ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

বিগত ৪ মাস যাবত দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্সে বিশ্বাসী(!) বঙ্গদেশের বিশ্ববিখ্যাত “দুদক” ডেসটিনির ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আদাজল খেয়ে তদন্ত করছে এবং অলরেডি তদন্তে বিস্ময়কর ও বিরল প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে তারা ! প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে আমাদের দুদকের শার্লক হোমস-রা !! ( আফসোস, স্যার আর্থার কোনান ডয়েল বেঁচে থাকলে বিশ্বকে একটি নতুন কমেডিয়ান শার্লক হোমস এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে পারতেন )
চলুন আমরা আমজনতা ডেসটিনির একটা মোটামোটি হিসাব দেখি …

ডেসটিনির সর্বমোট লেনদেন সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা । এরমধ্যে সরকারকে ট্যাক্স/ভ্যাট বাবদ দেয়া হয়েছে প্রায় ছয়’শ কোটি টাকা । ডেসটিনির ডিস্ট্রিবিউটর-রা কমিশন বাবদ পেয়েছে চোদ্দ’শ কোটি টাকা । ডেসটিনি মাল্টিপারপাসের সভ্য-রা লভ্যাংশ বাবদ পেয়েছে প্রায় পাঁচ’শ কোটি টাকা । সারা বাংলাদেশে ডেসটিনির সম্পদ রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ( বর্তমান ভ্যালু) কোটি টাকার যা সরকারী তদন্তে পাওয়া গেছে । তাহলে এইখানেই তো ছয় হাজার কোটি টাকার সহজ হিসাব পাওয়া যাচ্ছে । আর তাছাড়া ডেসটিনি গ্রুপের গত বারো বছরের হাজারো রকমের খরচ ( কর্মচারীদের বেতন, শত শত অফিস ভাড়া ইত্যাদি ) কে দিল ? ডেসটিনিকেই তো দিতে হয়েছে নাকি ? তাহলে দেখা যাচ্ছে সম্পদ যা আছে তা টোটাল লায়াবিলিটি/দায় এর চেয়ে বেশী । তারমানে পুর্ণাঙ্গ একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান যার আর্থিক বুনিয়াদ অত্যন্ত শক্তিশালী ।

কিন্তু আমাদের দুদক সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার সম্পদ চোখেই দেখছেন না !! উনারা দেখছেন আত্মসাৎ ।
তাহলে আত্মসাৎ কে করল ? উত্তর- কেন, ২২ জন পরিচালক মিলে ।
বহুত আচ্ছা, তাহলে তারা টাকা কই রাখল ? উত্তর- কেন,ওই যে অবৈধ সম্পদ্গুলো ।
তাহলে সম্পদ চোখে দেখলেন ! আচ্ছা, সম্পদ গুলো অবৈধ কিভাবে হল ? ওইগুলা কার নামে আছে ? উত্তর- কোম্পানির নামেই আছে ।
তাহলে পরিচালকদের আত্মসাতের কি দেখলেন ? উত্তর- জানি না ।
তাহলে জানেটা কে ? উত্তর- দরবেশ বাবা ।
দরবেশ বাবাটা কে ? উত্তর- টপ সিক্রেট !!! ( অমীমাংসিত রহস্য )
ডেসটিনির সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় ২ কোটি মানুষ যারা এই প্রহসনের মধ্যে পড়ে আসন্ন ঈদ নিয়ে শঙ্কিত, তারা আজ এই দরবেশ বাবাকে জনসম্মুখে দেখতে চায় । তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চায়, ত্রিশ লক্ষ বাঙ্গালীর রক্তে অর্জিত এই বাংলাদেশের প্রতি তার কতটুকু অবদান রয়েছে তা জানতে চায়, দুদক কেন তাঁর ঈশারায় চলতে বাধ্য তা-ও জানতে চায় ।
তবে জাতির কাছে একটি গুরুতর প্রশ্নের উত্তর আজ আলবৎ পরিষ্কার । প্রশ্নটি হচ্ছে, “এত্তবড় একটি ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ থাকতেও বাংলাদেশ কেন দুর্নীতিতে হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিশ্ব রেকর্ড করল ।।
কবি যথার্থই বলেছেন–

“অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই – প্রীতি নেই – করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব’লে মনে হয়
মহত্ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয় ।“

পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই । ১৯৫২ সালে বাঙ্গালী রুখে দাঁড়িয়েছিল, ১৯৭১ সালে বাঙ্গালী সশস্ত্র হয়ে গর্জে উঠেছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে । ২০১২ সালে এসে ঘুমন্ত বাঘকে আর খেপিয়ে তুলবেন না । খেপে গেলে কেউ রেহাই পাবেন না নিশ্চিত …