ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

এক দেশে প্রথম ট্রেন চালু হয়েছে……
তিন মাস পর দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করল যে, ট্রেন এত জোরে চলে যে, রেললাইনের আশে-পাশের বাড়ির থালা-বাটি, হাঁড়ি, আসবাবপত্র পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে যায়…
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিল ট্রেন যেন আস্তে চলে…
তিনমাস পর দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবার অভিযোগ করল যে…
ট্রেন এত আস্তে চলে যে, ট্রেনের যাত্রীরা ট্রেন থেকে নেমে রেললাইনের আশে-পাশে চড়ে বেড়ানো গরু-ছাগলের দুধ দোহন করে নিয়ে যায়…!!!
আমাদের আশেপাশে উক্ত দেশের মানুষদের মতই অনেক মানুষকে দেখা যায় যারা কোনোকিছু নিয়ে প্রথমেই অভিযোগ করতে সিদ্ধহস্ত । কিন্তু তাদের অভিযোগের যে সমাধান তারা চাইছেন তা বাস্তবায়িত হলে আদৌ তাদের কোনো উপকার হবে কিনা তা নিয়ে কোনো মাথাব্যাথা নেই !! কিন্তু সৃজনশীলতা ও ইতিবাচক মানসিকতার মাধ্যমে অনেক গূড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব ।
চলুন একটু পিছনে ফিরে যাই, আলোচিত-সমালোচিত “যুবক” প্রসঙ্গে কিছু কথা বলব । আমার জানামতে যুবকের ( যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি) যতগুলো বিনিয়োগ প্রজেক্ট ছিল তার সবগুলোই ছিল লাভজনক খাতে ( আপনারা যে কেউ যুবকের প্রজেক্টগুলো বিস্তারিত দেখলেই আমার সাথে একমত পোষণ করবেন আশা করি ) । যুবক যদি আজকে পর্যন্ত তাদের অপারেশন চালাতে পারত তাহলে আজকে অবশ্যই গ্রাহকরা কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখতে পারতেন । কিন্তু ঘটনা অন্যরকম কেন ঘটলো ?

সেই মিডিয়া !! যুবকের প্রজেক্টগুলো যখন জনপ্রিয়তা পাওয়া শুরু করে ঠিক তখনই একটি মহল তাদের পালিত প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করে শুরু করে যুবককে ধ্বংসের পাঁয়তারা !! প্রচার করতে থাকে একের পর এক বানোয়াট ও চটকদার খবর ! খেপিয়ে তোলে যুবকের গ্রাহকদের । তখন গ্রাহকরাই যুবকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে যুবক তাদের টাকা লুটপাট করছে এই মর্মে যুবকের বারোটা বাজিয়ে ছাড়ে ! ওদিকে মিডিয়া সরকারকে বাধ্য করে যুবকের বিরুদ্ধে কমিশন গঠন করতে । যা গ্রাহকদেরও অন্যতম দাবী ছিল !! তাহলে এখন লাভ-ক্ষতির অঙ্ক করলে কি দেখতে পাচ্ছি আমরা ? যুবকের কোনো গ্রাহক তাদের কোনো টাকা তো ফেরত পায়নি-ই… উপরন্তু সরকারের জিম্মায় থাকা যুবকের সম্পত্তির হাল-হকিকতের বেহাল অবস্থা । সরকারের জিম্মায় থাকা যুবকের সম্পত্তির একটা বিরাট অংশ সরকারি কর্মকর্তাদের-ই উদরপূর্তিতে ব্যবহার হচ্ছে । আবার কোনো মহল আবার যুবকের সম্পত্তিগুলো নামমাত্র মূল্যে নিলামে কিনে নিতে পাঁয়তারা করছে ! তাহলে মিডিয়া কেন ওই ক্যাম্পেইন চালিয়েছিল ? কার স্বার্থ সংরক্ষনের তাগিদে চলেছিল ওই মিডিয়া ক্যাম্পেইন ? জনগনের নাকি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যমহলের? এই প্রশ্নের উত্তর আশা করি আমাকে আজ দিতে হবে না । জনগনের কাছে তা পরিষ্কার !!!!

