ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

বেশ কিছু দিন হলো ভাবছি কেন একজন তরুণ আলোর পথে না গিয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। কেউ যদি অন্ধকার রাতে আলো দেখে সে কোন দিকে যাবে? আলোতে না আলোর বিপরীতে? কীটনাশক ব্যবহারে ফসলের গুনাগুণ অনেক নষ্ট হয় আবার খরচও বেড়ে যায়। তাই এখন আলোক ফাদ ব্যবহার করে অনেক কৃষক, পোকামাকড়ের হাত থেকে ফসল বাচাতে।যদিও এ ক্ষেত্রে আলোকে ফাদ হিসাবে ব্যবহার করা হয় তবুও এটা পরিস্কার যে আলোর দিকে ধাবিত হওয়া জীবের সহজাত বৈশিষ্ট্য। আমার ছায়াঘেরা গ্রামে যখন রাত নামে,আমি মাঝে মাঝে হেটে চলি মেঠো পথ ধরে, থমকে দাড়াই জোনাক পোকার আলোর খেলায়। আলো সব সময়ই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু সকল প্রাণীর কাছে। অন্ধকার না থাকলে আলোর কদর থাকতো না এটা ঠিক, তবে এটাও ঠিক আমরা আলোতেই বাচতে চাই। গত কয়েক মাস ধরে একের পর এক ধর্ষণের খবর পত্রিকা খুললেই।বাসে ধর্ষণ, মাইক্রোতে ধর্ষণ, পাট ক্ষেতে ধর্ষণ,নৌকায় ধর্ষণ,ফ্লাটে ধর্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের চেম্বারে ধর্ষণ আরও কত ভাবে কত জায়গায় ধর্ষণ হচ্ছে সে খবর হয়তো পত্রিকায় আসেই না।আচ্ছা এরা কি ধর্ষক হয়ে জন্ম নিয়েছিল? উত্তর অবশ্যই না। তাহলে কেন এরা ধর্ষক হয়ে উঠলো?

কিছু দিন আগে এক মদ্যপ এমপি পুত্র রাস্তায় দুই জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে তার নিজেস্ব লাইসেন্স করা অস্ত্র দিয়ে। সে নেশাগ্রস্ত ছিল তারপর জ্যামে অধৈর্য হয়ে গুলি করেছে। এই এমপি পুত্র এত ক্ষমতা কোথায় পেল যে তার নিজেস্ব লাইসেন্স করা বন্দুক থাকে? এই হত্যাকারী যুবক কেন শিশু থেকে নেশাগ্রস্ত হত্যাকারী হয়ে উঠলো? দিন দিন মানুষ থেকে অমানুষ হয়ে উঠলো কেন? তার মা যেহেতু এমপি তাই ধারণা করতে পারি তার লেখাপড়ার সব রকম সুযোগ ছিল। যদি সে শিক্ষিত হয়? তবে কেন নৈতিকতা, মানবতা শিখলো না? কেন সে হয়ে উঠলো নেশাগ্রস্ত বাউন্ডুলে? আর যদি শিক্ষার আলো না পায় তবে কেন তার মাঝে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ জাগ্রত করা গেল না?

আমরা সরকারি, বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে ঘুষ আর দূর্নীতির মহাউৎসব দেখি। আচ্ছা, যারা এসব চাকরি করেন তারা তো শিক্ষিত মানুষ তারা কেন জেনে বুঝে এই অন্যায় করছেন? যারা সরকারি আমলা তারা তো দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা নিয়ে প্রচন্ড কঠিন প্রতিযোগীতার মুখোমুখি হয়ে তারপরই তো চাকরীতে ঢোকেন তবে তারা কেন দূর্নীতিপরায়ন হয়ে উঠেন? তাদের তো জ্ঞান গরিমা সব আছে তবে কেন অসৎ পথে পা বাড়ান?

