ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

শাবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া International Conference এবং গত ১৩ই ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়েছে সেই অনলাইন আলোচনা। চলুন এই আলোচসায় অংশ নিয়ে নিজের মতামতকে সিদ্ধান্তে পরিনত করি।
আজকের বিষয়: Eco-টেকনোলজি
এই লেখাটি তৈরী করেছেন।: ওয়াসিফ এ এলাহী, ১৩তম ব্যাচ, সিইই বিভাগ, শাবিপ্রবি

Eco-technology হল বিজ্ঞানের এমনভাবে প্রয়োগ করা যা পরিবেশের উপর সবচেয়ে কম ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। দিনে দিনে বিজ্ঞানের যত উন্নতি ঘটছে, পরিবেশের উপর ততই এর বিরুপ প্রভাব পরছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা, পরিবেশ দূষণ, নতুন ধরনের রোগের সংখ্যা বেড়েই চলছে। তাই এখন সময় এসেছে তা নিয়ে ভাবার। এখন শুধু উন্নয়ন করলেই হবেনা, তা পরিবেশের উপর কেমন প্রভাব ফেলছে তাও ভাবতে হবে। যেমনঃ কিছুদিন আগেও আমরা গাড়ি চালাতে জ্বালানি হিসেবে খনিজ তেল ব্যাবহার করতাম যা অতিমাত্রায় পরিবেশ দূষণ করত। কিন্তু এখন জ্বালানি হিসেবে CNG(Compressed Natural Gas) ব্যাবহার করা হচ্ছে যা তুলনামূলক ভাবে কম ক্ষতিকর পরিবেশের জন্য। একেই বলা হয় Eco-technology।
Eco-technology’র ব্যাবহার যত বৃদ্ধি করা যাবে ততই আমাদের জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মঙ্গল। বর্তমানে পৃথিবী জুড়ে সকল দেশই জ্বালানি সঙ্কটে আছে। পারমাণবিক শক্তি ব্যাবহার করে বিদ্যুৎ উতপাদন করে অনেক দেশই তাদের চাহিদা মিটাচ্ছে যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। আর বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে যে কি হয় তার সহজ উদাহরণ হল জাপান। তাই জ্বালানি উৎপাদনে Eco-technology ব্যাবহার সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সৌরশক্তির ব্যাবহার একটি সহজ উপায় যার পরিবেশের উপর প্রভাব নেই বললেই চলে। তাছাড়া আমরা যেসব ভোগ্য পণ্য ব্যাবহার করি তার অনেক কিছুরই উৎপাদন প্রণালী পরিবেশের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে। যেমনঃ সেন্ট, কাগজ, স্প্রে, কীটনাশক ইত্যাদি। এমনও অনেক সেন্ট আছে যার ১০০ml উৎপাদন করতে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার গাছ কাটতে হয়। আবার আমরা প্রতিদিন যে পরিমান কাগজ বিভিন্ন কাজে ব্যাবহার করি তার জন্যও অনেক বন নিধন হচ্ছে আমাদের অজান্তে। তাই এখত্রে যদি কাগজের পরিবর্তে ভার্চুয়াল মাধ্যম ব্যাবহার করা হয় তবে তা পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করবে। কাগজ উৎপাদনে গাছের বদলে অন্য কোন কিছু ব্যাবহার করার কথাও ভাবতে হবে। ইটের ভাটা আমাদের দেশের পরিবেশ দূষণের অন্যতম উৎস। তবে Eco-technology ব্যাবহার করেও ইট উৎপাদন সম্ভব। তবে সেক্ষেত্রে দাম দেড় থেকে দুইগুণ বেশী পড়ে কিন্তু এর ফলে কার্বনের নিঃসরনের মাত্রা অনেকাংশে কমে যায় যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।
আমরা যদি জনসচেতনতা গড়ে তুলতে পারি যে, Eco-technology দ্বারা উৎপাদিত ভোগ্য পণ্য ছাড়া আমরা অন্যান্য পণ্য পরিহার করবো তাহলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি তাদের উৎপাদন প্রণালী বদলাতে বাধ্য হবে।

ফেসবুকে আমাদের সাথে অংশ নিতে চাইলে চলে আসুন https://www.facebook.com/groups/234504209966916/