ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

অনেক হতাশা থেকে লিখতে বসা। প্রত্যেকটি বিষয় এর যুক্তিযুক্ত সমালোচনা বিষয়টিকে করে তোলে অনেক বেশি গ্রহনযোগ্য আর নিখুঁত। কিন্তু আমরা মনে হয় সব বিষয় ছেড়ে নারীর পোশাক নিয়ে মেতেছি। আমাদের সকল যুক্তি আলোচনা, সমালোচনা এখন পোশাকবদ্ধ। শালীন আর অশালীন পোশাকের পার্থক্য নিরূপণে আমরা বুদ্ধি যুক্তি আর ধর্ম ব্যবহার করছি। পোশাক স্বাধীনতা আমাদের কতটুকু??? আমরা কতটুকু স্বাধীন?? নাকি আমাদের ধর্ম, কৃষ্টি কালচার শুধু নারী নিবদ্ধ???

জাফর ইকবাল সাহেবের মেয়ের ছবি দেখলাম কোন এক ব্লগে। সাথে অনেক মন্তব্য। বলাই বাহুল্য যার অধিকাংশ ন্যাক্কারজনক। আমি হলফ করে বলতে পারি ঢাকা শহরের অনেক মেয়ে এর থেকে খোলামেলা পোশাক পরে। তবে তার মেয়েকে ধিক্কার দেবার কি দরকার?? নাকি উনি জাফর ইকবাল এর মেয়ে এটাই তার অপরাধ??? জাফর ইকবাল মুক্তমনা,প্রগতিশীল সমাজ গঠন এ সচেষ্ট, আমরা কি এই কারনেই তাকে আক্রমন করব??? অনেকে তাকে ইসলাম হেয় করার অভিযোগ এ অভিযুক্ত করল। তুলনা করল ধর্মের সাথে। আমার কথা হল ইসলাম আর জাফর ইকবাল কি তুলনীয়??? আমরা কি কুপমুণ্ডূক হয়ে যাচ্ছি না দিন দিন???

ফেইসবুক নামক সাইটে এখন তর্ক বিতর্ক যুক্তি পাল্টা যুক্তি দেয়া নেয়া হয়। স্বাগত জানাই। কিন্তু আমরা যখন কিছু বিষয় নিয়ে নগ্ন উল্লাস করি, বিকৃত লালসায়ে মাতি, তখন জাতি হিসাবে নিজেদের অনেক ছোট মনে হয়। কানিজ আলমাস, পরিমল, জাগো গ্রুপ এর ছবি, উদাহরন আছে আর অনেক। আমরা এই সাইট গুলোতে গালাগালি করতেও ঘৃণা বোধ করি না। আমরা চিন্তা করি না, একটা মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে টানাটানি করা শোভনতার পর্যায়ে পরে না। প্রখ্যাত চিত্র শিল্পি ডা ভিঞ্চি একজন সমকামি ছিলেন, ছিলেন অতিরিক্ত এলকোহল অনুরাগী, তাই বলে আমরা কি তার সৃষ্টি কে অস্বীকার করব?? মিখাইল গরভাচেব ভদকার বোতল নিয়ে মঞ্চে উঠতেন ভাষণ দিতে,তাই বলে কি রাশিয়ানরা তাকে গালি দেয় নাকি অপছন্দ করে??? আমরা কি ভুলে যাই নারীরা আমাদের এই অংশ, তাদেরকে হেয় করে আমাদের প্রগতি সম্ভব নয়। একটি নারী কেন তার সস্তিদায়ক পোশাক পড়তে পারবে না??কেন তাকে হতে হবে হাজার হাজার পুরুষ চোখের ভোগের শিকার?? কেন তার ছবিতে পরবে গালাগালি আর অশোভন মন্তব্য??? আমরা কি ভুলে যাই তারামন বিবি, সেতারা বেগম এর কথা?? তারা তো পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিল। আমরা কি তাহলে দিনে দিনে পিছিয়ে পড়ছি?? ভোগবাদী সমাজ কি নারী কে পণ্য করে দিল??

ধরুন আপনি বাস এ বসে আছেন। আপনার পাশের সহযাত্রী আপনাকে জিজ্ঞাসা করল আপনি কি রঙের অন্তর্বাস পড়ে আছেন,তখন আপনার কেমন লাগবে?? ঠিক তেমনি নারীর পোশাক সমালোচনায় আমাদের অতি উৎসাহ বিরক্তির সৃষ্টি করছে জনমনে। পোস্ট পড়ার পড় জানি ধর্মের দোহাই দিবেন। আমার দিকে বাঁকা চোখে তাকাবেন। নাস্তিকতার গন্ধ পাবেন। কিন্তু তারপরেও আমাদের বিকৃত লালসা, আর নারী আক্রমন বন্ধ হবে না। আমরা তাদের হেয় করতেই থাকব,উদ্ধার করতে থাকব আমার সমাজ আর তথাকথিত কালচার কে। রাশিয়াতে একটা প্রবাদ রয়েছে, সব পুরুষের মধ্যে একটা পশু রয়েছে, আমরা কেউ কেউ সেই পশু টাকে বিড়াল এর পর্যায়ে রাখতে পারি, কারো কারো পশু বেড়িয়ে আসে হায়েনা রুপ ধরে।

তাই বলি বন্ধ করুন এই অশোভন আচরন, গ্রহন করত শিখুন। আপনি আমি হাফ প্যান্ট পরলে,পশ্চিমা হই না, আর নারী পরলেই পশ্চিমা আগ্রাসন, ষড়যন্ত্র?? বলছি না সব নারীকে অর্ধনগ্ন হয়ে ঘুরে বেড়াতে হবে, বলছি আপনার মানসিকতা কে বড় করতে, বলছি আপনার পশুকে বেড়ি পরাতে।
মনে রাখবেন –

“যা কিছু মহান চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী
অর্ধেক তার নর”