আমার জানামতে যুবকের অন্যতম দোষ ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুমতি না নিয়ে আর্থিক লেনদেন করা । কিন্তু তাহলে সরকার প্রথমে তা দেখল না কেন ? যুবক তো লুকিয়ে কিছু করেনি । আর যখন সরকার দেখল তখন কি আর কোনো সমাধান ছিল না ? সরকার কি পারতো না যুবক কে নজরদারির আওতায় এনে তাদেরকে জনগনের টাকা ফেরত দেয়ার সুযোগ দিতে ? অথবা তাদেরকেই একটি আইনের আওতায় এনে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দিতে ?

আজকে এসে ওই গ্রাহকরাই আবার কেন বলছেন তাদের টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে ?
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি যেমন হয়, আবার কোথাও এসে ইতিহাস ঠিক-ই তার গতিপথ পরিবর্তন করে
বাংলাদেশের ওই হলুদ মিডিয়া-ই সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে গত প্রায় আটমাস যাবত লাগামহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে ডেসটিনি গ্রুপের বিরুদ্ধে !! এখানেও তারা একই ফর্মুলা ব্যবহার করে ডেসটিনিকে ধ্বংস করার জন্য । কিন্তু তাদের হিসাবে বিশাল ভুল হয়ে গেছে । তারা ভেবেছিল যুবক আর ডেসটিনি একই রকম । যুবক ছিল একটি আইডিয়াকে পুঁজি করে বিভিন্ন রকম বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরী করা । আর ডেসটিনি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও জনপ্রিয় ডাইরেক্ট সেলিং সিস্টেম কে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের উপযোগী করে ব্যবহার করে বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে চলেছে । অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে ডেসটিনি । সম্ভাব্য সকল প্রতিবন্ধকতা, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েই ডেসটিনি কাজ শুরু করেছিল, যার ফলে ষড়যন্ত্রকারীদের এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ পরিকল্পনা-ই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে । ডেসটিনির বিরুদ্ধে যে পরিমাণ অপপ্রচার করা হয়েছে তার চারভাগের একভাগ সরকারের বিরুদ্ধে করলে এতদিনে সরকারও পড়ে যেতে পারতো বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত । অথচ ডেসটিনির ৪৫ লক্ষ ক্রেতা-পরিবেশকের মধ্য থেকে একজনেরও ডেসটিনির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই !!! দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্সে বিশ্বাসী ডেসটিনির পুঁজি ছিল স্বচ্ছতা ও দেশগড়ার আত্মপ্রত্যয়ে বলীয়ান লক্ষ লক্ষ প্রশিক্ষিত নেটওয়ার্কার । যাদেরকে ষড়যন্ত্রকারীরা সাধারন গ্রাহক ভেবে ভুল করেছিল তারা আজ ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধেই ফুঁসে উঠেছে !!

যদিও কিছু কিছু মিডিয়া আমজনতার একটি অংশকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছে ( যারা যুগান্তর, প্রথম আলো- কে আসমানী ওহী মনে করে ) তারাও কিছু দিন পর অবশ্যই প্রকৃত সত্য জানতে পারবে । কারন সত্যের জয় সুনিশ্চিত । তখন হয়তো এই অতি উৎসাহী সংবাদদাতাদের গালি দিতেও তাদের মুখে বাধবে না ।
ছোট্ট একটি কৌতুক দিয়ে শেষ করছি । যারা বুঝতে পারবেন কৌতুকটি অবশ্যই মন্তব্য করে জানাবেন ।
আবুল গেল তার জ্যোতিষী বাবার কাছে। ডান হাত বাড়িয়ে বলল, বাবা! আমার ডান হাত চুলকায়। কী আছে সামনে বলেন ?
জ্যোতিষ বাবা বলল, তোর অর্থ প্রাপ্তি সুনিশ্চিত !
আবুল বলল, বাবা বাম হাতও চুলকায় !
বাবা বলে, কী বলিস ! তোর আরও অর্থ আসবে ।
আবুল আনন্দিত গলায় বলল, বাবা বাবা, আমার ডান হাঁটু চুলকায় ।
জ্যোতিষ বলল, তোর বিদেশ যাত্রা হবে ।
খুশিতে গদগদ আবুল মহা উৎসাহের সাথে বলল, আমার বাম হাঁটুও চুলকায় !!
.
.
.
.
.
.
.
বিরক্ত হয়ে জ্যোতিষী বলল, ওরে হারামজাদা, তোর তো চুলকানি হয়েছে!!!
Spartan Tanvir