ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য যুদ্ধ করে বাংলাদেশ নামক এই বদ্বীপ-টিকে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিলেন যারা তাদের মধ্যে লেফটেন্যান্ট হারুন-অর রশিদ নামটি ইতিহাসের পাতায় আজো জ্বলজ্বল করে । মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি “বীর প্রতীক” খেতাব লাভ করেন । ১৯৭৩ সালের গেজেট অনুযায়ী তাঁর বীরত্বভূষণ নম্বর ৯।

অসম্ভম দেশপ্রেম, মেধা ও যোগ্যতার বলে একসময় তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হন ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে উন্নীত হন । এসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে তিনি ঢেলে সাজান এবং প্রভূত উন্নতি সাধন করেন । তিনি-ই বাংলাদেশের সবচেয়ে সফলতম সেনাপ্রধান ছিলেন যার সময়ে সেনাবাহিনীতে কোনোপ্রকার বিশৃঙ্খলা দেখা যায় নি । সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন । এছাড়াও তিনি সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অত্যন্ত সফলভাবে ।

কিন্তু জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তিনি দেখতে পান, যে বাংলাদেশের ভূ-খন্ডের স্বাধীনতা আনতে সক্ষম হলেও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এখনো অর্জিত হয়নি । এমনসময় ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল আমীনের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করে নতুন করে শুরু করেন আরেকটি যুদ্ধ । এই যুদ্ধ দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য । ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে শুরু করেন নতুন পথচলা । কিন্তু এবারও আবার দেশবিরোধী রাজাকারদের আক্রমনের মুখে পড়েন । ডেসটিনি নিয়ে জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকে তারা । প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদেরকে বিচারের হাত থেকে রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী চক্র বিদেশীদের দালাল বলে পরিচিত কয়েকটি হলুদ সংবাদ মাধ্যমকে ( প্রথম আলো, যুগান্তর… ) বেছে নেয় তার ইমেজ ধ্বংস করার জন্য । এবং তারা সফল-ও হয় । একপর্যায়ে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের পদ ছেড়ে দেন তিনি । এবং তারপর-ই বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয় । বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে থাকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল । এবং সবশেষ ইকোনমিস্টে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যানের স্কাইপি স্ক্যান্ডাল বিস্তারিত প্রকাশ হয়ে যাবার পর ইমেজ সংকটে পড়ে যায় খোদ বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা । হুমকির মুখে এখন প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ।

কিন্তু দেশমাতৃকার এই মহান সৈনিক ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্তে পড়ে এখন একপ্রকার গৃহবন্দী হয়ে আছেন । মানিলন্ডারিং-এর অবাস্তব অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে গ্রেফতার করে দুদক !!! দুদকের অভিযোগে বলা হয় ডেসটিনির প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা তিনি সহ ডেসটিনির পরিচালকরা মিলে পাচার করেছেন । কিন্তু যাদের ( ডেসটিনির ৪৫ লক্ষ ডিস্ট্রিবিউটর ) টাকা পাচার করা হয়েছে বলে দুদক দাবি করছে তাদের কোনো অভিযোগ নেই । বরং তারা দেশব্যাপী সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন করে বলছে জেনারেল হারুন, রফিকুল আমীন সহ ডেসটিনির কোনো পরিচালকদের বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ নেই । তাদের কন্ঠে দেশব্যাপী আজ একটি স্লোগান উচ্চারিত হচ্ছে “ ষড়যন্ত্র নিপাত যাক, ডেসটিনি মুক্তি পাক ”
তাহলে কাদের স্বার্থরক্ষায় দুদকের এই প্রাণান্ত ও নির্লজ্জ অপচেষ্টা ? যেখানে পদ্মাসেতু ইস্যুতে বিশ্বব্যাংকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকতেও দুদক কতিপয় দুর্নীতিবাজকে রক্ষায় দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করতে নারাজ সেখানে কোনোরূপ অভিযোগ ছাড়াই ডেসটিনির বিরুদ্ধে কি বীরত্বটাই না দেখাচ্ছে দুদক !!
প্রথম আলু’র মতিচোর রহমান, দৈনিক ভুগান্তরের সন্ত্রাসী বাবুল, দুদকের গোলাম… দেশমাতৃকার জন্য এরা কি অবদান রেখেছে দেশের ক্ষতি করা ছাড়া ?? কিন্তু দুঃখের বিষয় এরাই আজ বিপুল ক্ষমতার মালিক বনে গেছে । যেকোনো সম্মানী মানুষের সম্মানহানী করার লাইসেন্স রাখে তারা ।
কবির সেই কবিতাটি আবার খুব মনে পড়ছে—
“অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই – প্রীতি নেই – করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব’লে মনে হয়
মহত্ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয় ।“
Spartan Tanvir.