ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

যৌন স্বাধীনতা বলতে বেশীরভাগ মানুষই যা বোঝেন তা হল ”যত্রতত্র যার তার সাথে যৌনাচারে লিপ্ত হওয়া”। আমরা যখন যৌন স্বাধীনতার কথা বলি তখন কি এর মানে ধর্ষণ করবার স্বাধীনতা বোঝায়?যৌন স্বাধীনতা মানে কি বাছবিচারহীনভাবে পশুর মত যার তার সাথে যৌনাচারে লিপ্ত হওয়া? এর মানে কি আমাদের ভালবাসার আবেগ অনুভূতির বিলুপ্ত হওয়া? যৌন স্বাধীনতা মানে কি ভালবাসার বিসর্জন নাকি এর মানে লাম্পট্য? নাকি বহুগামীতা? নাকি যৌন স্বাধীনতা বলতে এসবই বোঝায়?

যৌন স্বাধীনতা বুঝতে গেলে আগে সবাইকে ”স্বাধীনতা” শব্দের অর্থ বুঝতে হবে।একই সাথে স্বাধীনতা কখন প্রয়োজন হয় সেটিও বুঝতে হবে।স্বাধীনতা শব্দের সহজ সরল অর্থ হলো বাধাহীন ভাবে কোনো কিছু করতে পারা।স্বাধীনতা এমন একটি অবস্থা যেখানে কেউ বাধাপ্রাপ্ত হবেনা। ”পরাধীনতা” থেকেই স্বাধীনতার দাবী আসে।তবে প্রকৃত স্বাধীনতা কি জানতে হলে আমাদের আরও কিছু বিষয় বুঝতে হবে।

আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষনা পত্রে স্বাক্ষরকারী ও তৃতীয় রাষ্ট্রনায়ক থমাস জেফারসন এর মতে “ন্যায় সঙ্গত স্বাধিনতা হচ্ছে আমাদের ইচ্ছে অনুযায়ী অবাধ কর্ম যা অন্যের সমঅধিকার দ্বারা সীমাবদ্ধ’’। অর্থাৎ প্রকৃত স্বাধীনতায় কোন একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির স্বাধীনতা কখনই অন্যের স্বাধীনতাকে খর্ব করবে না।আমরা ততক্ষণ পর্যন্তই আমাদের ইচ্ছে অনুযায়ী কিছু করতে পারব যতক্ষণ না তা অন্যকে আঘাত করে।

তাই এটা সহজেই বলা যায় যে এক জনের যৌন স্বাধীনতা কখনই অন্যের যৌন স্বাধীনতাকে খর্ব করবে না। যৌনতায় আপনি ততক্ষণ পর্যন্তই স্বাধীন যতক্ষণ না তা অন্যের যৌন স্বাধীনতার সীমা লঙ্ঘন করবে না। স্বাধীনতার সীমা সর্বদাই অন্যের স্বাধীনতার সীমারেখা দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে। যৌন স্বাধীনতার ধারনা সংজ্ঞায়িত করলে বলতে হয় ”যৌন স্বাধীনতা হল মানুষের মৌলিক অধিকার যা একজন ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত যৌন অভিরুচি প্রকাশ করে। এটি মানবিক আত্ন মর্যাদা ও যৌন ইচ্ছায় যৌন সঙ্গীদ্বয়ের মাঝে সমতা প্রকাশ করে। যৌন স্বাধীনতার মূল চেতনা হচ্ছে কারো ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর পূর্বক যৌন চাহিদা চরিতার্থ না করা।” আবার বেশীর ভাগ মানুষ ভুল ধারনা পোষন করে যৌন স্বাধীনতা বলতে বহুগামীতা বোঝে। কিন্তু একজন বহুগামী মানুষও যৌন স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নাও হতে পারে, সে যদি তার যৌন ইচ্ছা বল প্রয়োগের মাধ্যমে চরিতার্থ করে থাকে, সঙ্গীর ইচ্ছে আমলে না নিয়ে। একইভাবে একজন ব্যক্তি, যে কিনা একজন যৌন সঙ্গীতে বিশ্বাসী সেও যৌন স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হতে পারে।সে যদি তার একমাত্র যৌন সঙ্গীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে তার ইচ্ছে চাপিয়ে না দেয়, সে ব্যক্তি অবশ্যয়ই যৌন স্বাধীনতায় বিশ্বাসী মানুষ হিসাবে বিবেচিত হবে।কারন তিনি এই একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপারে সঙ্গীর মতামতকে গুরুত্ব দেন।কেউ যদি বলেন তিনি স্বাধীন নন কারন তিনি একজন সঙ্গীর সাথেই শুধু মাত্র বিছানায় যান। তাহলে আমি বলব আপনার চিন্তায় গলদ আছে। পৃথিবীতে ধর্ম, বর্ন,সমাজ, রাষ্ট্র নির্বিশেষে এমনো মানুষ আছেন যারা শুধু মাত্র একজন ব্যক্তির মাঝেই যৌন আকাঙ্খা খুজে পান।যার প্রমাণ অহরহ রয়েছে। একেক জনের চিন্তা ভাবনা একেক রকম।কেউ একজন সঙ্গীতে সুখি হবেন কিনা সেটা একান্ত ব্যক্তিগত মানসিক বৈশিষ্ট্য।ঠিক বিপরীত ভাবে একজন সঙ্গীতে বিশ্বাসী ব্যক্তি যদি যৌনতার ক্ষেত্রে তার সঙ্গীর ইচ্ছের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব না দেয় তাহলে সেও হবে যৌন স্বাধীনতায় অবিশ্বাসী মানুষ। তাই এটা বলা যায় না যে বহুগামীতার অপর নাম যৌন স্বাধীনতা।বহুগামীতা একজন মানুষের বৈশিষ্ট্য, এটা কখনই যৌন স্বাধীনতার সমার্থক শব্দ নয়। মূলত যৌন স্বাধীনতা বলতে যৌন সঙ্গীর সংখ্যা নয়, যৌন সঙ্গীর ইচ্ছের মর্যাদা দেয়া বোঝায়। এটাই হল যৌন স্বাধীনতা।যা আমাদের সমাজের অনেকেই বুঝতে চান না বা পারেন না। যিনি যৌন স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না তিনি একজন নিপীড়ক।

