ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

২০০৫ কি ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসের ছুটির দিনে একটি পত্রিকার নববর্ষ কেন্দ্রিক বিশেষ সংখ্যায় অন্যদের সাথে দেখা পাই কামরুজ্জামান কামুর।

সেই সময় দলছুটের অধিকাংশ গান কামুর লেখা বলে জানতাম আমরা। “তোমার বাড়ির রঙের মেলায় দেখেছিলাম বায়োস্কোপ” তো মুখে মুখে ছিলো সবার। প্রচুর জিঙ্গেল করতেন, ভোরের কাগজে প্রথমদিকে রংপুরে, পরে ঢাকায় সাংবাদিকতা করতেন বলে জানা যায়। সম্ভবত দুটি বিজ্ঞাপনে অভিনয়ও করেছেন। ভুল না করলে তার মধ্যে একটা ক্রাউন সিমেন্টের বিজ্ঞাপন ছিলো।

যদিও এসব মূল পরিচয় নয় তার। ‘কবি কামরুজ্জামান কামু’ বলাটাই বোধকরি সঠিক ও যথার্থ তার জন্য।

মারজুক রাসেল, কামরুজ্জামান কামু, ফারুকী, অমিতাভ রেজা, গিয়াস উদ্দিন সেলিম, অনিমেষ আইচরা সেই সময়ের মানুষ। আজিজ কেন্দ্রিক সেই সময়ের এই মানুষেরা আমাদের দেখার ধরন পাল্টাতে নিঃন্দেহে বড় ভূমিকা রেখেছেন।

‘দি ডিরেক্টর’ সেই সময়েরই চিন্তা; সেই সময়েরই ফসল। এরমধ্যে চলে গেছে এক যুগ; বিশাল একটা সময়। এরমধ্যে মানুষ পাল্টেছে। চিন্তা পাল্টেছে। রুচি পাল্টেছে।

দি ডিরেক্টর এই অসময়ে না এসে, সেই  সময়ে দেখতে পেলে দর্শকের প্রতিক্রিয়া কী হত?  সেই সময়ের ক্রেইজ, ইস্কাটনের সাপ্তাহিক ২০০০ এর গলিতে গিটার হাতে গান করতে দেখা, খিস্তিতে  অভ্যস্ত জিন্সের প্যান্ট নেমে যাওয়া মারজুকদের পর্দায় সেই সময়েই নাচতে-কুদতে দেখলে আমরা কেমন উত্তেজনা বোধ করতাম? ব্যাচেলর, মেইড ইন বাংলাদেশের পর সমানভাবে দি ডিরেক্টর উচ্চারিত হতে পারতো হয়ত। সময়ের খেলা এমনই।

গত বারো বছরে আমরা অনেক পেয়েছি। ওপারে পেয়েছি সৃজিত, কৌশিক, অরিন্দমদের। এপারে ফারুকী ও তার ভাই ব্রাদাররা পরিণত হয়েছে আরো। আয়নাবাজি আর ঢাকা এ্যাটাক দেখে ফেলেছি আমরা। এদের এসব কাজ দেখার পর বারো বছর আগের প্রতিবেশে বানানো দি ডিরেক্টর দর্শক কীভাবে নেবে?

অশ্লীলতা আর গল্পহীনতার অভিযোগে সেন্সরে বহু বছর আটকে ছিল দি ডিরেক্টর। মুক্তির জন্য আন্দোলন হয়েছে। পরে মুক্তির সনদ পেলেও দর্শকের রুচির পরিবর্তন হওয়াতেই বোধহয় পরিবেশক মেলেনি। অনেকটা টিভি নাটকের ধাঁচে বানানো চলচ্চিত্র এখন এদেশের মানুষ আর খায় না৷ বানানোও হয় না তাই। ফারুকীর মেইড ইন বাংলাদেশ, ব্যাচেলর সেরকমই ছিলো। সময় পাল্টাবার বড় উদাহরণ ফারুকীর ডুব, অমিতাভের আয়নাবাজি, দীপনের ঢাকা অ্যাটাক, অনিমেষের ভয়ংকর সুন্দর।

দি ডিরেক্টর সিমেনার যথা সময়ে মুক্ত হতে না পারাটা নির্মাতাকে নিদারুণ কষ্ট দিয়েছে। নিজের সৃষ্টি এক যুগ আটকে থাকাটা কোন নির্মাতারই বা ভাল লাগে?

দি ডিরেক্টরের বড় আশংকা এখন উপযোগিতা হারানো।শেষ পর্যন্ত  সিনেমাটি উপযোগিতা হারিয়েছে কি না বা নতুন উপযোগিতা তৈরি করছে কি না তা দর্শকই বিচার করুক।

স্বল্প বাজেটে মেকিং যেমন হবার কথা তেমনই হয়েছে। কিন্তু আরো গুছিয়ে গল্পটা বলা যেত। আরেকটু আন্তরিক হলেই সেটা হত। বারো বছর পর এই সময়ে বানানো হলে, আমি নিশ্চিত নির্মাতা আরো যত্নশীল হতেন। একই গল্প, স্বল্প বাজেটেই আরো গুছিয়ে সাধারণের আরো বোধগম্য করে পরিবেশন করা যেতে পারতো, এমনটাই মনে হয়েছে।

দি ডিরেক্টরের টিকেট বিক্রিটা হচ্ছে একেবারে নতুন ও অচেনা উপায়ে। ছবি দেখার পর ভাল লাগলে, মন চাইলে অনলাইনেই যত দামে ইচ্ছে টিকেট কাটবেন। সিনেমার টিকেট এ যাবৎকাল অবধি প্রিপেইড ছিল, ছিল পূর্ব নির্ধারিত দাম। দি ডিরেক্টরের টিকেট কাটবেন পোস্ট পেইডে। তাও আবার মন চাইলে এবং নিজের ইচ্ছামত দামে।

এই বিকল্প মাধ্যমটা দাঁড়িয়ে গেলে আমাদের জন্য ভালই। কিন্তু আমরা তো সভ্যই না, তার উপর এতোটা মননশীল রুচিকর আচরণ আমাদের কাছে আশা করা বাতুলতা।  দর্শকের মনন তৈরিতে এই উপায় কিছুটা হলেও কাজে লাগুক, তেমনটাই চাইছি।

 

মন্তব্য ২ পঠিত