ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

শাবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া International Conference এবং গত ১৩ই ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়েছে সেই অনলাইন আলোচনা। চলুন এই আলোচসায় অংশ নিয়ে নিজের মতামতকে সিদ্ধান্তে পরিনত করি।

আজকের বিষয়: সড়ক ও সেতু নির্মান
এই লেখাটি তৈরী করেছেন।: সাঈদ তাশনিম মাহমুদ এবং মোঃ মাহমুদুল হক চয়ন, ১৩ তম ব্যাচ, সিইই বিভাগ, শাবিপ্রবি।

বর্তমান ঢাকার অন্যতম প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো ট্রাফিক জ্যাম। আর বর্তমান বাংলাদেশের প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে একটি হলো সড়ক দুর্ঘটনা। দুটোই সড়ক নির্মানের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
প্রথমেই আসি ট্রাফিক জ্যাম প্রসঙ্গে। প্রতিদিন শুধু ঢাকা শহরের বাসিন্দাদেরই এই ট্রাফিক জ্যামের কবলে পড়ে কত যে কর্মঘন্টা নষ্ট হয় তার কোন ইয়ত্তা নেই। দিন দিন এই সমস্যা প্রকটতর হচ্ছে। এই সমস্যা থেকে উত্তরনের একটি উপায় হলো নতুন সড়ক নির্মান। যেহেতু দিন দিন জনসংখ্যা বেড়েই চলছে এবং এই বাড়তি জনসংখ্যা জীবিকার তাগিদে রাজধানী ঢাকার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সুতরাং এই জনসংখ্যার আবাস্থলের ব্যবস্থা করতে গেলে নতুন সড়ক নির্মান কষ্টকর।
তাই এখন আমরা যে সড়ক নির্মন করছি তা sustainable কিনা তা মাথায় রেখে নকশা ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এমনভাবে এখন সড়কগুলোর নির্মান করা উচিৎ যাতে এগুলো দিয়ে বর্তমানের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের অতিরিক্ত প্রয়োজনের জন্যে তার সম্প্রসারন করা যায়। খেয়াল রাখতে হবে এখানে শুধু সড়কের ক্ষমতা বাড়ালেই চলবে না, এর পাশাপাশি ফুটপাতের ক্ষমতাও বাড়াতে হবে।
ট্রাফিক জ্যামের আরেকটি বড় কারন হলো যত্রতত্র রাস্তা খোড়াখুড়ি (Road repairing)। যেহেতু এটা একটি আবশ্যক জিনিষ, এখান থেকে পলায়নের কোন উপায় নেই। সুতরাং এর জন্যে আমাদের প্রয়োজন উন্নত প্রযুক্তি এবং এর উপর গবেষনা যেন এই কাজের জন্যে ট্রাফিক জ্যাম আমরা কমাতে পারি। এই নিয়ে বর্তমানে বেশ কিছু গবেষনা হচ্ছে। আমাদের গতবারের কনফারেন্সে ICETCESD2011 এও বেশ কিছু প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়েছে এবং আশা করছি এবারও হবে।
এবার আসি সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে। এই একটি মাত্র কারনে আমরা প্রতি বছর অনেক মেধাবী মুখ হারাচ্ছি। এখানে দুঃথের বিষয় হলো রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা আমাদের দেশে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় কম হলেও সড়ক দুর্ঘটনার সংথ্যায় আমরা প্রথম স্থান অধিকারী। যদিও অসতর্কতা এবং অনভিজ্ঞতা এর একটি প্রধান কারন, তবুও সড়ক নির্মানের ত্রুটি এর অন্য একটি প্রধান কারন।
দেখা যায়, অধিকাংশ সড়কই যে গতির জন্যে তৈরী করা হয় সে গতি মানা হয় না। এক্ষেত্রে সড়কের নির্মানের সময়ই এমন ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ যাতে গতি এর উপরে উঠতে না পারে। অধিকাংশ সময় দেখা যায় একটি সড়কের কোন একটি নির্দিষ্ট স্থানে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। এটা সম্পূর্ণটাই সড়ক নির্মানের ত্রুটির জন্যে হয়।
এরকম কয়েকটি উদাহরনের কথা বলেন বুয়েটের শিক্ষক এবং Accident Research Institute (ARI) এর পরিচালক প্রফেসর ড. হাসিব মোহাম্মদ এহসান। তিনি বলেন, যমুনা সেতুর এক অংশে দেখা যায়, সেতুর সংযোগ সড়কে প্রচুর দুর্ঘটনা ঘটে। এর কারন হলো সেই Intersection এর নকশা্য় কিছু ত্রুটি রয়েছে। আবার তারেক মাসুদ ও মিশুক মূনীর যে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান, সেখানে রাস্তার বাঁকের যায়গাটিতে যদি একটি ডিভাইডার থাকতো তাহলে সেই দুর্ঘটনাটি ঘটতো না। আবার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার একটি যায়গায় অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে। এর কারনও সড়ক নির্মানের ত্রুটি।
এখন প্রশ্ন হলো সমাধানের উপায় কি? দেখা যায় এই বড় বড় সড়ক ও সেতু নির্মানের জন্যে বিদেশী ইঞ্জিনিয়ারদের নিযোগ করা হয়। তারা তাদের দেশের ম্যানুয়াল অনুযায়ী নকশা করে থাকেন। আমাদের দেশের সড়ক, চলাচলকারীদের মানসিকতা, যানবাহনের ধরন এগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। একারনেও অনেক সমস্যা তৈরী হয়। তাই এই ব্যাপারগুলো নিয়ে আমাদের দেশে প্রচুর গবেষনা হওয়া উচিৎ। মনে রাখতে হবে আমাদের সমস্যার সমাধান সবচেয়ে ভালো আমরাই করতে পারবো। অতএব সরকারের উচিৎ এই খাতে গবেষনার জন্যে আমাদের সুযোগ করে দেয়া।

ফেসবুকে আমাদের গ্রুপে আলোচনায় আসতে চলে আসুন https://www.facebook.com/groups/234504209966916/