ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

আমাদের ভালবাসার দুবলিয়া ছায়া-সুনিবিড়, মাটির পরতে পরতে যেখানে ভালবাসা জমে আছে। দুবলিয়ার কথা মনে হলেই দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বিখ্যাত গানের কথা মনে পড়ে যায়।

ধন ধান্য পুষ্প ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা,
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা,
ওসে স্বপ্ন দিয়ে তৈরী সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা।
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি,
সে যে আমার জন্মভূমি, সে যে আমার জন্মভূমি।

কাঠের তৈরী তৈজসপত্র

মাটির তৈরী কামরাঙ্গা, পেপে, কুমড়া, রমণী……

 

এক সময় যে জনপদ ছিল অবহেলিত, অর্থনৈতিকভাবে যা ছিল পঙ্গু তা আজ সারাদেশের জন্য আদর্শ একটি গ্রাম হয়ে উঠেছে। অন্ধকার একটি সমাজ কিভাবে বদলে যেতে পারে তার সবচেয়ে ভাল উদাহরন হতে পারে দুবলিয়া।অস্থির গ্রাম্য-রাজনীতি এক সময় জেঁকে বসেছিল যে জনপদে, তা আজ মুক্ত।যা সম্ভব হয়েছে শুধু মাত্র অর্থনৈতিক মুক্তি আর শিক্ষার প্রসারের ফলে। শিক্ষা প্রসারে অনন্য অবদান রেখে যারা আজকের এই আধুনিক দুবলিয়া্র স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন, রেখেছেন কার্যকারী ভূমিকা, তাদের মাধ্যে অন্যতম মরহুম নওশের আলী মন্ডল,বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম লুৎফর রহমান খান এবং মাহাতাব উদ্দীন বিশ্বাস।আর দুবলিয়ার অর্থনৈতিক মুক্তির ক্ষেত্রে সহায়ক নিয়ামক হিসাবে কাজ করেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম্য মেলা। যা সারাদেশে দুবলিয়ার ব্যবসা, বাণিজ্যের জন্য বিশাল বাজার তৈরী করেছে।বিশেষ করে সারাদেশ থেকে আসা ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক (যোগাযোগ) তৈরীতে এই মেলা প্রধান নিয়ামক হিসাবে কাজ করে।যার সুফল পেয়েছে দুবলিয়ার স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। দুবলিয়ায় আসবারপত্র ব্যবসাকে ঘিরে গড়ে উঠছে বিশাল এক শীল্প। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পেয়েছে পণ্য বিক্রয়ের জন্য সারাদেশময় বাজার। দেশের বিভিন অঞ্চল থেকে আসছে কাজের ফরমায়েশ। খুব সহজেই বলা যায় এই মেলা একটি গ্রামীণ জনপদকে করেছে আধুনিক ও অর্থনৈতিক ভাবে মুক্ত।যা মানুষে মানুষে বিভেদ ভুলিয়ে দিয়েছে। এই মেলার সামাজিক মূল্যও অনেক।নৌকা বাইচ ঘিরে যে মেলার প্রচলন হয়েছিল তা কালের পরিক্রমায় দূর্গা পূজার দশমীর ঠিক পরের দিন শুরু হয়। যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখে চলেছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা,ভালবাসা,সমর্মিতা ও সহনশীল সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠার পেছনে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক মুক্তি প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

ছবি পাঠিয়েছেন ফটোগ্রাফার সারফুল আলম খান টুটুল।

12170650_917216741665441_997903614_n

আমাদের অসাম্প্রদায়িক দুবলিয়া

12180111_917359108317871_1138031154_n

মাটির তৈরী হরেক রকম খেলনা

12180111_917359074984541_477969274_n

মেলার বাহারি পণ্য

12179528_917359101651205_1887504083_n

মেলায় সবার প্রিয় আব্দুল্লাহ কাকার স্টল।

12179214_917359178317864_285543625_n

খেলনা, আমাদের শৈশব মিশে আছে এখানে।

12179720_917359508317831_1633802676_n

পুতুল

12179582_917358908317891_664337561_n

বাহারি পণ্য, রেশমি চুড়ি; যেথায় অভিমান ভাঙে রমণীর।

12179319_917359864984462_502844422_n

সাজগোছ, শামুকে তৈরী পণ্য

12179391_917358731651242_759935555_n

বাহারি খেলনা, আমাদের শৈশব আছে যেথা মিশে।

12179420_917358961651219_229862847_n

ফুল ও ফুলদানি

12179033_917358941651221_654660710_n

সাংসারিক কাজে ব্যবহৃত পণ্য

12178317_917358824984566_988021799_n

সাজগোছ, খেলনা

12178279_917359458317836_585950998_n

পুতুল

12178131_917358794984569_318133406_n

শামুকে তৈরী পণ্য

12170642_917358758317906_668714123_n

মাটি দিয়ে তৈরী

12170738_917359488317833_1532837227_n

খেলাপাতি

12177824_917359674984481_1182558509_n

কাঠ দিয়ে গড়া পণ্য

12170545_917359591651156_595953827_n

সাত সতেরো

12179645_916547048399077_646109239_n

বাহারি মিষ্টি

12170176_917358561651259_2016267909_n

চানাচুর ভাজা, মিষ্টি খাবার

12178033_916545431732572_221333287_n

খাট

12170741_916544748399307_1078694418_n

কাঠের তৈরী খেলনা

12168128_916545545065894_642028413_n

কম্বল

12170188_916544768399305_294251329_n

খেলনা

12166133_916547221732393_1922304267_n

জিলাপি

 

তানজির খান
কবি, ব্লগার ও নাগরিক সাংবাদিক
mtanzirkhan@gmail.com