ইসলামের দৃষ্টি থেকে যদি যৌন স্বাধীনতার ধারনাকে বিশ্লেষন করা যায় তবে সেখানেও দেখতে পাব যৌন স্বাধীনতার সাথে ধর্মের কোনো বিভেদ নেই। ইসলাম সব সময়ই পুরুষ ও নারীকে তার স্ত্রী ও স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে বলেছে।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ“পূর্ণ ঈমানদার সেই ব্যক্তি যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। আর তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।”তিরমিযীঃ ১১৬২; হাদীস সহীহ, সিলসিলাহ ছহীহাহঃ ২৮৪।

সুতরাং যে তার স্ত্রীর ইচ্ছের বিরুদ্ধে পীড়া দিয়ে নিজ কামনা হাসিল করে সে কখনই ঈমানদার ব্যক্তি হতে পারেনা। একজন নিপীড়ক ব্যক্তি কখনই তার স্ত্রীর কাছে উত্তম ব্যক্তি হতে পারেন না।আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কোনদিন নিজের স্ত্রীদের গায়ে হাত তোলেনি নি, তাদেরকে গালি দেন নি, অন্যায়ভাবে কটু কথা বলে তাদেরকে কষ্ট দেন নি।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ“শুধুমাত্র সম্মানিত লোকেরাই নারীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করে। আর যারা অসম্মানিত, নারীদের প্রতি তাদের আচরণও হয় অসম্মানজনক।” সুনানে আত-তিরমিযী।

তবে সমালোচকেরা একটি হাদিসের কথা উল্লেখ করে দাবী করে থাকেন ইসলামে নারীর যৌন ইচ্ছার মর্যাদা দেয়া হয় নাই। যেমন একটি হাদিস আছে যেখানে বলা হয়েছে ”যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে (যেমন- সঙ্গম করার জন্য), আর সে প্রত্যাখান করে ও তাকে রাগান্বিত অবস্থায় ঘুমাতে বাধ্য করে, ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত তাকে অভিশাপ করতে থাকে।” [বুখারি, ইংরেজি অনুবাদ ভলি- ৪/বুক-৫৪/৪৬০]

এই হাদিসটিতে মূলত বলা হয়েছে ওই ক্ষেত্রের কথা, যেখানে কোনো বৈধ কারন ছাড়াই স্ত্রী স্বামীর ডাকে সাড়া দেয় না অথবা স্ত্রী তার সঙ্গকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে স্বামীর বিরুদ্ধে তার (স্ত্রীর)ব্যক্তিগত চাওয়া পূরণের জন্য।এই হাদিস আরেকটি বিষয় পরোক্ষভাবে তুলে নিয়ে আসে তা হলো নারী ও পুরুষের শারীরিক, মানসিক চাহিদার ভিন্নতা।আধুনিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষনা বলছে নারীর যৌন চাহিদা আবেগী অনুভূতি থেকে আসে।তাদের যৌন চাহিদা শরীরের চাইতে মানুষিকভাবে বেশী প্রভাবিত।নারীর যৌনতার ব্যাপারে সঙ্গীর সাথে পারস্পারিক মানুষিক সংযুক্তি নিয়ামক ভূমিকা হিসাবে কাজ করে। যেখানে পুরুষের যৌন চাহিদা শারীরিক ফ্যাক্টর দ্বারা প্রভাবিত হয়। উদাহরণ সরূপ বলা যায়, একজন পুরুষ আবেদনময়ী কোন নারীর সংস্পর্শে আসলে ওই নারী তার যৌন আগ্রহের কারন হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে যৌন আগ্রহের বিষয়ে সবচেয়ে বেশী ভূমিকা পালন করে সম্ভাব্য সঙ্গীর সাথে তার সম্পর্ক ও মানুষিক সংযুক্তি।

