ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

ভিন্নমতের মাধ্যমে ভাল সমাধানের সুযোগ থাকে। ভিন্নমত থাকা মানেই যুক্তির খেলা। ভিন্নমতে নতুন কিছু বের হয়ে আসে।একজন অন্যজনের সাথে সহমত হতে পারেন যেমন ঠিক তেমনই দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশের প্রায় সবাই দ্বিমত শয্য করতে পারেন না এখন।ব্যক্তি জীবন থেকে জাতীয়, রাজনৈতিক জীবন কোথাও কেউ দ্বিমত গ্রহন করতে পারেন না। তার অবশ্য একটি কারন থাকতে পারে।বৃটিশ শাসিত এই উপমহাদেশ,তাই বৃটিশদের কিছু বৈশিষ্ট্য এই উপমহাদেশের মানুষের মাঝে প্রবাহমান। বৃটিশরা “ইয়েস স্যার” নীতিতে আসক্ত।সেটি এখন বাঙালি রক্তকে ধারণ করে। অধস্তন সব সময় উচ্চস্তরের মানুষের সাথে একমত হবেন এটাই “ইয়েস স্যার” নীতিরর প্রথম ও প্রধান বৈশিষ্ট্য।এতে করে বিশাল এক তৈলবাজ জনগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে।যাতে করে সৃজনশীলতা নষ্ট হয়, জাতি হয় অন্তঃসারবিহীন। আমি একজনের সাথে একমত নাও হতে পারি তাই বলে তাকে অশ্রদ্ধা করতে পারি না।এটা ঠিক হবে না । সবার উচিৎ সহনশীল হওয়া।ভিন্নমত পর্যালোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান করা। আসুন আমার সাথে দ্বিমত পোষন করুন যুক্তি দিয়ে।এই চর্চা থাকা উচিৎ একটি সুখি, সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য।

আমাদের দেশ একটি যুক্তিহীন জাতি তা আমি মানি না। মুক্তিযুদ্ধ আমরা করেছি যুক্তি ও আবেগ দিয়ে। নানান পথপরিক্রমায় এখন আমরা এই পর্যায় এসে পৌছেছি। এটা সত্য হঠাৎ করেই আমরা একটি অস্থির সময়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছি। মনে হচ্ছে কেউ কারো কথা শুনছি না শুধু বলেই যাচ্ছি যা ইচ্ছে। মনে হচ্ছে যুক্তিহীন তর্কে আমরা একে অপরকে হারাতে চাচ্ছি। কিছু বোঝার আগেই অনর্গল বলে যাচ্ছি। গ্রাম বাংলার একটা গল্প মনে পড়ে এ ক্ষেত্রে। এক স্ত্রী তার পতির সাথে যুক্তিতে না জিততে পেরে বলেছিল “কানে বেধে দিব ঢেঁকি”। পাসের একজন জিজ্ঞেস করেছিল এর মানে কি? তখন সেই স্ত্রী বলেছিল তর্কে না জিততে পারি কান তো ভারি হলো। আমার মনে হচ্ছে সেই রকম একটি সময় আমরা পার করছি। এই মনোভাব যে কোন শান্তিপূর্ণ সমাধানে অন্তরায়। নতুন করে আবার ভাবতে হবে এই সমাজ নিয়ে। স্বাধীণতা সংগ্রামের অন্যতম কারন ছিল আমাদের যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো পশ্চিম পাকিস্তানিরা মানতে চাচ্ছিল না। সেদিন আমরা যুক্তিসঙ্গত কারনে নিজেদের মত করে স্বাধীণ হতে চেয়েছিলাম এবং সেই যুক্তির আবেগ ধারণ করেই আজ আমরা মুক্ত। তাই আমাদের সবাইকে যুক্তি দিয়ে যেমন দ্বিমত পোষণ করতে হবে ঠিক তেমনই যুক্তি দিয়েই দ্বিমত কে একমতে পরিণত করতে হবে অথবা সেই দ্বিমত অধিকতর শ্রেয় হলে সেটাকেই গ্রহন করতে হবে।

লেখকঃ তানজির খান

কবি

www.facebook.com/tanzir.khan.3