ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

 

সুশান্ত কুমার পাল

রাজশাহী শহর থেকে কুড়ি কলোমিটার দূরে বরেন্দ্রভূমির মুখরিত জনপদ বসন্তপুরে এখনও পালদের বসবাস রয়েছে। এই গ্রামেরই একটি পাল পরিবারে জন্মগ্রহণ করনে সুশান্ত কুমার পাল আনুমানিক বছর পঞ্চাশেক আগে। ঠাকুরদাদা বন্যশ্বের পাল ছিলেন নামকরা কুমোর। তিনি পাকিস্তান আমলে প্রাদেশিক সরকারের কাছ থেকে পুরস্কার পেয়েছিলেন শখের হাঁড়ি তৈরি করে। তাঁর কাজ দেখে দেখে বড় হয়েছেন সুশান্ত। বাবা ভোলানাথ পালও ছিলেন শখের হাঁড়ি শিল্পী। মা সুধারাণী পাল স্বামী-শ্বশুড়ের কাজে সাহায্য করেছেন সব সময়। আজন্ম মাটির কাছাকাছি থাকা, মাটি ছেনেই বেড়ে ওঠা সুশান্ত পালের। কৈশোর কিংবা বলা চলে বাল্যেই কুলবৃত্তি গ্রহণ। এরপর দীর্ঘ চর্চা/সাধনা।

সুশান্ত পালের চিত্রকর্ম

সুশান্ত পালের চিত্রকর্ম

শখের হাঁড়ি আঁকায় সুশান্ত পালের মুন্সিয়ানা সহজাত। এই সহজাত প্রবৃত্তিকে কেন্দ্র করে ঢাকাস্থ সেন্টার ফর রিসার্চ অন আর্ট এ্যান্ড কালচার (সিআরএসি) তাকে ক্যানভাসে ছবি আঁকতে অনুপ্রাণিত করলে তিনি স্বতস্ফূর্তভাবে তা গ্রহণ করেন। সিআরএসি আয়োজিত একটি ওয়ার্কশপের পর সাবলীল স্বতঃস্ফূর্ততায় তিনি ক্যানভাসে ছবি আঁকতে শুরু করনে। ছবি আঁকার ক্ষেত্রেও তিনি শখের হাঁড়িতে আঁকা মোটিফকে প্রাধান্য দেন। সুশান্তর ছবির একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় উজ্জ্বল রঙয়ের ব্যবহার। লাল, সবুজ, নীলসহ প্রায় সব রঙই উজ্জ্বল। শখের হাঁড়ির মতো এক্ষেত্রেও তিনি ব্যবহার করেন মূলত প্রাকৃতিক রঙ; তবে কখনও কখনও বাজারের কেনা রঙও ব্যবহার করেন। এখনও প্রাকৃতিক রঙের ব্যবহার বিষয়ে যে কয়েকজন মানুষ জ্ঞাত রয়েছেন, সুশান্ত পাল তাদের মধ্যে একজন। তুলি বানান নিজের হাতেই; ছাগলের লোম দিয়ে। ক্যানভাসে ছবি আঁকলেও সুশান্ত পাল এখনও শখের হাঁড়ি আঁকেন।

‘গ্যালারী জলরং’ সুশান্ত পালের এই ভিন্ন মাত্রার কাজ দেখে তার ছবি নিয়ে প্রর্দশনীর আয়োজন করার উৎসাহ দেখায়। বাংলা বছরের শুরুতে জলরং এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিয়েছে। গ্যালারী জলরং এর এই আয়োজনে কিউরেটিং করছে সিআরএসি। শখের হাঁড়ি শিল্পী সুশান্ত পালের এই চিত্রপ্রদর্শনী সিআরএসি-জলরংয়ের যৌথ কর্মপরিকল্পনার প্রথম অংশ।

প্রদর্শনী বিষয়ক তথ্য:
উদ্বোধন: ৭ এপ্রিল/ বৃহস্পতিবার
সময়: সন্ধ্যা ৬টা
স্থান: গ্যালারী জলরং
বীরউত্তম খাদেমুল বাশার সড়ক
সড়ক#১১, বাড়ি# ৫৪, স্যুইট# ২বি
ব্লক# এফ, বনানি, ঢাকা- ১২১২

ফেসবুক ইভেন্ট