ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

শাবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া International Conference এবং গতকাল থেকে শুরু হয়েছে সেই অনলাইন আলোচনা। চলুন এই আলোচসায় অংশ নিয়ে নিজের মতামতকে সিদ্ধান্তে পরিনত করি।

আজকের বিষয়:কনস্ট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট
এই লেখাটি তৈরী করেছেন।: আতিক সাররাজ, ১৩ তম ব্যাচ, সিইই বিভাগ, শাবিপ্রবি

ফেসবুক বা ব্লগে যারা এ লেখাটি পড়ছেন, আপনারা!! জি, আপনাদের বলছি একটু শান্ত হয়ে আপনার শোয়ার ঘরটার দিকে থাকান আর একটু চিন্তা করুন যদি হঠাৎ করে কোন শক্তিশালী ভুমিকম্পের আঘাতে ঘরটি আপনার মাথার উপর ভেঙ্গে পড়ে। আপনি জানেনো না যে বিল্ডিংটি বানানোর সময় হয়ত কন্সট্রাকশান মেটেরিয়ালের (সিমেন্ট, কনক্রীট ইত্যাদি) গুনগত মান ভালোভাবে যাচাই করা হয় নি অথবা মিস্ত্রী তার কাজে ভুল করে রড দুইটার জায়গায় একটা দিয়ে বসেছিল!!

আপনার ব্যালকনীটার এককোনায় একটা কলাম(পিলার) বছরের পর বছর গাধার মত বিল্ডিংয়ের load নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আপনি বুঝতেই পারেন নি মাত্র ৬ মাত্রার একটা ভুমিকম্পই একে কাত করার জন্য যথেষ্ট। এখন হয়তো ভাবছেন না বুঝাটাই ভাল ছিল। এখনতো রাতে ঘুম হবে না, কখন না আবার বিল্ডিংটা হেলে পড়ে!

আপনাদের কষ্ট করে ভয় দেখিয়ে আমার অন্তত খুব একটা লাভ নেই তবে আপনাদের সচেতন করতে পারলে আমাদের এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের(ICETCESD-2012)আয়োজন কিছুটা সফলতা খুজে পাবে। আর এই অভিপ্রায় থেকেই আজকের লেখার বিষয় হল “Construction Management” কিছুটা বাংলা করতে পারলে যার মানে দাঁড়ায় নির্মান কাজের ব্যবস্থাপনা।

ক্রিস হেন্ড্রিক্সন নামের একজন ভদ্রলোক বেশ কিছুদিন আগে “What Is Construction Project Management?” নামে একখান বই লিখেছেন যেখানে উনি এই বিষয়টির চারটি কর্মপরিধি নির্ধারন করে দিয়েছেন যেগুলো সহজ ভাষায় বর্ননা করাটা বেশ জটিল।

তবে খুব প্রাঞ্জল ভাষায় যদি বলতে চাই construction management এর ৭ ধরনের প্রকারভেদ আছে যার মধ্যে টেকসই প্রজেক্ট পরিকল্পনা, ব্যয়, সময় ব্যবস্থাপনা, নির্মান সামগ্রীর মান নিয়ন্ত্রণ, নির্মান কাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য।

আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে Construction Management চর্চা নিয়ে কথা বলার মত ধৃষ্টতা আমি কখনোই দেখতে যাব না কারন একটা কনস্ট্রাকশন সাইটে্র পাশ দিয়ে হেটে গেলেই আপনারা সেটা খুব ভাল ভাবে বুঝতে পারবেন। পত্রপত্রিকায় কিছু ঘটনা প্রায় নজরে আসে যদিও অবচেতন মনে বিষয়গুলো কিছুটা বিচ্ছিন্ন এবং খাপছাড়া মনে হতে পারে তবে ঘটনাগুলোর ভয়াভবহতা ও পুনরাবৃত্তি আসলেই চিন্তার খোরাক যোগায়। এই কিছুদিন আগে দুই জন পথচারী মারা গেল বিল্ডিং কন্সট্রাকশনের কাজে ব্যবহ্রত ইটের আঘাতে অথবা শাখারী বাজারে পাচতলা বিল্ডিং ধসে পড়ল, বিশেষজ্ঞরা কারন উৎঘাটন করল নির্মান কাজে ত্রুটি। আরো কিছু ঘটনা নিজেরাই অনেক সময় লক্ষ্য করি যেমন রাস্তা দিয়ে একটু ভারি যানবাহন গেলেই বিল্ডিংটি দুলে উঠে; এই সব ঘটনা আপাত দৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন মনে হলেও তবে সব ঘটনাই আঙ্গুল তুলে অপ্রতুল এবং দুর্বল Construction Management প্র্যাকটিসের দিকে।

যদিও প্রায় সব ক্ষেত্রেই এসব দুর্ঘটনার দোষ বর্তায় নির্মান প্রকৌশলীদের ঘাড়ে। স্বাভাবিকভাবেই একজন প্রকৌশলী একটি বিল্ডিং এর স্ট্রাকচারাল ডিজাইন করার পর তার দায়িত্ব শেষ বলে মনে করেন কিন্তু নির্মাণ কাজে মিস্ত্রী কিংবা সাইট সুপারভিশনে নিয়োজিতদের অবহেলার কারনে একটি সুন্দর ডিজাইনের বিল্ডিং ও যথেষ্ট ঝুকির মধ্যে থাকতে পারে এবিষয় হয়তো উনি অতটা আমলে নেন না।

এতক্ষন আলোচিত বিষয় গুলো অনেকটা ক্লায়েন্ট অরিয়েন্টেড তবে প্রজেক্ট বাস্তবায়নের কাজে যারা নিয়োজিত থাকেন বিশেষত প্রকৌশলীদের যে সব ঝামেলা সবচেয়ে বেশি পোহাতে হয় সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সময় ব্যবস্থাপনা। গ্রাজুয়েশন লেভেলে পড়ার সময় আমাদের এক স্যারের মুখ থেকে একটা ঘটনা শুনেছিলাম, ঘটনাটা ছিল রাজনৈতিক কারনে বাংলাদেশের একটি বড় ধরনের স্থাপনা নির্মানের কাজ দুই মাস এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং এই কারনে কাজটির প্রধান প্রকৌশলী অপারগতা দেখিয়ে কাজ থাকে ইস্তফা দেন। পরবর্তীতে কাজটি দুইমাস আগেই শেষ হয়েছিল তবে নির্মান কাজের তিন বছর পরে পত্রিকায় একদিন দেখি স্থাপনাটির প্রায় পাচ থেকে ছয়টি পায়ার(পিলার) পাচ ইঞ্চির মত দেবে যায়।

একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্মান কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা প্রত্যেক প্রকৌশলীদের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং একটা বিষয়। এই ধরনের আরো অনেক বিষয় নিয়ে দেশ বিদেশের নাম করা বিশেষজ্ঞদের গবেষনা প্রবন্ধ নিয়ে আয়োজিত হচ্ছে আমাদের কনফারেন্স ICETCESD 2012।

এই নিবেদন নিয়ে আমরা আজকের মত আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি, ইনশাল্লাহ আগামী দিন আরো গুরুত্বপুর্ন বিষয় নিয়ে আমি এবং আমার বন্ধুরা আপনাদের সামনে হাজির হবে।ধন্যবাদ।

ফেসবুক গ্রুপ দেখা যাবে এই লিংকে