ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

philosophycal image

 

দর্শনের জন্য দার্শনিক হওয়ার প্রয়োজন বৃথা। প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই চেতনায় বা অবচেতনে দর্শন বিদ্যমান। অনেকেই মনে করেন দর্শন অনেক জ্ঞানী মানুষের জন্য। কিন্তু না। এই ভুল ধারণা মানুষের মধ্য থেকে বের করে আনাই আমার আজকের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।

প্রথমেই জানতে হবে দর্শন কি?

আমি মনিষীদের ভাষায় যাচ্ছি না। সাধারণ মানুষের মতো বলতে চাই দর্শন হচ্ছে আত্মচিন্তা। অর্থাৎ আপনি নিজেকে নিয়ে যে চিন্তা করেন তাই আপনার দর্শন। সেটি অন্যের পছন্দ হতেও পারে, নাও পারে। অন্যের সাথে মিলতেও পারে, না মিলতেও পারে। আসলে প্রত্যেকটি মানুষের দর্শন ইউনিক। সবাই নিজের মতো ভাবতেই বেশি পছন্দ করে।

এ প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ না দিলেই নয়; একবার এক বাবা তার ছেলেকে ছেলের গার্ল ফ্রেন্ড সম্পর্কে বলছে – ‍‌‌”তুই ঐ মেয়ের কি দেখে পছন্দ করেছিস? তার নাই কোনো রূপ, নাই কোনো গুণ”

ছেলের উত্তর: বাবা, তুমি যদি আমার চোখ দিয়ে দেখতে, তাহলে বুঝতে ওর মধ্যে কি আছে।

এ থেকেই আমরা বুঝতে পারি একেক জনের দর্শন একেক রকম।

আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মাসুদুজ্জামান মাসুদ স্যারকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারছি না। কারণ উনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর – এ আমাকে দর্শনের কোর্সটি করিয়েছিলেন। উনি আমাকে শিখিয়েছেন দর্শনের সাথে বসবাস করতে। দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গীতে জীবন পরিচালিত করতে।

যাই হোক, এবার দর্শনের জনকদের উল্লেখযোগ্য দার্শনিক দ্বন্দ্ব উল্লেখ করছি:

ভাববাদ: সক্রেটিস, প্লেটো – এরা ঈশ্বরবাদকে বিশ্বাস করতেন। এদের মূল কথা ছিল চিন্তার মাধ্যমে সত্যের অনুসন্ধান করো।

বাস্তববাদ: এরিস্টটল, বেকন, জন লুক – এরা বাস্তব জগৎ কে নিয়ে যুক্তির মাধ্যমে ধারণা করতে বলেছেন।

প্রকৃতিবাদ: এরনেস্ট নাইজেল, সিডনি হুক – এরা অতিলৌকিক বা পারলৌকিক বিশ্বাস করতেন না। এদের মতে মানুষ প্রকৃতি থেকে এসেছে, প্রকৃতিতেই ফিরে যাবে।

প্রয়োগবাদ: জন ডিউই, অগাস্ট কোঁতে, চালর্স ডারউইন – এদের চিন্তা ভাবনা অতি বাস্তবাদী। এদের মূল কথা যদি কাজ করে কোন জিনিস তাহলে ব্যবহার কর। অর্থাৎ ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়।

এই দার্শনিক দ্বন্দ্বকে আমরা একটি উদাহরণের মাধ্যমে বুঝাতে পারি।

যেমন:   philosopy

 

একটি চেয়ারকে যদি আমরা চিন্তার মধ্যে রাখি; বাস্তবে না থাকলেই যেটি ভাববাদ।

বাস্তববাদীদের মতে, চেয়ারের ধারনা মনে থাকলে হবে না, বাস্তবে চেয়ার থাকতে হবে।

অন্যদিকে প্রয়োগবাদীদের মতে, চেয়ার বাস্তবে থাকলেই হবে না; তা ব্যবহার উপযোগি কি না তা দেখতে হবে।

মূলত এটিই দার্শনিক দ্বন্দ্ব।

আমার ক্ষেত্রে কাজটাকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকি। যেখানে কাজ হবে না তা নিষ্প্রয়োজন।

দর্শন নিজস্ব ব্যাপার। সেখানে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার বা মানবিক ব্যাপার বিবেচনা করার কোন সুযোগ নেই। নিজের অস্তিত্ব টিকে থাকলেই কেবল মানবিক বিকাশ প্রস্ফুটিত হবে। সকলের মধ্যে মানবিক চেতনা গড়ে উঠুক।

পরিশেষে –

দার্শনিক দ্বন্দ্ব আজকের নয়। এটি আগেও ছিল। এখনো আছে। থাকবেই চিরকাল।

আর আমি জড়িত থাকবো দার্শনিক দ্বন্দ্বে; কখনো নিজের সাথে, কখনো অন্যের সাথে।