ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

আমার জন্ম স্বাধীনতার পর। দশকের পর দশক চলে আসা পুঁজিবাদী-সম্রাজ্যবাদ বিশ্বায়ন দেখে কিছু ধারনামূলক সামাজিক-রাজনৈতিক প্রেক্ষপটের গতিধারা পাওয়া যায় –

১. ভারত-পাকিস্তান বিভাগের পর মানচিত্র দেখলে একটি শিশু বাচ্চাও বুঝতে পারবে পূর্ব এবং পূর্ব পাকিস্তান বিভাগ শুধু সময়ের দাবী। হাজার হাজার মাইল দূরে ভিন্ন দুটি জাতি এক দেশ হিসেবে থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। তবে মানচিত্র দেখলে মনে হতে পারে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সাথে না থেকে ভারতের সাথে থাকাই যৌক্তিক হতো।

২. তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে স্বাধীনতা অর্জন (সেটা যদি হয় শক্তিশালী, ব্যাবসা, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ন ) তাহলে কিন্তু স্বাধীনতাউত্তর তৃতীয় পক্ষের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ার সম্ভবনাকেই উস্কে দেয়। বাংলাদেশকে নতুন মাত্রার আগ্রাসনে পরার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করেছে (বর্তমান বিশ্বায়নে দেশ দখল করে নাম পরিবর্তনের চাইতে রাজনীতি, ব্যাবসা, সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রন লক্ষ্যনীয়। )

৩. জেনারেশন কিলিং – আমাদের স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই এটা বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয়। বর্তমানে বুদ্ধিজীবীরা কোন বিশেষ গোষ্ঠীর গোওভুক্ত না হতে পারলে বুদ্ধিজীবি হতে পারেন না। তেমনি এটা স্বীকার্য যে জিয়া-মুজিব যে কেউ বেচে থাকলে আমাদের দেশের এ অবস্হা থাকতো না। জহির রায়হান, তাহের, বিডিআর হত্যাকন্ড এরকম আরও কত হত্যাকন্ডই না হয়েছে। দেশ যাদের বিশেষ ভাবে তৈরী করেছে আমরা তাদেরকে হত্যা করেছি। স্বাধীনতার ৪০বছর পরও কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে আজও এই হত্যাযঙ্গ বন্ধ হয়নি। দেশের মস্তিস্ক হলো বুদ্ধিজীবিরা । আমরা দূর্ভাগ্যজনকভাবে মেধাশুন্য নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছি এবং সর্বোত্র মেধার চাইতে গোষ্ঠিগত স্বার্থই যোগ্যতার মাপকাঠি ।

৪. বর্তমানের এই ট্রানজিট বা করিডোর তৃতীয় পক্ষের (ভারত ) অনেক আগেই পাওয়ার কথা ছিল। ভারতের মত স্হিতিশীল দেশ বাংলাদেশ নিয়ে পরিকল্পনা পাকিস্তান বিভাগ কাল থেকেই করা আছে। কিন্তু জিয়ার নতুন জাতিয়তাবাদের ধারনা তাদের মনে হয় সেটা বিলম্বিত করেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সামরিক আরেকটি পক্ষ তৈরি করেছিল যারার দেশের সিদ্ধান্ত তৈরীতে প্রতিক্রিয়াশীল ছিল(যেহেতু সাধারন জনতা কোন কালেই দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহনে অগ্রনী ছিল না )। কিন্তু বিডিআর হত্যাকন্ডের পর আর ট্রানজিট ইস্যুতে আর কোন বাধা থাকে না। আমরা আজও বাঙ্গালী না বাংলাদেশী এটা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগী।

৫. নেপাল বা ভুটানের মত কিন্তু বাংলাদেশের অবস্হা না। আমারা কোন নির্দিষ্ট কারও সহযোগিতা ছাড়াই এগোতে পারি। আমাদের রয়েছে বিশাল সমুদ্রতট, খনিজ সম্পদ। কিন্তু আমাদের নাই কোন পরিকল্পনা, কান্ডারী, বুদ্ধিভিত্তিক নেতৃত্ব। এই পুজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদীদের যুগে কায়েমী নেতৃত্বের হাতে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কতকাল রক্ষিত থাকবে সেটা সময় বলে দেবে।