বেশ কিছু দিন আগে এক বিচারক মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন!তিরি তো বিচারক,অন্যায়ের বিচার করাই তার কাজ তাহলে কেন উনি মাদক পরিবহনকারী হয়ে উঠলেন? তিনি জানতেন অপরাধ করছেন, তিনি কিন্তু এও জানতেন এর শাস্তি কি।

আর পুলিশ সদস্যদের ঘুষ সহ নানান অপরাধের কথা তো আমরা শুনতে শুনতে মুখস্ত করে ফেলেছি। কয়েকদিন আগে পুলিশের এক এস আই একজন নারীকে বন্দী করে গণধর্ষণ করেছেন। সেই নারী তার প্রাক্তন স্ত্রী ছিলেন। যাকে বিয়ে করেছিলেন, যার গর্ভে তার সন্তান ছিল,সেই নারীকে তিনি কিভাবে গণধর্ষণ করাতে পারলেন? একদিন সকালে অনলাইন পত্রিকা খুলতেই দেখলাম এক সেনা সদস্য তার স্ত্রীকে গাছে বেধে বেধড়ক মারছেন। সেনাবাহিনী আমাদের দেশের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। সেই বাহিনীর সদস্য হয়ে একজন নারীকে এভাবে আঘাত করতে পারেন কিভাবে? অথচ পুলিশ সদস্য ও সেনা সদস্য দুই জনই আইন সম্পর্কে জানেন ভাল করেই।

এই সব প্রশ্ন ভাবতে ভাবতেই একটা কবিতা লিখে ফেলেছি গতরাতে নানান প্রশ্ন নিয়ে।কবিতার নাম  ”বারবার ঘুরে আসা তারুণ্যে কি হতে চেয়েছিলাম? ”। পাঠকের জন্য কবিতাটা তুলে দিলাম এখানে।

দিনদিন সব ভুলে যাচ্ছি
যেমন ভুলেছি তোকে,
ভাবলাম তোর একখান ছবি আঁকি
তারপর থেকেই রঙ আর তুলি খুঁজে চলেছি।
কত যে সাদা বক উড়েছে
আর সূর্য ডুবিয়ে ঘড়ির কাটা ছুটেছে,
কতবার ছটফট করেছি বিরহতাপ নিয়ে
তবুও তোর ক্ষুদ্র একটি তিলও আঁকতে পারিনি।
রঙ তুলি হাতে নিলেই বিলুপ্ত হয়
আমার সব অহংকার এবং নষ্ট আত্না;
আমি যেন হয়ে যাই দুধের শিশু
অথচ আমার মাঝেও বাস করছে
দুর্ধর্ষ একজন ধর্ষক।
যে আমি গারো তরুণীকে ধর্ষণ করি,
ধর্ষণ করি নিরীহ আশ্রয় প্রার্থীকে।
আমি হয়েছি ধর্ষক পুলিশ সদস্য,
স্ত্রীকে বেদম প্রহারকারী সেনা
আর হয়েছি এই সমাজের সিরিয়াল কিলার।
নিজ হাতে খুন করেছি ভোরের শিশির সিক্ত
টগর,বেলী,শিউলি আর রক্তজবাকে।
আমি হয়েছি ঘুষখোর,সুদখোর আবার
কখনও মদ্যপ এমপি পুত্র।
ভূমি দস্যু হয়ে ভিটেমাটি ছাড়া করেছি
চার সন্তানের জননী তোমাদের টেলিভিশন, পত্রিকায়
নাম না আসা অসহায় এক বিধবা নারীকে।
আমি হয়েছি হাভানা চুরুট মুখে ভন্ড বিপ্লবী,
চে’এর বিপ্লবী মুখের ছাপ দেয়া টি শার্ট পরে
আধারে বিক্রি হওয়া কমরেড।

আমি চাইনি কোন অমিতের লাবন্যকে দেখলেই
সাপের লিকলিকে জিহ্বা বের করে হাত চেপে ধরি,
তবুও এমনটা কেন হলাম?বলতে পারিস, মা?
এর চেয়েও ভাল ছিল বহু পুরুষে
দলিত স্তন যদি হতাম কোন সংগ্রামী বেশ্যার।

