ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

আমরা তো অনেক কিছু নিয়েই পাগলামি করি, বাড়াবাড়ি করি। আর ফুটবল হলে তো কথাই নেই। পায়ের বল আর পায়ে থাকেনা, মাথায় ভর করে। ফুটবল কেবলই খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, রাজনীতি-অর্থনীতিতে থাকে এর বিস্তৃতি। তেমনি ফুটবল দল সমর্থনেও থাকে রাজনীতির ছোঁয়া।

পায়ে পায়ে খেলার ফুটবল বিশ্বকাপ দোরগোড়ায়। সেদিন পত্রিকায় পড়লাম, আমাদের দেশে আর্জেন্টিনার সমর্থক এখনো বেশি। এই ‘এখনো বেশি’ শব্দটার অর্থ বোঝার চেষ্টা করলাম। যা বুঝলাম, আগে এক সময় সমর্থক বেশি ছিলো, এখন থাকার কথা না, তবুও আছে- এরকম কিছু একটা বোঝাতে চেয়েছে। ‘এখনো বেশি’ শব্দদ্বয়ের অন্য কোন মানে আর খুঁজে পেলাম না। কিংবা আমার ভুলও হতে পারে, অন্য কোন অর্থও থাকতে পারে।

 

ডান বাহুতে চে’র উল্কি দেখাচ্ছেন দিয়াগো [ছবি: http://www.celebritytattoodesign.com]

আর্জেন্টিনা এখনো এদেশের মানুষের কাছে বড় প্রপঞ্চ। আর্জেন্টিনা এক বিরাট আবেগ আর ভালোবাসার নাম। দিয়াগো সেই ভালোবাসার পিন পয়েন্ট। দিয়াগোর কারণে আর্জেন্টিনাকে ভালবাসার আরো বহু কারণ আছে এদেশের মানুষের কাছে। দিয়াগোর ডান বাহুতে কমিউনিস্ট বিপ্লবী আর্নেস্তো চে গুয়েভারার উল্কি আঁকা। দিয়াগোর জীবনে কিউবা, কিউবান বিপ্লব, ফিদেল ক্যাস্ত্রো, চে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। মাদক নিরাময়ের চিকিৎসা দিয়াগো কিউবাতেই নিয়েছেন।

দিয়াগোর সুবর্ণ সময়ে এদেশের বামপন্থীদের অবস্থান তুলনামুলক শক্তিশালী ছিল বলেই ধারণা করি। সে সময়ে ছাত্র জীবনে বামপন্থী ঘরানার রাজনীতির সাথে প্রায় সবাই জড়িত হত। সাদামাটা পাঞ্জাবি আর চটি পড়া লোকজন নীতিবাগীশতার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ফুটবল এলে দিয়াগোকেও ফেরি করত।

পক্ষান্তরে পেলে ও  ব্রাজিল নিয়ে ভাবনা ছিল একটু তফাতের। তুলনামুলক স্বচ্ছল ও কথিত ভদ্রদের সমর্থন ছিল এখানে। অভিযোগ ছিল, পেলে ও ব্রাজিল মাঠে যতটা না খেলতো তারচেয়ে অনেক বেশি নাকি তাদের জন্য ফিফা খেলে দিত মাঠের বাইরে। ফিফা পেলেকে বহুবার বহুভাবে পুরস্কৃত করেছে। দিয়াগো যেটা কখনই ফিফার কাছে পায়নি।

 

ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার পেলে

পেলে-দিয়াগো এবং ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ এমনটাই জানতাম শৈশবে। দিয়াগো তাই আমজনতার কারো কারো কাছে প্রলেতারিয়েত আর পেলে ছিলেন কথিত ভদ্রলোক বুর্জোয়াদের।

দিয়াগোর হাত ধরে মেসির আর্জেন্টিনার প্রতি এদেশের মানুষের সমর্থন ‘এখনো বেশি’ হওয়ার কারণ উপরের বয়ান হবারই সম্ভাবনা বেশি। পেলে-নেইমার-রোনালদো-রিভালদোর ব্রাজিল তাই এদেশে ততটা সুবিধে করতে পারেনি। এত বছর ট্রফি অধরা তো বটেই, তেমন উল্লেখযোগ্য কোন পার্ফরমেন্স না থাকলেও আর্জেন্টিনাপ্রীতি এদেশে এক বিন্দুও কমেনি। বরং মনে হচ্ছে বংশ পরম্পরায় তা সংক্রমিত হচ্ছে।

উপরের বয়ান যথার্থ হলে খেলার সাথে রাজনীতি বা রাজনীতির সাথে খেলা যারা মেলাতে চান না তারা কী বলবেন সেটা তারাই ভাল জানেন। কিন্তু উপরের বয়ান যে একেবারেই অমূলক সেটাও কিন্তু বলা যাবে না।

বয়ান যেটাই হোক। এত বড় ইভেন্ট বিশ্ব অর্থনীতিতে দারুণ রকম গতি আনবে সন্দেহ নেই। গতির ঝড় আছড়ে পড়ুক এদেশেও। ট্রফি যার ঘরেই যাক, জয় হোক ফুটবলের।