্তু পেট্রলের দাম যে সরাসরি পণ্যদ্রব্যের সাথে সম্পর্কিত এই সাধারণ হিসাবটা কি সরকার জানে না? অবশ্য তাদের পকেট যে হারে ফুলে ফেপে উঠছে – তাতে এই পণ্যদ্রব্যের উর্ধ্বগতির তাপ তারা টের পান না। তাই এখন আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়েও বেশী দামে আমাদের পেট্রল কিনতে হয় – যাতে সরকার এই খাত থেকে লাভ করতে পারে! আর এর প্রভাব টের পাই আমরা যারা সাধারণ মানুষ।

সরকার নতুন নতুন ট্যাক্সের আইটেম খুজে বেড়াচ্ছে। ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের উপরেও ট্যাক্স বসানোর আইন হয়েছে, ১০% টাক্স – যেটা খুব সম্ভবত সামনের বছর (২০১৩) থেকে কার্যকর করার হবে বলে শুনলাম।

যারা ওডেস্ক বা ইল্যান্সে ফ্রিল্যান্সিং করে, তাদের ওডেস্কে [১০%] এবং ইল্যান্সে [৬-৮%] ফি দিতে হয়। অন্যান্য সাইটগুলোতেও ফি আছে, তবে সঠিক রেটটা জানি না বলে সেগুলি উল্লেখ করলাম না।

এখন নতুন আইন বাস্তবায়ন হবার পরে ফ্রীল্যান্সাররা যারা ওডেস্কে কাজ করেন – তারা ১০+১০ = ২০% চার্জ ধরে রাখবেন। বাংলাদেশের আলো বাতাস খেয়ে মনের সুখে ফ্রিল্যান্সিং করবেন – চাকরি নামক রশি গলায় বাঁধবেন না, আর সরকারকে ট্যাক্স দিবেন না – সেটা কেমন করে সরকার সহ্য করবে বলুন? সুতরাং টাকা ব্যাংকে ঢুকা মাত্র আপনাকে কোন চিন্তার সুযোগ না দিয়েই ব্যাংকওয়ালারাই ১০% ট্যাক্স বাবদ কেটে রাখবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই রকমই সিস্টেম করা হয়েছে।

দেশের আয় বাড়াতে টাক্স দিতে আমাদের সমস্যা নেই, কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হল দেশের সমৃদ্ধির ঝুড়িতে যে সব সুমিষ্ট ফল জমা হচ্ছে – সেগুলি দুর্নীতি নামক পোকাগুলি পঁচিয়ে ছাড়ছে। ফলে সুমিষ্ট ফলগুলি সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোটি মানুষের পক্ষ থেকে আমার একটাই আবেদন – নতুন নতুন ট্যাক্সের ক্ষেত্র খুঁজে আয় বাড়ানোর আপনার পরিকল্পনা দেশের কোন কাজে আসবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি দেশের ঝুড়ি থেকে দুর্নীতির পোকাকে সরিয়ে না দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষ আজ চরমভাবে হতাশ। যদি সত্যিকারেই দেশের মঙ্গল চান – সবার আগে দুর্নীতিকে কিভাবে বাংলাদেশের সর্বত্র থেকে ছুড়ে ফেলা যায় – এই পরিকল্পনা করুন এবং সেটা বাস্তবায়ন করুন।

দুর্নীতির পোকাই দেশটাকে পঁচিয়ে ফেলছে। দেশ থেকে এই পোকা সরিয়ে ফেলতে পারলেই দেখবেন দেশ অতি দ্রুত সুস্থ সবল হয়ে উঠছে। তাই সবার আগে এই বিষয়টাকে প্রাধান্য দিয়ে এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন।

***
ফিচার ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত [, ]