আমি চেয়েছিলাম সত্যিকারে মানুষ হয়ে
তোর সব ব্যাথাকে বিদায় জানাতে মা,
চেয়েছিলাম পেন্সিল-কলম আর বই-খাতা হাতে
মেঠো পথ ধরে স্কুলে যেতে,
বিশাল সাদা ক্যানভাসে রঙ তুলির ছোয়ায়
তোকে আঁকতে,
চেয়েছিলাম প্রতিটা মহল্লায় একটা করে
পাঠাগার গড়ে উঠুক,নতুন কর্মসংস্থান হোক
সবাই জীবন ও জীবিকা পাক।

আমি জানি আজ আর তোর দরকার নেই আমাকে
শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি মুজিব হয়ে স্বাধিনতা দেবার ,
দক্ষ তাজউদ্দীন হয়ে যুদ্ধকালীন সরকার চালানোর,
একটা গীতাঞ্জলী লিখে বিশ্ব কবি হবার;
সে প্রয়োজন আমি মিটিয়েছি অনেক আগেই
এখন হতে চাই খুব সামান্য কিছু।

আমাকে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ দে মা
কাজ পেলেই এই ছোট্ট ঘরের ভাড়া দিয়ে
চারটে খেয়ে নতুন আরেকটি কবিতা লিখতে পারি।
মাতাল এমপি পুত্র হতে চাই না
আমাকে তুই একটি আদর্শ সমাজ দে,
ধর্ষক আর খুনি হতে চাই না
আমি শিশুর পবিত্রতা নিয়েই মরতে চাই
আমাকে তুই ভালবেসে অ,আ শেখা আর দু মুঠো ভাত দে।

আমাকে তুলি আর প্লেট ভর্তি রঙ দে মা।
বই,খাতা,পেন্সিল আর রঙতুলি পেলেই
আমি একজন মাদার তেরেসা হয়ে উঠি,
শাহবাগ মোড়ে পাবলিক লাইব্রেরী দেখলেই
খেয়ালী কবি অথবা জগদীশ চন্দ্র হতে ইচ্ছে করে,
ইচ্ছে করে ব্রক্ষ্ম গুপ্ত হয়ে শূন্য নিয়ে খেলি
আর প্রেমিকার খোপায় কাঞ্চন ফুল গুজে বলি
লক্ষ কোটি নক্ষত্রের মাঝে তুমিই আমার প্রথম ও শেষ চাওয়া।
আমাকে একটা স্বপ্ন দে মা
যেন সেই স্বপ্ন এঁকে হতে পারি
একজন জয়নুল আবেদীন ও এস.এম সুলতান।

বার বার ফিরে আসা তারুণ্যে
হিপোক্রেট বিপ্লবী কমরেড হতে চাইনি,
আমি সব সময় সুকান্ত,রুমী
অথবা বিদ্রোহী নজরুল হতে চেয়েছিলাম।
তবুও আমি এতটা ভন্ড কি করে হলাম মা?
আমি তো চেয়েছিলাম তোর মতই একটা
নীলচে সাদার সদ্য ফোটা শাপলা হতে।

আমার ভাবনায় নানান কিছু এলোমেলো ভাবে আসতে শুরু করে। একজন বঙ্গবন্ধু হওয়ার চেষ্টা বৃথা তাই বলে কি একজন সাধারণ দেশ প্রেমিক হতে পারব না আমরা? রবীন্দ্র, নজরুল, শরৎ না হতে পারি একজন সাদামাটা লেখক হতে পারব না? নতুন করে কেন হুমায়ূন আহমেদ,হুমায়ূন আজাদ,সুনিল গঙ্গোপাধ্যায়, নির্মলেন্দু গুণ,মুহাম্মাদ জাফর ইকবাল,  আমাদের মাঝ থেকে উঠে আসবে না?এফ আর খান,হামিদুর রহমান, নিতুন কুন্ডু এর মত স্থপতি আমরা আর কেন পাব না?

