ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

কেমন যাচ্ছে রাজন এর ঈদ? ওপারে গিয়ে কি করছে বাচ্চা ছেলেটি? আজ যদি রাজন আমাদের মাঝে থাকত, তাহলে সে কী করত বা কী করার চেষ্টা করত? নিশ্চয়ই ঈদের আগের রাতে চাইত পরিচিত ছেলেদের সাথে একটু আনন্দ করতে, একটু ছুটাছুটি করতে। তারপর সকাল হতেই ছুটে যেত মায়ের কোলে কম পয়সার সস্তায় কেনা একটু সেমাই দিয়ে মিষ্টিমুখ করত। তারপর সারাদিন আরও কত কী!

এই রাজনকে নিয়ে লেখার ইচ্ছে কম ছিল। কেননা এত বড় নৃশংসতা নিয়ে একজন ব্লগার হিসেবেই হোক আর সাধারণ মানুষ হিসেবেই হোক, কথা বলতে আত্মা কাঁপবেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এই নিয়ে ঝড়-তুফান বয়ে যাচ্ছে। ভিডিওখানি দেখার চেষ্টা করলাম পুরাপুরি, কিন্তু পারলাম না। অস্থির হয়ে যাচ্ছিলাম। আপনি একটু ঠাণ্ডা মস্তিষ্কে রাজন এর জায়গায় একটু কিছুক্ষনের জন্য নিজেকে বসিয়ে ভেবে দেখবেন কি? ধরুন আপনাকে বেধে পিটানো হচ্ছে, আবার কোন একজন ব্যক্তি সেটিকে ভিডিও করছে। আঘাতগুলো নিজের চোখে দেখছেন আর সহ্য করছেন। মারছেন রাগের মাথায় ঠিক আছে, আবার ভিডিও করছেন! এটা কোন লেভেলের নৃশংসতা, বর্বরতা, হত্যাযজ্ঞ? কোন ধরনের মন-মানসিকতার ব্যক্তি হলে এহেনও রকম নিচু কাজ করা যায়? এমন পাশবিক কাজ কোন হিংস্র প্রানিতেও করে না। আমার প্রশ্ন রাজন কি তার জীবনের মূল্য সমপরিমাণ অপরাধ করেছিল?

এবার আসি অপ্রিয় সত্য কথায়। এই রাজন যদি দরিদ্র না হয়ে একটু স্বচ্ছল কোন পরিবারের ছেলে হত তাহলে আজ এতখানি ধৃষ্টতা রাজনকে নিয়ে দেখানোর মত সাহস কারও হতো না। আশেপাশে একজন মানুষ এগোনোর মত ছিল না এটা অন্তত আমি বিশ্বাস করি না। তার বাবা, চাচা, মামা, খালু কেও খুব ক্ষমতাবান না হোক, যদি একটু ধনি হত, তবে রাজনের এতখানি হত না। মানবতা কোথায় গিয়ে ঠেকছে এ বড় পুরান ডায়ালগ। আর আজ আমরা যে রাজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ঝড় বইয়ে দিচ্ছি, কিন্তু একবারও ভাবছি না এমন কত রাজন আমাদের সমাজে আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, যারা কিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহানুভূতি না পাওয়ায় চোখে পড়ছেনা। এ রাজনেরা তো কোটিপতি হওয়ার সপ্ন দেখেনা। আপনার আমার মধ্যে কিছু কিছু লোকের মত আইন সিদ্ধভাবে চুরি করে না। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার হয়ে রোগী আলাদা প্রাইভেট চেম্বার এ দেখেনা, খাবারে ফরমালিন দিয়ে মানুষের সুস্থতা ছিনিয়ে চুরি করেনা। মানুষের বাঁচার চেষ্টা, ক্ষমতা দুটোই অসাধারণ। মরুভূমি, সাগরে আটকা পড়া বহু মানুষ বেঁচে ফিরেছে তাদের বেঁচে থাকার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারনে। ভাবুন তো রাজনের কি বাঁচতে ইচ্ছা করছিল না? মৃত্যুর আগ মুহূর্তে যন্ত্রনায় কাতর ওই বাচ্চা কলিজা কি অভিশাপ আর ঘৃণা বিধাতার কাছে রেখে যায়নি? এতটুকুন বাচ্চার গায়ে চৌষট্টিটি আঘাতের দাগ। আমাদের এখন একটা জিনিসই বলার আছে, সরকার এই সমস্ত রাজনদের প্রতি একটু নজর দিক। শিশু নির্যাতন আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হোক। শাস্তি হোক এইসব নরকের কিটদের জনসম্মুখে, যেন বাকিরা আর কখনও কোনো কোমল প্রান কেড়ে নেওয়ার মত বর্বরতা দেখানোর সাহস না পায়।

আমার লেখার “বিদ্রোহী পথিক” কবিতার দুটো লাইন তুলে দিলামঃ-
“মোর আত্মা হবে না মুক্ত
তুমি যতদিন রবে রিক্ত
বিদ্রোহী পথিক ফিরিয়া আসিবে বারংবার
পথ আটকিয়ো হে কালো
দেখিব পণ তোমার”

আর পরিশেষে বলব রাজন বিধাতার দরবারে তোমার ঈদ কাটুক পরমেশ্বর এর স্নেহ ছায়ায়।
“ঈদ মোবারক রাজন”