ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

অনেকদিন ধরেই ডেসটিনিকে নিয়ে মিডিয়ায় ডামাডোল গভীরভাবে লক্ষ্য করছিলাম । একই সাথে ডেসটিনির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, বিভিন্ন পদক্ষেপের দিকে খেয়াল রাখছিলাম ।
এতে করে কয়েকটি ব্যাপার স্পষ্ট হল;

১ । একটি দেশের মিডিয়া কতটুকু নিচে নামতে পারে ! তাদের গত ৪ মাসের নিউজ গুলো আমার সংগ্রহে আছে ।আজকে পিছনে গিয়ে দেখলাম, তারা প্রায় শ’খানেক অভিযোগ এনেছিল কয়েকমাস আগে । আজকে তারাই ১টা অভিযোগ-এ চলে এসেছে ! আগের অভিযোগ-গুলো হল- বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার, বিদেশে আপেল বাগানে ৫০০ কোটি টাকা খরচ!, প্রায় বিশ হাজার কোটি টাকা লুটপাট, ইত্যাদি…ইত্যাদি…ইত্যাদি !!! তাদের একের পর এক অভিযোগ ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে ! যে কেউ তাদের চারমাসের আগের নিউজ আর আজকের নিউজ তুলনা করলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে সবকিছু ! কিন্তু আমি জানি কেউ তা করে দেখবে না । আর এই কারনেই আমাদের “হুজুগে বাঙ্গালী” টাইটেল-টা মোছা যাচ্ছে না । এখন প্রশ্ন উঠে, তাহলে কারা মিডিয়াকে দিয়ে এইসব করাচ্ছে ? এর উত্তর-ও অনুসন্ধানী বাঙ্গালী জাতি জানে । কারন কোন মিডিয়ার মালিক কে তা আমাদের দেশের চায়ের দোকানদার-ও জানে !

২ । একটি দেশের সরকার কতটুকু অদূরদর্শী, অযোগ্য এবং দুর্নীতিগ্রস্ত হলে এমনটা হওয়া সম্ভব ! হলুদ বাবুরা দুদক, এনবিআর এর রেফারেন্স দিয়ে একের পর এক নিউজ করে গেছেন । তখন দুদক, এনবিআর-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা এইসব জানেন না ! তারা মিডিয়াকে এইসব নিঊজ দেননি । মাত্র চারদিন আগে দেশের দুই স্বনামধন্য পত্রিকা(!!), হলুদ সাংবাদিকতার মডেল—প্রথম আলো, যুগান্তর নিউজ করল যে ডেসটিনির বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে । এর পরের দিন দুদক চেয়ারম্যান জানালেন দুদক তখনো কোনো কিছু ঠিক-ই করেনি, মামলার কথা আসে কোত্থেকে ? পত্রিকাগুলো মিথ্যা সংবাদ দিয়েছে । ভাল কথা, আমরা উনাকে আবারো বিশ্বাস করলাম । কারন দুদক দুর্নীতির ব্যাপারে আপোষহীন ( বাংলাদেশের সেরা জোকস ) !! কিন্তু ঠিক চারদিন পরেই দুদক পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী মামলা করল ডেসটিনির বিরুদ্ধে । তাহলে চারদিন আগে পত্রিকাগুলো জানলো কিভাবে ? আপনারা কি আমাদের এখন ভূতে বিশ্বাস করতে বলছেন ?

৩ । এনবিআর বিগত তিনমাস ডেসটিনির প্রায় সকল ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করে রেখেছে । অভিযোগ কি ? কে অভিযোগ করল ? তা এনবিআর জানে না । জব্দ করে রাখতে হবে এতটুকু জানে । তাহলে জানে টা কে? আবার সেই ভুতের কথা বলবেন ?

কিন্তু এতকিছুর পর-ও ডেসটিনি গ্রুপ সবকিছু মোকাবেলা করে চলেছে । সর্বশেষ তারা আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন । দুদক মামলা করাতে আইনি লড়াইয়ের পথ উন্মুক্ত হল ।

এবং এই পর্যায়ে এসে আমি নিশ্চিত হলাম ডেসটিনি শুধু বাংলাদেশে নয়, গোটা পৃথিবীতে একটি স্বচ্ছ ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ! বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডাইরেক্ট সেলিং কোম্পানি হচ্ছে এমওয়ে । এমওয়ের বিরুদ্ধেও আমেরিকান ফেডারেল ট্রেড কমিশন ( এফটিসি) ১৯৭৫ সালে মামলা করে । চারবছর মামলা চলার পর এমওয়ে মামলায় জয়ী হয় । ১৯৭৯ সালে সেই ঐতিহাসিক মামলার রায় হয় । এবং সেই দিন থেকে আজ অবধি এমওয়ের ব্যাবসা বেড়েই চলেছে পৃথিবীব্যাপী । আজকে এমওয়েকে নিয়ে আমেরিকা গর্ববোধ করে । এমওয়ের ২০১১ সালে শুধু রেভিনিউ-ই ছিল প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা ! তাহলে তাদের টার্নওভার কত হতে পারে তা সহজেই অনুমেয় । যে কেউ একটু কষ্ট করে এমওয়ে (AMWAY) লিখে ইন্টারনেটে সার্চ করে দেখলে আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে ।

আমি নিশ্চয়তা দিয়ে বলছি, আর কিছুদিনের মধ্যেই আরেকটি ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছে ডেসটিনি ।।