এখন আমাদের সাত বীরশ্রেষ্ঠ হতে হবে না, শহীদুল্লা কায়সার হতে হবে না,আলতাফ মাহমুদ হতে হবে না,একজন রুমী হতে হবে না;সাধারণ একজন দেশ প্রেমিক হলেই এই দেশটা জাতির পিতার সোনার বাংলা হবে,রবীন্দ্রনাথের সোনার বাংলা হবে।

ব্রক্ষ্ম গুপ্ত এই উপমহাদেশেরই মানুষ ছিলেন। সেই প্রাচীন কালে তিনিই প্রথম শূণ্যকে সংখ্যার মর্যাদা দিয়ে ব্যবহার করেছিলেন। ব্যাবিলনে প্রথম শূণ্যের আবিস্কার কিন্তু তারা শূণ্যকে সংখ্যার মর্যদা দিতে পারে নাই। সংখ্যার মর্যদা দিয়েছে আমাদের আর্য ভট্ট,ব্রক্ষ্ম গুপ্তরা। তাহলে আমরা কেন এই আধুনিক সমাজে জ্ঞানের এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারছি না?

দিনদিন আমরা হয়ে উঠছি ধর্ষক,প্রতারক,ঘুষখোর,ছিনতাইকারী,সিরিয়াল কিলার,বোমাবাজ, ভন্ড নেতা, উগ্রপন্থী, চরমপন্থী,সাম্প্রদায়িক কিন্তু কেন এই পরিণতি আমাদের? আমাদের তো ছিল সুন্দর ইতিহাস।আমাদের ছিল বিজ্ঞানী,লেখক,দেশ প্রেমিক নেতা,শিল্পী,ধর্ম যাজক,ফকির-সন্ন্যাসী। আমাদের তো এমন হওয়ার কথা না?

এর কারন ও সমাধান বিশ্লেষণে গেলে আমরা অনেক কিছু খুজে পেতে পারি।আমি সমাজ বিজ্ঞানী না, আমার সাদা চোখে যা আসে তাই বলে ফেলি।

এক. বিচারহীনতাঃ যে সব অপরাধ ঘটছে তার বিচার আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আবার কখনো দুই একটার  বিচার হলেও আমরা(বিশেষত মিডিয়া) তা সেই ভাবে প্রচার করছি না যেভাবে অপরাধ প্রকাশ পাওয়ার সময় প্রচার করেছি।যেমনঃ মিডিয়া খুন বা ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হবার পর যেভাবে প্রকাশ করে সেই ভাবে বিচার হবার পর প্রকাশ করে না।সমাজে বিচারের উদাহরণ সৃষ্টি করতে হবে প্রতিনিয়ত।তাহলে একটি সুন্দর শাসন ব্যবস্থার অবতারনা ঘটবে যা সব ধরণের অপরাধকে নিরুৎসাহিত করবে।”আইনের চোখে সবাই সমান” এই বাক্য বই থেকে বেড় করে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে।

দুই.কর্মসংস্থানঃ রাষ্ট্র কর্তৃক পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান করতে হবে। সেই সাথে একটি বিনিয়োগ বান্ধব অর্থনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে বেসরকারী উদযোগে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন কারন কাজের অভাবেই তরুণেরা নানান অপরাধে জড়িয়ে পরে। একজন ছেলে অথবা মেয়ে শিক্ষা জীবন শেষ করে যদি তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায় তবে সে বিপথে যাবে না এটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়।মনে রাখতে হবে কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা সামাজিক নিরাপত্তার সহায়ক শক্তি হিসাবে কাজ করে। 

