ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

কিছুদিন আগে দুদক ডেসটিনির বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার মানি-লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনে দুটি মামলা দায়ের করে । বেশ ভাল কথা, বাংলাদেশে যে কারো বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে হেনস্থা করার পর পার পেয়ে যাওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা । সরকার-বিরোধী দল তো এই ব্যাপারে অলিম্পিকে সোনা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে । সরকারী ও বিরোধী দলের মামলা-মামলা খেলা নিয়ে ১টা পোস্ট লিখব বলে ভাবছি । প্রসঙ্গে ফিরে আসি, দুদক যে অভিযোগে ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে তার গ্রহণযোগ্যতা, সত্যতা ও উদ্দেশ্যের ব্যাপারে আমরা সচেতন জনগন যথেষ্টই ওয়াকিবহাল । কিন্তু দুদক একই সাথে যে হাস্যকর ও জঘন্য চরিত্রের পরিচয় দিচ্ছে তাতে আমি বিস্মিত ! কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও মোটামুটি নির্ভরশীল সুত্রে জানতে পারলাম দুদকের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নতুন যে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে সেখানে তদন্তের মূল দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মামলার বাদীদেরকেই !!! অর্থাৎ সেই দুই বিখ্যাত মানিকজোড় ! একজন দুদকের উপ-পরিচালক স্কোয়াড্রন লীডার তৌফিকুল ইসলাম আরেকজন মোজাহার আলী সরদার । কিন্তু দুদক এইখানে একটু চালাকি করে রদ-বদল ঘটিয়েছে । আগে ডেসটিনি মাল্টিপারপাসের তদন্ত করেছিল তৌফিক, এখন তাকে দেয়া হচ্ছে ট্রি প্লান্টেশনের তদন্তের ভার । আর মোজাহার করেছিল ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশনের তদন্ত, এখন তাকে দেয়ে হচ্ছে মাল্টিপারপাসের তদন্তের ভার!! এই দুই বিরল প্রতিভাসম্পন্ন মানিক জোড়কে ছাড়া আর কাওকে ভাঁড়ামি করার জন্য পাওয়া যাচ্ছে না । মামলার বাদীরা করবে মামলার তদন্ত !!! বুঝুন এইবার অবস্থা !

তারপরেও কি সমালোচক ভাইরা বলবেন ডেসটিনির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে না? আপনাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আপনাদের হয়তো ডেসটিনির কোনো প্রান্তিক পর্যায়ের ডিস্ট্রিবিউটরের ভুলের কারনে অথবা অকারন অ্যালার্জি-জনিত কারনে দুদকের এই প্রহসন ভাল লাগতে পারে । কিন্তু একটি কথা মনে রাখতে হবে, আপনাদেরকেও এই বাংলাদেশেই থাকতে হবে । আপনাদেরকেও যেকোনো সময় এই অকালকুষ্মাণ্ডদের লোভের ফাঁদে, ষড়যন্ত্রকারীদের জালে জড়াতে হতে পারে । পড়তে পারেন এইরকম আরো ভয়ংকর প্রহসনের মধ্যে । তখন কিন্তু আপনারাও রেহাই পাবেন না ।

তাই চলুন না, সবাই মিলে একসাথে সোচ্চার হই এই প্রহসন তথা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ? এদেশটা আমাদেরই । তাই এদেশকে দুর্নীতিমুক্ত, কলুষতামুক্ত ও পবিত্র রাখতে হবে আমাদেরকেই ।