ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

আমি ছোটবেলা হতেই ধার্মিক ছিলাম। ইমাম সাহেবের সাথে আমার বেশ খাতির ছিল। আমি আযান দিতাম সব খেলার সাথীদের ডেকে নামাজে নিয়ে যেতাম। তাবলীগ এর সাথে আমার প্রথম পরিচয় আমি যখন দশম শ্রেণীতে পড়ি তখন। আমার আব্বা আমাকে বললেন তুমি সময় পেলে মাঝে মাঝে নুর মাসজিদ(কমিল্লা শহরে অবস্থিত) যাবে। আমি ওখানে যাওয়ার পর বুঝলাম এটাই সেই কাজ যা আমি ছোট বেলা থেকেই করে আসছি। আমার খুব ভালো লাগলো । তারপর মেডিক্যাল এ এসে আমি কাজটাকে ভালো করে বুঝলাম। চার মাস সময় ব্যয় করলাম। আমি মনে করি তাবলীগ এর মেহনত আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরী। আমাদের ইমান আমল বাঁচাতে এই মেহনতের কোন বিকল্প নাই। যেহেতু আমাদের নবী শেষ নবী(সঃ) তাই মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকা আমাদের অবশ্যই কর্তব্য।

তাবলীগ এর বিরুদ্ধে অনেকের অনেক অভিযোগ যে ওরা মাসজিদ নষ্ট করে,চিল্লা কোথায় পেল, উল্টা পাল্টা কথা বলে, ওরা জিহাদ করে না, ওরা ভোট দেয় না,অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার কথা হচ্ছে ওরা কারো কন ক্ষতি করছে? না তা ওরা করছে না। তাহলে আপনি ওদের পেছনে কেন লেগেছেন? ইদানিং আবার অনেকে(ইউরোপ, আমেরিকা) মনে করছে তাবলীগ এর ফলে অনেকে জংলী হচ্ছে। আসলে এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। তাবলীগ এর ফলে অনেক জংলী ভালো হচ্ছে। কারন তাবলীগ এর আদর্শ সম্পূর্ণ উল্টা। ওরা সব সময় শান্তির কথা বলে। এমন হতে পারে কেউ তাবলীগ এ সময় লাগিয়েছে কিন্তু মানুষিকটা পরিবর্তিত হয়ে অন্য লাইন এ চলে গেছে। সেটা হওয়া বিচিত্র কিছু না। সে রকম দু একটা বিছিন্ন ঘটনা থাকতে পারে। কিন্তু এই স্বচ্ছ মেহনতের ফলে বেশীর ভাগ মানুষই বুঝতে পারে আসল ইসলাম কি। তাই ইসলামের অপবেখ্যা দিয়ে এঁদের বিপথে টানা অনেক কঠিন। কিন্তু যদি তাবলীগের মেহনত না থাকত, তাহলে অনেক লোককে বিপথে টানা অনেক সহজ হতো। তাই তাবলীগ যতটা না জঙ্গি তৈরিতে সহায়ক হচ্ছে তার চেয়ে হাজার গুন বেশী জঙ্গি নির্মূলে সহায়তা করছে।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমরা চাই সবাই ইসলামে আসুক। আর মুসলিমরা হউক প্রকৃত মুসলিম। আমরা কখনও ক্ষমতা চাই না। কারন আমরা জানি ক্ষমতা অত্যন্ত কঠিন একটি দায়িত্ব। যে কোন এলাকা বা দেশের প্রধান হবেন তাকে তার পুরো এলাকার সব ব্যাপারে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। আমরা নিজেদের হিসাবই দিতে পারবনা কিভাবে আমরা সবার হিসাব দিব! আর এ জন্য আমরা ক্ষমতা চাই না। বরং আমরা চাই যারা ক্ষমতায় আছে তাঁরা সবাই ভালো হয়ে যাক। আমি ভালো লোক আর অমক খারাপ লোক এটা বলা কি ইসলাম সমর্থন করে? না করে না। তাই আমরা মনে করি ইসলামের নাম নিয়ে এভাবে ভোট করা ঠিক না। আমি কিভাবে আমাকে ভালো লোক বলব? আর অন্য সব খারাপ সেতাই বা কিভাবে বলি!

আল্লাহ্‌ বলেছেন জমিনের খেলাফত আমি যাকে ইচ্ছা তাকে দেই। খেলাফত পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে কোথাও বলা হয়নি। একটা ঘটনা একবার মোহাম্মাদ(সঃ) এর কাছে দুজন এসে বলল আমাদের অমক অমক যায়গার আমির বানিয়ে দিন। হুজুর(সঃ) বললেন যারা ক্ষমতা চায় আমরা তাঁদের আমির বানাই না।(কম বেশী আল্লাহ্‌ মাফ করুন, কথা গুলো এইরকমই ছিল)। আর আজকাল আমরা কেবলি চাই ক্ষমতা। আমরা আসলে অবুঝ, ক্ষমতা যে কতো বড় একটা দায়িত্ব তা কল্পনা করতেও পারবনা। সেই দায়িত্ব পালনে যদি এদিক সেদিক হয় তাবে আল্লাহ্‌ এর কাছে জবাব দিতে হবে। সেই জবাবদিহিতা করার যার সাহস আছে সেই ক্ষমতা চাইতে পারে। অনেক বলে এরা টাকা পায় কই? আসলে সব যার যার টাকা। ওখানে প্রথম কথাই হল নিজের জান ও নিজের মাল। সুতরাং এখানে অন্য কিছুর কোনই অবকাশ নাই।

আমাদের নবীজির(সঃ) আমলে মাসজিদ ছাড়া আর কোন দীণী প্রতিষ্ঠান ছিল না। ওখানেই সব হতো। তাবলীগের মেহনত তাই মাসজিদ কেন্দ্রিক। আর চিল্লা বা তিন চিল্লা আসলে একটা কোর্স এর মতো। হাদিস কোরআনে বিভিন্ন ফাজায়েল আছে বলেই সময়টা ৪০ বা ১২০ দিন নেয়া হয়েছে আর কিছুনা। যে কেউ যেকোনো সময় ওখানে লাগাতে পারে। এই সময়টা হল তার শিখার জন্য। তবে আমি এটা মনে করিনা যে তাবলীগ এর মেহনত ই একমাত্র মেহনত। অনেকে অনেক ভাবে ইসলামের খেদমত করছেন। কেও বই লিখে, কেউ দলিল প্রমান দিয়ে, কেউ টেলিভিসন এর মাধ্যমে, কেউ ইন্টারনেট এর মাধ্যমে মানুষকে ইসলামের দিকে ডাকতেছেন। পরিশেষে একটা কথা বলতে চাই তাবলীগ সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করার আগে একটু চিন্তা করুন আসলে এরা কারো কোন ক্ষতি করছে কি না। যদি কারো ক্ষতি না করে থাকে তাহলে ওদের কাজ ওদেরকে করতে দিন। ভালো না লাগলে যাবেন না।