গবেষনায় উঠে এসেছে

Men continue to report higher levels of extramarital sexual activity, and they appear to think more often about sex, though certainly not nearly to the degree that is commonly believed (Fisher, Moore, & Pittenger, 2012)

আমেরিকার বিখ্যাত মনোবিদ ড. জেমস ডবসন বলেন “নারীর বুঝতে পারা উচিৎ কিভাবে তদের যৌন আকাঙ্খা তার সঙ্গীর থেকে আলাদা হয়। যখন যৌন সাড়া অবরুদ্ধ হয়, তখন পুরুষ পুঞ্জিভূত শারীরবৃত্তীয় চাপ অনুভব করেন যা সে প্রশমনের সন্ধান করে’’।

তিনি আরো বলেন “সেমিনাল ভেসিকলস( seminal vesicles) ক্রমান্বয়ে পূর্ণ হয়ে চুড়ান্ত সীমায় পৌছালে হরমনের প্রভাব পুরষকে যৌন উদ্দীপনায় সুগ্রাহী করে তোলে।একজন স্ত্রী সামান্য আগ্রহের, যখন পুরুষ পরিতৃপ্ত। পক্ষান্তরে তার উপস্থিতি পুরুষের কামনার উদ্রেক ঘটাবে যখন সে (পুরুষ)প্রকট অভাববোধ(যৌনতার) করবে।কম যৌন উৎসাহী স্ত্রীর তার স্বামীর যৌন অভিরুচি হৃদয়গমে সমস্যা হতে পারে যেহেতু তার চাহিদা(যৌন) সাধারণত কম প্রবল।তার(স্ত্রীর) উপলব্ধি করা উচিৎ যে তার স্বামীর আকাঙ্খা সুনির্দিষ্ট প্রাণরাসায়নিক শক্তি দ্বারা বিন্যাসিত।স্ত্রী যদি তাকে(স্বামী) ভালবাসে সে অর্থপূর্ণ ও নিয়মিতভাবে তার আকাঙ্খা পূরণ করবে।আমি অস্বিকার করছি না যে নারীর সুনির্দিষ্ট যৌন চাহিদা নেই যা পরিতৃপ্তি চায়;বরং আমি শুধু ব্যাখ্যা করছি ঐ বিরতি(যৌন বিরতি) সাধারণত পুরুষের জন্য সহ্য করা কঠিন’’।

তাই কেন নারীর জন্য এমন হাদিস নেই সেই বিতর্ক মূল্যহীন কারন এটা প্রকৃতিগত।এই বিতর্ক এমন হাস্যকর হবে যদি কোনো দম্পতির দুইটা সন্তান থাকে আর তৃতীয় কেউ বিতর্ক তোলে যে স্বামীটি ন্যায়পরায়ণ নয় কারন সে দ্বিতীয় সন্তানটি নিজের পেটে ধারণ করে নাই।একজন নারীর “বায়োলজিকাল নিড’’ পুরুষের থেকে ভিন্ন।মেডিকেল সাইন্সে এটা প্রমাণিত।একজন নারী যতদিন সঙ্গহীন থাকতে পারেন ততদিন একজন পুরুষ সঙ্গহীন থাকতে পারেন না।

ইসলামে জোর পূর্বক যৌনতাকে উৎসাহিত করা হয় নাই স্বামী ও স্ত্রীর উভয়ের জন্যই। একটু লক্ষ করলেই বোঝা যায় এই হাদিসে স্বামীকে জোর জবরদস্তি করে তার ইচ্ছে পূরণে উৎসাহিত করে নাই।কোনো স্ত্রীর যদি স্বামীর ডাকে সাড়া না দেবার মত বৈধ কারন থাকে তবে অবশ্যয়ই এই হাদিস ওই স্ত্রীর জন্য প্রযোজ্য হবে না।ইসলামে স্বামী ও স্ত্রীর উভয়ের যৌন স্বাধীনতার গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

মহান আল্লাহতালা বলেছেন “আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না”                                                      [সূরা আল-বাকারাঃ২৮৬]।

