ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

আর্থিক সঙ্গতি ভেদে বাঙালির নানা রকমফের আছে। আছে অনুভূতিরও রকমফের। এই রকমফেরের মধ্যে কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সকল বাঙালির; কিংবা বলা ভাল, এখনো আছেন। একই সাথে বহুমাত্রিক তো বটেই। সবচেয়ে বড় দিক সম্ভবত সকলের হতে পারাটা। শ্যামা সঙ্গীত যেমন আছে তেমনি হামদ-নাতও আছে। ঠিক সাধারণ আপামর বাঙালির মতই। আবার কারো মন রক্ষার জন্য সচেষ্ট থেকেছেন এমনও না। তার মনে যখন যা খেয়াল এসেছে তাই সৃষ্টি করে গেছেন। তৎকালের উপর বীতশ্রদ্ধও ছিলেন হয়ত। ক্ষেপে গিয়ে অনেক কিছুই লিখেছেন, বলেছেন।

বাঙালি মুসলমানের মানস নিয়ে সম্ভবত বিরক্ত ছিলেন। সমালোচনা করতে ছাড়েননি। সাচ্চা মুসলমান নন এমন কটুক্তি কতই না শুনতে হয়েছে জাতীয় কবিকে। অথচ আজ আমাদের ‘রমজানের ওই রোজার শেষে’ না গাইলে ঈদের আনন্দই যেন পূর্ণ হয় না।

কবির লেখালেখি এবং ব্যক্তিজীবন আমার কাছে সাচ্চা বাঙালির মনে হয়। চিন্তায় বৈচিত্র্যের অভাব নেই, আবার কখনো কখনো দোটানা। বয়সের সাথে চিন্তার পরিণতি সময় ভেদে কবির লেখালেখিতে স্পষ্ট ছাপ রেখেছে। যেমনটা আমাদের বাপ-চাচাদেরও দেখি প্রথম যৌবনে বস্তুবাদী অসফল বিপ্লব করে শেষ যৌবনে অবস্তুতে আশ্রয় নিতে। আর ছিলেন তো খেটে খাওয়া বাঙালির মত হাভাতে, অভাবী। ঠিক যেমনটা আপামর বাঙালি তখন ছিলেন বা এখনো আছেন। বার্ধক্যে পাওয়া কিছুটা স্বচ্ছলতা কবির কষ্ট লাঘব করেছে বলে মনে হয় না। এই সব অভাব ও প্রতিকূলতাই কবিকে গণমানুষের হয়ে উঠতে খোড়াক জুগিয়েছে নিঃসন্দেহে। কবি গণমানুষের হতে পেরেছেন।

জাতীয় কবির জীবন তাই আপামর বাঙালির সাথেই বেশি মেলে। চিন্তায়, চলনে-বলনে আর সক্ষমতায়। অথবা বলা যেতে পারে আপামর বাঙালির মানসের শ্রেষ্ঠ প্রতিচ্ছবি আমাদের জাতীয় কবি। জন্মদিনে কবির প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।