ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আমাদের যারা ঢাকা মেডিকেল কলেজকে ইউনিভার্সিটি করতে চাইছেন তাঁদের যুক্তি গুলি কী ও সেগুলো কতটুকু যৌক্তিক আসুন দেখি।

ক। গবেষণার সুযোগ বাড়বেঃ
স্বাস্থ্য গবেষণার মূল উপাদান হল রোগী। রোগী যত বেশী হবে গবেষণার সুযোগও তত বেশী। ইউনিভার্সিটি হলে টাকা দিয়ে সেবা নিতে হবে ও বর্তমানে অতিরিক্ত রুগী থাকে তাও থাকা সম্ভব হবে না বিধায় রোগী কমে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। তাই গবেষণার সুযোগও কমে যাবে। আর গবেষণা করার জন্য আসলে প্রয়োজন গবেষণার উপকরণ আর সদিচ্ছা ইউনিভার্সিটি এর পূর্ব শর্ত হতে পারে না।

খ। স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়বেঃ
সেবার মানের সাথে ইউনিভার্সিটি হওয়ার কি সম্পর্ক? ইউনিভার্সিটি ছাড়া কি সেবার মান বাড়ানো সম্ভব নয়? বিএসএমএমইউ হয়েছে এক যুগেরও বেশী তার পরও আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী,মাননীয় মন্ত্রী, মাননীয় এমপি,যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ত ও দেশের বিত্তশালী জনগন ইউনিভার্সিটিতে চিকিৎসা নেন কি? যারা ভিন দেশে ভালো মানের স্বাস্থ্য সেবার জন্য যাচ্ছেন তাঁরা কোন কোন ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছেন জানেন কি? তাঁরা যাচ্ছেন বামুনগ্রাদ,অ্যাপোলো, স্কট, মাউন্টএলিজাভেদ ইত্যাদি হসপিটাল এ। কই কোন ইউনিভার্সিটি এর নাম কখনও শুনেছি বলে মনে পড়ছে না। তাহলে আমাদের সেবার মান বাড়াতে ইউনিভার্সিটি এর কি প্রয়োজন আমি বুঝতে পারছি না।

গ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ এর আপগ্রেডিং হবেঃ
সারা বিশ্বে মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলুকে স্কুল বলে। আমরা আজ অবধি কলেজ হয়েও সেই স্কুল গুলোর বেশীর ভাগের ধারে কাছেও ছিলাম না। এখন ইউনিভার্সিটি হলে আমরা তাঁদের চেয়ে মানে এগিয়ে যাব কি বলেন! কোন একটা প্রতিষ্ঠানের মান নির্ভর করে সেই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ দিনের অর্জিত সফলতার উপর তাই নয় কি? ধরুন ঢাকা ইউনিভার্সিটি আর কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি এর মাঝে কার মান বা গ্রেডিং ভালো এটা যে কেউ বলতে পারবে। কেন ভালো তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। ভারতের শ্রেষ্ঠ মেডিকেল বিদ্যাপীঠ হল অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স। নামেই ওদের পরিচয়। তদ্রূপ আইআইটি, এমআইটি,রয়্যাল কলেজ এরা শত শত বছরের ঐতিহ্য নিয়ে শ্রেষ্ঠ মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে আছে। মান উন্নয়ন এর জন্য ইউনিভার্সিটি করা লাগছে না। তদ্রূপ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হল দেশের সর্বপ্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মেডিকেল কলেজ। বিগত ৭০ বছরে এই কলেজ যে মান অর্জন করেছে তার মান উন্নয়নে তাকে ইউনিভার্সিটি করলে সেটার মান খুঁজতে হলে আরও কমপক্ষে ৭০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তাতেও হবে না কারন মান বাড়াবে কে বা কিসে? দলীয় করনের খপ্পরে পড়ে ওটার অবস্থা হবে লেজেগোবরে। তাই মানের কোন উন্নয়নের তো প্রশ্নই আসেনা বড়ং মানের শুরু হবে শুন্য হতে।

ঘ। ইউনিভার্সিটি চালাতে সরকারের টাকা লাগবে নাঃ
এটাই সরকার ভালো খেয়েছে। কিন্তু আমার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি জানেন ঢাকা মেডিকেল এ কাদের চিকিৎসা হয়? আমরা যাদের গরীব বলে জানি তাঁদের চেয়েও গরীব মানুষ আছে আমাদের দেশে। যাদের ১০ টাকা দিয়ে টিকেট কিনে ডাক্তার দেখানোরও সামর্থ্য নাই। ঢাকা মেডিকেল এ গিয়ে দেখুন ওটার এতটুকু যায়গাও খালি নাই , শুধু রোগী আর রোগী। একেক ব্যাড এ একাধিক রোগী, মেঝেতে রোগী, বারান্দায় রোগী, সিঁড়ির নীচে রোগী, করিডোরে রোগী। দেখে মনে হয় সারা দেশে ক আর কোন হাসপাতাল নাই? আসলে এঁদের যাওয়ার আর কোন যায়গা নাই, এটাই এঁদের শেষ ভরসা। তাই মাটি কামড়ে পড়ে থাকে এখানে। এঁদেরকে পুঁজি করে কিভাবে ইউনিভার্সিটি এর খরচ তুলবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! ইউনিভার্সিটি হলে এরা হয়ত এখানে চিকিৎসার সুযোগ টুকুও হারাবেন। এই মানুষগুলো কোথায় চিকিৎসা নিবেন?

তাহলে ইউনিভার্সিটি হলে কি কোনই লাভ হবে না? হ্যাঁ কিছু লোকজনের ব্যক্তিগত কিছু লাভ হবে। যেমনঃ আজীবন ঢাকা থাকা হবে, চাকুরীর মেয়াদ কিছুটা বাড়বে, প্রাকটিস বাড়বে, অনেকে ইউনিভার্সিটি হতে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার উপর অর্জিত টাকার বিশাল অংকের কমিশন পাবেন, অবাধে দলীয় লোক নিয়োগের সুবিধা পাবেন, অনেকে ক্ষমতার জোরে পড়াশুনা না করেও বিভিন্ন ডিগ্রি পাবেন, ইত্যাদি ইত্যাদি।