ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

শাবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া International Conference এবং গত ১৩ই ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়েছে সেই অনলাইন আলোচনা। চলুন এই আলোচসায় অংশ নিয়ে নিজের মতামতকে সিদ্ধান্তে পরিনত করি।

আজকের বিষয়: টেকসই উন্নয়ন বা sustainable development
এই লেখাটি তৈরী করেছেন।: ওয়াসিফ এ এলাহী এবং সাঈদ তাশনিম মাহমুদ, ১৩ তম ব্যাচ, সিইই বিভাগ, শাবিপ্রবি

আমরা যারা ঢাকাতে থাকি অথবা যাওয়া আসা করি, সবাই একটা জিনিসে কম বেশি ভুগি, তাহল যানজট। ঘন্টার পর ঘণ্টা আমরা জ্যামে দাড়িয়ে থাকি। কারন ফ্লাই ওভার এর কাজ কিংবা রাস্তাঘাট উন্নয়নের কাজ অথবা মেরামতের কাজ চলছে। এতে আমাদের জীবনের যে কতো মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে তা কার অজানা নয়। এমনও অনেক ঘটনা আমরা শুনে থাকি জ্যামে অ্যাম্বুলেন্স আটকা পড়ায় রোগীর মৃত্যু। এর দায় ভার কেউ নিতে চায় না এবং নেয় না।

আমরা যারা ঢাকাবাসী, তাদের অনেকের বাসায় দিনে ২৪ ঘণ্টা পানি থাকেনা। হয়ত কখনও দিনে একবার অথবা দুইবার, ভাগ্য ভাল হলে তিনবার নির্দিষ্ট সময় পানি আসে। এই করুণ অবস্থা বিদ্যুতের বেলাতেও। সকল সমস্যার একটা বেপার কিন্তু কমন। তাহল দিনে দিনে সমস্যা আর প্রকট হচ্ছে। আমাদের এক সরকার যা করে যায় তা পরবর্তী সরকার আসতে আসতেই হারিয়ে যায়, সেটা বিদ্যুৎ উৎপাদনের হারই হোক আর পানি সরবরাহই হোক। এই সকল অবস্থা শুধুমাত্র একটি ব্যাপারের অভাবেই হয়ে থাকে, আর তাহলো sustainable development.

sustainable development বা টেকনই উন্নয়ন বলতে আমরা সাধারনত যা বুঝি তাহল, এমন ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম যা বর্তমানের চাহিদা পূরণ করবে কোন রকম পরিবেশের ক্ষতি না করে এবং অদূর ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ভবিষ্যতে প্রয়জন হলে যাতে এর কার্যক্ষমতা সহজেই বৃদ্ধি করা যায়। যেমন একটি রাস্তা করতে হলে সবার আগে আমাদের ভাবতে হবে তা আমাদের বর্তমানের চাহিদা পূরণ করতে পারবে তো? যদি করে তবে কতদিন করবে? ভবিষ্যতে যদি রাস্তা বড় করার প্রয়োজন হয় তবে কতটুকু জায়গা এখনি খালি রাখতে হবে এবং এর জন্য করনীয় সকল বিষয় আগে থেকেই ভেবে রাখতে হবে।

আমাদের ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট যদি sustainable development অনুযায়ী করা হত তবে আজ আমাদের এত দুর্ভোগ পোহাতে হতনা। দিনেদিনে আমাদের জনসংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই সমসসাও আর বাড়বে। তাই আমাদের এখনি sustainable development নিয়ে ভাবতে হবে। আজ আমরা যে উন্নয়ন কাজ করছি তা কতদিন আমাদের সুফল দিতে পারবে সেটা আমাদের আগেই ভাবতে হবে।

sustainable development এর সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হল পরিবেশ রক্ষায়। আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়, ব্রিজ করা হয়েছে, তারপর নদীর গতিপথ বদলে গেছে অথবা নদী শুকিয়ে গেছে। ব্রিজ, ড্যাম, বার্যাহজ ইত্যাদি স্থাপনায় যদি sustainable development না থাকে তবে তা পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং এর ক্ষতির পরিমান অবর্ণনীয় যা আমাদের কাম্য নয়।

এখন ধরা গেলো কোন একটা ফ্লাইওভার করা হলো যা দিয়ে আমাদের যানযট সমস্যার একেবারে সমাধান করে দিবে। কিন্তু সরকারের কাছে যেহেতু টাকা নেই সেহেতু সে সিদ্ধান্ত নিলো জনগনের কাছ থেকে টোল আদায় করে এই ফ্লাইওভারের টাকা তুলে ফেলবে। এবং তার পরিমান যানবাহন প্রতি ২০০০ থেকে ৫০০০ টাকা যা দেবার ক্ষমতা রাস্তায় চলাচলকারীদের অনেকেরই নেই। এখন যদি এই ফ্লাইওভার করা হয় তাহলে অনেকেই এর উপর দিয়ে চলাচল করতে পারবে না। অতএব নিচের যানজট লেগেই আছে। এজন্য ফ্লাইওভার তৈরীর এই development টি sustainable development হলোনা। sustainable development এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এই development টি যেন অর্থনৈতিক ভাবে গ্রহন করা সহজ হয় যাদের জন্যে এই উন্নয়নটি করা হবে।

আবার দেখা গেলো বাংলাদেশের কোন এক গ্রামে সাস্থ্যসম্মত পায়খানা তৈরী করা হলো। কিন্তু গ্রামের মানুষ জানেনই না এটি কিভাবে ব্যাবহার করতে হবে। তাহলে এই যে উন্নয়ন কাজটি হলো এটিও suctainable হলো না। sustainable development এর আরেকটি দিক হলো এই উন্নয়নের একটি সামাজিক অংশগ্রহন থাকতে হয়। কারন যাদের জন্যে উন্নয়ন তারা যদি এই উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ না নেয় তবে তা কখনই টেকসই উন্নয়ন না।

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের যেহেতু উন্নয়ন বাজেট খুবই কম সেহেতু আমাদের উচিৎ যেকোন উন্নয়ন যেনো টেকসই উন্নয়ন হয় সে ব্যবস্থা করা।

ফেসবুক গ্রুপ