ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

মানুষের জীবন নানা রকম জটিলতার মাঝ দিয়ে যায়। সময়ে মানুষ মহীরুহ আবার সেই মানুষই নিরুপায়। কতটা মানুষ অসহায় হয়ে পড়তে পারে তা বোঝা যায় অসুস্থ হলে।রক্ত সংগ্রহ ও রক্তদান নিয়ে আমার কিছু স্মৃতিকথা আছে। ছোটবেলায় সিনেমায় দেখেছি জসীম সাবানাকে বাঁচাতে রক্ত খুঁজছে এ ব্লাড ব্যাংক থেকেও ব্ল্যাড ব্যাংক কিন্তু পাচ্ছে না। সে কি অসহায় মুখের চাহনি থাকতো সেই সব অভিনয়ে। তখন ছোট ছিলাম তাই সেই বেদনা পুরোপুরি বুঝতে পারি নাইল। যখন এইচএইচসি পাস করে সবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি ঠিক তখনই আব্বা অসুস্থ হলেন। আমরা বুঝতে পারি নাই অসুখটা এত মারাত্মক।

হঠাৎ একদিন বিশ্ববিদ্যালয় যাবার পথে আব্বার ফোন থেকে কল আসলো। আমি ধরতেই একজন বললেন, তুমি কি তানজির? আমি একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে নিজেকে সামলিয়ে নিয়ে বললাম, আমার আব্বা কই? উনি বললেন তোমার আব্বা সেন্সলেস হয়ে পড়ে গেছেন অফিসে এসে। উনাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর শুনেই আকাশ ভেঙে পড়লো। সেই শুরু হল আব্বাকে নিয়ে রাজশাহী থেকে ঢাকা,ঢাকা থেকে বাড়ি আসা যাওয়া। তিন মাসের মাথায় আব্বা মারা গেলেন। কিন্তু এই তিন মাসে আমি অনেক শিক্ষা পেয়েছি জীবনের কাছ থেকে। অসুস্থ থাকা অবস্থায় আব্বা রক্ত বমি করতেন তখন আব্বাকে প্রায়ই রক্ত দিতে হত। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আব্বা। কিন্তু রক্ত যখন দিতে হত তখন দাতা খুঁজে পাওয়া যেত না। নিজের আত্নীয় স্বজনের রক্ত দেয়ার পালা শেষ হলে পড়লাম আরেক বিভীষিকায়। সেই সময় কাছে, দূরের অল্প পরিচিত, বেশী পরিচিত সবার সাথে যোগাযোগ করতাম রক্তের জন্য।সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সব বন্ধুরা ছিল তাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। তারাও রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। মনে আছে আমার এক দূর সম্পর্কের আত্নীয়ের সাথে একজন সুদর্শন লোক এসেছিলেন রক্ত দেবার জন্য।

সেই সময় রক্ত খুব দরকার ছিল। উনি রক্ত দিয়ে আমার সাথে খুব ভাল করে কথা বলেছিলেন সান্ত্বনা দিয়ে। আমি অনেকটা একা আব্বাকে নিয়ে চিকিৎসা  করিয়েছি অপরিচিত ঢাকায়। সেই সময়ের কথা এখনও মনে পড়লে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠে।