ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

ইসলাম শান্তির ধর্ম। সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর সময়ে অহিংস নীতি ছিল বিরাজমান। অর্থাৎ তিনি সব সময় ক্ষমায় উজ্জ্বল ছিলেন। ক্ষমা মহত্বের লক্ষণ। তিনি ক্ষমা করাকে বিশ্বাস করতেন। অথচ আমরা তাঁর বান্দারা হিংসায় বিশ্বাসী। আমাদের পরতে পরতে হিংসা প্রবাহিত। আমরা একে অন্যকে হিংসা করি। একজন অন্যজনকে দেখতে পারি না। আরেকজনের কথাকে মূল্য দিই না। বিশেষ করে এই নীতি আমাদের দেশের ধর্মপ্রচারকদের কাছেই বেশি। মতভেদ ছাড়া আমাদের সাধারণ মানুষকে তারা আর কিছুই দিতে পারেনি। কিন্তু ইসলাম এত মতভেদে বিশ্বাসী না। ইসলাম সংঘাতময় নয়। অবশ্যই ইসলাম জীবনধর্মী। ইসলাম কখনোই জীবনের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। এটি আমাদের দেশের হুজুররা কখনোই মানতে চান না।

একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি। তখন আমাদের হুজুর স্যার জিজ্ঞাসা করেছিলেন জুমআর নামাজ কয় রাকায়াত?

আমি উত্তরে বলেছিলাম ২২ রাকায়াত।

আমি অবশ্য এই বিশ্লেষণও করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে বললেন যে কখনো মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে না এমন কাউকে প্রথমে বলবে আপনি আপাতত দুই রাকায়াত আদায় করবেন। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে তাকে সুন্নাত এবং অন্যন্য নামাজের কথা বলবে। প্রথমেই ভয় দেখালে সে আর নামাজের কাছেই যাবে না।

বিষয়টি উপলব্ধিমূলক। ভালোভাবে উপলব্ধি করবেন আশা করি।

আমরা সকলেই জানি ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। যে ব্যক্তি সৌদি আরবে অবস্থান করবে তার জন্য ১৭ তারিখ ঈদ। আর বাংলাদেশে ১৮ তারিখ ঈদ স্বাভাবিক ভাবে।

কিন্তু যারা আজকে অর্থাৎ ১৭ তারিখ সৌদির সাথে মিল রেখে বাংলাদেশে ঈদ উদযাপন করছে তাদের একটি ফরজ পালন হচ্ছে না।

অথবা তাদের মতে যদি আজকে ঈদ হয় , তবে আমাদের রোজা রাখা হারাম হবার কথা কিন্তু আমরা রোজা রাখছি। সুতরাং ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম নয়।

বিষয়টি দ্বান্দিক! ভীষণ দ্বান্দিক।

আমরা সাধারণ মানুষ ইসলামের ছত্র ছায়ায় অবস্থান নিবো কি অনুসরণ করে? একই দেশে পাশাপাশি গ্রামে এক জায়গায় রোজা, অন্য জায়গায় ঈদ! এটা কি করে সম্ভব? এই বিষয়ে কোন আলেমকে দেখি না কেন অগ্রসর হতে? কেন তারা পরস্পরের মধ্যে আলোচনা করে এক জায়গাতে পৌঁছতে পারে না? নাকি দুটিতেই বাণিজ্য রয়েছে? আমরা তো জানি ইসলামের কোন প্রশ্নের সমাধান প্রথমে কোরআন, পরে হাদিস, ইজমা ,কিয়াস খোঁজ। সেখানে যদি না পাও তবে ওলামা কেরামদের মাধ্যমে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নাও। তাহলে এই বিষয়ে কেন আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একই ধর্মের মধ্যে এমন অবস্থা যারা সৃষ্টি করেছে তাদের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়া উচিত। এমন কি রাষ্ট্রের সোচ্চার হওয়া উচিত। জনসম্মূখে এটা নিয়ে ডিবেট করার মাধ্যমে এক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

ধর্ম কখনো মানুষকে বিভেদ করে না। বরং আমরা যারা স্বল্প শিক্ষিত মানুষ ধর্মের নামে বাণিজ্য করে খাই, তারাই কেবল ধর্মকে বিভেদ করে। আমাদের দেশের ট্রেডিশন দেখে এটি বলতে পারি, বাবা মায়ের  যে সন্তানটা লেখাপড়ায় মনোযোগি নয়, কম মেধা সম্পন্ন তাকেই মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠানো হয়। তবে ভবিষ্যতে আলেম হলে এমন পরিস্থিতি বদলাবে না কখনো, কোনদিনই।

ওদের মতে, যদি আজ ঈদ হয় ——

তবে,   ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম নয়!  —

প্রশ্ন রেখে গেলাম জাতীয় ধর্ম রক্ষা কমিটির কাছে – কেন এই বৈষম্য?