তিন.শিক্ষা ব্যবস্থাঃ

নৈতিক শিক্ষাঃ রাষ্ট্র যথাযথভাবে নৈতিক শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে পারছে না সমাজের সকল স্তরে।যা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।এ ক্ষেত্রে মানবতার বীজ বপন করতে হবে সবার মাঝে, মহৎ মানুষের গুণাবলী শিক্ষা দিতে হবে,সেই সাথে ধর্মীয় শিক্ষাও দিতে হবে। কারন সব ধর্মই শান্তির কথা বলেছে।নৈতিক শিক্ষা বিকাশে পরিবারের পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও ভূমিকা নিতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে গড়ে তুলতে নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি হিসাবে। এক্ষেত্রে পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রিয়ভাবে সর্বত্র পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে।আমাদের শিশু,তরুণ সহ সব বয়সী মানুষকে পাঠাগারে যেতে উৎসাহিত করতে হবে। ব্যাক্তি উদযোগে গড়ে উঠা ”বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র” প্রশংসার দাবী রাখে। এমন উদযোগ আরো বেশী করে নিতে হবে। আমরা রাজশাহীর পলান সরকারের কথা জানি যে বাড়ী বাড়ী গিয়ে বই বিলি করেন।তিনিও  প্রশংসার দাবী রাখেন।নৈতিক শিক্ষাই ভাল-মন্দের তফাৎ শেখায়,অসাম্প্রদায়িক হয়ে সবাই মিলে সুখে শান্তিতে বাচতে শেখায়।

নৈতিক শিক্ষাই একজন মানুষকে প্রতারক,ভন্ড,ছিনতাইকারী,ধর্ষক,ঘুষখোর ও যে কোন দূর্নীতিপরায়ন হয়ে উঠতে বাধা দেয়।

জ্ঞান তৃষ্ণা সৃষ্টি: সমাজে জ্ঞান তৃষ্ণা সৃষ্টি করতে হবে। নানান বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রকল্প হাতে নিয়ে আমাদের দেশকে বিজ্ঞান মনষ্ক জাতি হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে। স্কুল,কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষনার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।পৃথিবীর যে কোন দেশে নতুন নতুন জ্ঞানের সূচনা হয় গবেষনাগারে অথচ আমাদের দেশে স্কুল,কলেজ তো দূরের কথা বিশ্ববিদ্যালয়েও গবেষনার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। এমন কি বাজাটেও গবেষনার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকে না শিক্ষা খাতে। জ্ঞান-বিজ্ঞানে আগ্রহী করে তুলতে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত সন্মান ও সন্মানী দিতে হবে।যাতে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসে।প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শিল্প,সাহিত্যের সূতিকাগার হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। শিল্প, সাহিত্যের জ্ঞান ছড়িয়ে দেবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়,পাঠাগার,স্কুল,কলেজ ভিত্তিক নানান প্রচেষ্টা হাতে নেয়া যেতে পারে। যেমনঃ পাঠচক্র আয়োজন করা যেতে পারে।

যে মানুষ জ্ঞান,বিজ্ঞান,গবেষনা,শিল্প ও সাহিত্যের সাথে জড়িত, যার ভাবনা ও কল্পনার আকাশ আছে সে কখনও খুনি ও ধর্ষক হয়ে উঠতে পারে না।

যৌন শিক্ষাঃ আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা যথাযথ যৌন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যৌন শিক্ষা দেয়া হয় না।যার ফলে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা যৌনতা সম্পর্কে অজ্ঞতা নিয়ে বড় হচ্ছে। তারা ঝুকে পরছে পর্নের মত বিভিন্ন খারাপ মাধ্যমে যা তাদের সুস্থ মনোদৈহিক বিকাশের অন্তরায়। এ থেকেই জন্ম নিচ্ছে স্যাডিজমের মত মারাত্নক ধারণা যা তাদেরকে একজন সম্ভাব্য ধর্ষক হিসাবে গড়ে তুলছে আর নারীকে মানসিকভাবে গড়ে তুলছে সম্ভাব্য শিকার হিসাবে।

আমরা যদি এসব নিশ্চিত করতে পারি তবে অবশ্যই একটি সুখি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে পারব। আবার আমরা দেশ প্রেমিক,লেখক,বিজ্ঞানী,গণিতবিদ ও শিল্পী খুজে পাব।আমি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে দেশের আনাচে কানাচে থেকে উঠে আসবে নানান প্রতিভা।দেশ হবে অসাম্প্রদায়িক, অর্থনৈতিক ভাবে শক্ত ও দূর্নীতি মুক্ত। যেখানে থাকবে সম্পদের সুষম বন্টন ও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান।

তানজির খান
কবি,ব্লগার ও বেকার
mtanzirrgreat@gmail.com