ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

Fridom fighter

অবাক না হয়ে পারলাম না যখন শুনলাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা পরিবর্তন হচ্ছে। খুব আগ্রহ সহকারে পড়লাম পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ। হতাশ হলাম মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা ভেবে। বুঝতে পারছি না কীভাবে আমার মতামতটা প্রকাশ করবো। আমাকে তো পাত্তাই দেবে না সমাজ কিংবা সামাজিক মানুষ। কারণ হতে পারে আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিংবা ইতিহাসের ছাত্র ছিলাম না। তবুও আমার অধিকার আছে বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে সুষ্ঠ মতামত প্রয়োগ করার। আমার মতে, যারা সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন তাঁরাই মুক্তিযোদ্ধা। এর বাইরে আর কোন সংজ্ঞা থাকা উচিত নয়। তবে কথা থাকে এছাড়াও যাঁরা অবদান রেখেছেন?

তাদের কথায় আসছি। যেমন ধরুন একজন ডাক্তার বা নার্স, যে কিনা দায়িত্ববোধ থেকেই / চাকরি করার সুবাদে আহতদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন। একজন শিল্পি যে কিনা মুক্তিযোদ্ধাদের তথা বাঙালিদের উৎসাহ দেবার নিমিত্ত গান করেছেন / লিখেছেন। যাঁরা মুজিব নগর সরকারের কর্মকর্তা কর্মচারী ছিলেন তাঁদের বিশেষ অবদান রয়েছে। এছাড়াও বীরাঙ্গনাদের কথা উল্লেখ করার মতো।

আমার মতে এদেরকে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করলেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করার প্রয়োজন আছে কিনা তা আমার মতো ক্ষুদ্র জ্ঞানের মানুষের বোধগম্য নয়। এতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক তথ্য আসবে কিনা তা সন্দেহ থেকে যাবে। তারপরও সবচেয়ে বড় বিষয় আমি মনে করি যদি এঁদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় তবে বয়সের বাঁধা কেন?

বয়স যদি নির্ধারিত হয়, তবে যাঁরা পূর্বে তালিভুক্ত হয়েছেন তাঁদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে? এছাড়াও যাঁরা ১২ – ১৪ বছর বয়সে বীরাঙ্গনা হয়েছেন তাঁদের ব্যাপারে কোন মতামত ব্যক্ত করা যাবে কী? যে পিতার সামনে থেকে তাঁর সন্তানকে তুলে নিয়ে গেছে এবং পিতাকে হত্যা করেছে সেই পিতার কি কোন অবদান নেই? বিষয়টি নিয়ে আমাদের সকলেরই একটু ভাবা দরকার।

আমরা যেন ভূঞা মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভূক্ত না করি। এবং সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে তাঁদের সন্তানরা যেন বিশেষ সুবিধা পেয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ না করে। চাকরি / বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ কোটায় ভর্তি হয়ে জাতিকে মেধাশূন্য বা ভঙ্গুর মেরুদন্ডি না করে।