ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

যারা মনে করত বাংলার তরুনরা প্রতিবাদ করতে ভুলে গেছে তারা বাংলার তরুনদের ইতিহাস জানেন না,তারে জানেন না কিভাবে এই পতাকা-এই মানচিত্র আমাদের হল,তারা জানেন না এই শহীদ মীনার কিভাবে আমাদের স্মৃতির পাতায় নাম লেখাল। নাই বা জানলে সেই ইতিহাস- এবার শাহাবাগে এসো, দেখ বাংলার ত্বারুন্য কাকে বলে !! ইতিহাসের সমান্তরালে শতাব্দির ২য় দশকেই বাংলার তরুণ সমাজ আবার জেগে …উঠেছে, মেতেছে যুগের লড়াইয়ে ! আমার রক্ত কেবলি টকবগিয়ে উঠে,শিরায় শিরায় জ্বলে আগুন ! এ আগুন দ্রোহের-প্রতিশোধের । এ লড়াই প্রজন্মের লড়াই,_এ লড়াই ইতিহাসকে দেয়া প্রজন্মের প্রতিশ্রুতি। এ লড়াই শুধু প্রতিশোধের নয় তার চেয়ে বেশি কিছু করবার।

রাজাকারদের বিচার করতেই হবে ! পাশাপাশি একটি সুস্থ ধারার,গনতান্ত্রিক রাজনীতির প্রক্রিয়া চালু করে স্বাধীন দেশ উপযোগী রাষ্টিয় কাঠামো ও শাসন ব্যবস্থা প্রনয়ন করে ব্যক্তি জীবনে বিপ্লব নিয়ে আসতে হবে । বিশ্বায়নের (globalization) এই যুগেও আমরা শত বছরের দাসত্ব থেকে বেড়িয়ে আসতে পারিনি। কেননা আমাদের (রাষ্ট) ব্যবস্থা এখনো শত বছরের পুরাণ কাঠামোগত যা দিয়ে আময়াদের যুগের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।সময় বদলে গেছে তার সাথে বদলে গেছে পৃথিবীর জলবায়ু।বদলেছে আমাদের চাহিদা,আমাদের নিত্য অভ্যাসমুহ,শুধু বদলায়নি আমাদের রাষ্টিয় কাঠামো ও সিস্টেম ।তাই আমাদের জীবন ব্যবস্থাও রয়ে গেছে শত বছর আগের ধারায়। আমরা কেবল বারবার রাখাল (শাসক ) পাল্টাচ্ছি কিন্তু সেজ ব্যবস্থার (শাসন ব্যবস্থা ) কোন বদল করছি না।

বৃটিশদের সরিয়ে পাকিস্তানিদের,পাকদের সরিয়ে দেশীয় শাসক।কিন্তু আমাদের ভাগ্যের বিবর্তন কোথায়? এক সময় আমরা বৃটিশদের কেরানি ছিলাম এখন দেশীয় শাসকদের কেরানি। পড়ালেখা শেষ করে স্ব-উদ্যগে নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে আত্ম-নিরভরশীল হয়ে ঊঠবার সুযোগ আমাদের ১৯৪৮ সালেও ছিল না আজও নেই। যে প্রতিষ্ঠানে দাঁরিয়ে আমাদের প্রতিনিধিরা আমাদের কথা ভাববেন সেই প্রতিষ্ঠানের পদ্ধতি কতটা আধুনিক অথবা গনতান্তিক? আমাদের বাংলাদেশ নামক জাতি রাষ্ট প্রতিষ্ঠানটিতে যত গুলি প্রশাসনিক ডিভিশন (যেমন-সংসদ,বিভাগ-জেলা-উপজেলা-সিটি করপরেশন) রয়েছে তা অনেক পুরান কাঠামোগত।পৃথিবীর উন্নত দেশ গুলোর প্রশাসনিক বিভাগ গুলো কিন্তু এরকম নয়।আমেরিকার সংসদ দিকক্ষ বিশিষ্ঠ,পাশের দেশ ভারতে বিধান সভা-রাজ্য সভা।আমাদের ঢাকা কেন্দ্রিক প্রশাসনকে ভেঙ্গে যদি প্রাদশিক সরকার ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরন করা যেত তবে আমাকে প্রতিদিন আধ ঘন্টার পথে তিন ঘন্টা জ্যমে আটকে থাকতে হত না।বরিশালের জন্যে যদি একটি আলাদা সরকার আলাদা অরথ ব্যবস্থা থাকতো তবে লঞ্চের ছাদে করে লাখ লাখ মানুষ ঢাকায় আসতো না।একই অবস্থা রংপুর-রাজশাহী,খুলনা,চট্রগ্রাম,সিলেটের মানুষেরও।  আমাদের দেশের যত সমস্যা তা কোন ব্যক্তি কিংবা দলের কারনে নয়, সমস্যা আমাদের সিস্টেমে।তাই পুরনো স্যাতস্যাতে ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক রাষ্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে আমাদেরি।কেননা এটা আমাদেরই সমস্যা। সমস্যা সমাধানে সবাই কে এগিয়ে আসতে হবে,গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন। ‘৭১ এর মত আরও একটি জাতীয় ঐক্য (National Unity ) আজ একান্ত সময়ের দাবি।