সুতরাং ইসলামে যৌন স্বাধীনতার স্থান নেই এই ধারনা ভুল। এমন কি ইসলামে বহুগামীতাকেও শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদন দেয়া হয়েছে পুরুষের জন্য। ইসলাম একের অধিক স্ত্রী রাখা সমর্থন করে, যদি একজন ব্যক্তি প্রয়োজন বোধ করে। তবে এজন্য কিছু শর্ত আছে।যেমন শারীরিক ও আর্থিক সক্ষমতা, সকল স্ত্রীকে সম দৃষ্টিতে দেখা। ইসলাম যৌন স্বাধীনতা খর্ব করে নাই,ইসলামে শুধু বিধি নিষেধ আছে বিবাহ বহির্ভূত ভাবে যৌন সঙ্গী গ্রহন করার ক্ষেত্রে।কারন এতে সামাজিক অবক্ষয় ঘটে।নারীকে এই অধিকার দেয়া হয় নাই তার পেছনে যুক্তি সঙ্গত কারন রয়েছে।যৌনতার প্রধান উদ্দেশ্য নতুন প্রজন্মকে পৃথিবীতে এনে পৃথিবীকে বাচিয়ে রাখা এবং সেই সাথে নারী ও পুরুষের শারীরিক, মানসিক পরিতৃপ্তি লাভ করা।নতুন প্রজন্ম পৃথিবীতে আসলে পিতৃ পরিচয় জানা সেই সন্তানের অধিকার।ইসলাম যদি নারীর জন্যেও এটি বৈধ রাখত তবে সন্তান তার পিতার পরিচয় জানা থেকে বঞ্চিত হত।

ইসলামের সাথে যৌন স্বাধীনতার মূল চেতনার কোন বিরোধ নাই,বলা বাহুল্য যৌন স্বাধীনতার মূল চেতনা হলো যৌন জীবনে সঙ্গীর মতামতকে সম্মান করা, ইসলাম শুধু যৌন সঙ্গী নির্বাচনের সুসংহত পদ্ধতি বলে দিয়েছে সামাজিক ভারসম্য রক্ষার জন্য।কেউ যদি,একজন অথবা একের অধিক সঙ্গী রাখতে চায় তার জন্য পারিবারিক প্রতিষ্ঠান দাড় করানোর কথা ইসলাম বলেছে।যার ভিত্তি হবে সামাজিক স্বিকৃতি।এর ফলে সঙ্গীদের মাঝে আইনগত অধিকার জন্ম নিবে একে অপরের প্রতি যা সমাজের ভারসম্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য্য।যৌন স্বাধীনতা লাম্পট্যের প্রতিশব্দ নয় বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক বিরল নিদর্শন।যৌন স্বাধীনতা হলো আপনার স্ত্রীর বা সঙ্গীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ভালবাসা।

সমালোচকেরা ইসলামকে যে ধারনা থেকে অচল বলে চালিয়ে দিতে চান তা ভ্রান্ত ধারনার উপর প্রতিষ্ঠিত।ইসলাম সময়ের সাথে খাপ খেয়ে যায়। শুধু কোথায় কি প্রযোজ্য হবে সে বিষয়ে জ্ঞান রাখতে হবে।

অপর পক্ষে ইসলামের কিছু অনুসারি আছেন যারা নারীর মূল্যায়ন করতে জানেন না। তারা নারীর উপর একচ্ছত্র আধিপত্য দাবী করেন।নারীর যৌন চাওয়া সহ সকল চাওয়াকে অগ্রাহ্য করে যান সুচতুরভাবে যা ইসলামের মূল্যবোধের সাথে মেলে না। যে মুসলিম, নারীর যৌন ইচ্ছেকে অগ্রাহ্য করেন তিনি একজন নিপীড়ক ব্যতিত ভিন্ন কিছুই নন।

যে কোন ধর্মের মূলে রয়েছে স্রষ্টা প্রেম ও জীবে প্রেম।স্রষ্টার আরাধনা,ইবাদত এর সাথে প্রতিটি প্রাণের প্রতি সদয় হওয়ার জন্য প্রত্যেকটি ধর্ম গুরুত্ব আরোপ করেছে।একে অপরের প্রতি সহনশীল আচরণ করার কথা সকল ধর্মেই উচ্চারিত হয় বলিষ্ঠভাবে।শুধু স্রষ্টার আরাধনা ও ইবাদত করে স্রষ্টাকে সন্তুষ্ট করা যাবেনা।স্রষ্টাকে সন্তুষ্ট করতে চাই ইবাদত,সৎকর্ম,মানব প্রেম ও জীব প্রেম।

তানজির খান
কবি ও নাগরিক সাংবাদিক
ইমেইলঃ mtanzirkhan@gmail.com