ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

শাবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া International Conference এবং গত ১৩ই ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু হয়েছে সেই অনলাইন আলোচনা। চলুন এই আলোচসায় অংশ নিয়ে নিজের মতামতকে সিদ্ধান্তে পরিনত করি।
আজকের বিষয়:জলাভূমি বাবস্থাপানা
এই লেখাটি তৈরী করেছেন।: ইয়াসিন আহমেদ, ১৩তম ব্যাচ, সিইই বিভাগ, শাবিপ্রবি
প্রকৃতির এক অসামান্য উপহার আমাদের এই জলাভূমি। মানব ঐতিহ্য এর একটি বিশাল অংশ জুড়ে আছে জলাভূমি। জলাভূমি মানব সভ্যতা ও সমাজের অগ্রগতি ও গঠনে এক বিরাট ভূমিকা রেখেসে। অনেক অর্থনৈতিক গুরত্ত সম্মন্ন প্রজাতির সর্ববৃহৎ আশ্রয়স্থল এই জলাভূমি।
ম্যানগ্রোভ জলাভূমি বিভিন্ন ফ্লরা ও ফনা নিয়া গঠিত একটি একক পরিবেশ বাবস্থা যা একটি দেশের সামাজিক, সাঞ্চক্রিতিক ও বাস্তুসস্থানিক গুরুত্ত বহন করে। কিন্তু ৪৩তি বিশাল জলাভূমি আজ নগরায়নের কারনে হুমকির সম্মখিন যেখানে ৫০% এর বেশী লোকজন জলাভুমির সম্পদের ওপর নির্ভরশীল।
জলাভূমি একটি ফলপ্রসু বাস্তুসস্থান যার ওপর উদ্ভিজ ও প্রাণীজ প্রজাতি তাদের টিকে থাকার জন্য নির্ভরশীল। বাংলাদেশের জনগনের প্রোটিনের চাহিদা মেটানর একটি গুরত্তপুরন উৎস হল মাছ যা আমরা জলাভূমি থেকে পেয়ে থাকি। জলাভূমিতে ধান চাষ বাংলাদেশের কোটি মানুষের খাদ্দের যোগান দেয়। প্রায় ৫০০০ প্রজাতির ফুলগাছ, ১৫০০০ প্রজাতির মেরুদণ্ডী প্রাণী এবং ৩০০ উদ্ভিদ প্রজাতি তাদের জীবন কালের প্রায় সব কিছুর জন্য জলাভুমির ওপর নির্ভরশীল। জলজ প্রকৃতিতে বসবাসকারী পক্ষীকুল এবং বিলুপ্তপ্রায় অনেক প্রাণীর বসবাসের একমাত্র স্থান এই জলাভূমি।
সুস্থ পরিবেশের জন্য ও পরিবেসের ভারসাম্য রক্ষায় জলাভুমির গুরুত্ব অনসিকারজ। শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ মিসবাহ উদ্দিন বলেন,” বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে জলাভূমি গুলুর তিন ধরনের অবদান রয়েছ এবং তা হল পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক”।
বাংলাদেশের জলাভূমির অবনতির প্রধান কারণগুলো হলঃ জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত চাষাবাদ ও নগরায়ন, বসবাসের জন্য জলাভূমি ভরাট ইত্যাদি।
জলাভূমির অবনতির কারণে দিন কে দিন জলজ প্রাণীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে, নতুন নতুন অনেক ফ্লরা ও ফনা প্রজাতি হুমকির সম্মুক্ষিন হচ্ছে এবং জলজ বাস্তসন্সথান নষ্ট হচ্ছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত হাওর এলাকাগুলোতে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি ও রাস্তাঘাট নির্মাণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে। যার ফলে অনেক সময় অপরিকল্পিত ভাবে হাওর অঞ্চলে রাস্তাঘাট নির্মাণ হয়েছে যা প্রাকৃতিক পানি প্রবাহকে বিঘ্নিত করেছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে জলাভুমিগুলো ধ্বংস করে বসবাসের জমি তৈরি করা হয়েছে। অতিরিক্ত মৎস্য নিধনের কারণে জলাভূমিগুলোর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ মিসবাহ উদ্দিনের মতে, জলাভূমির সুষ্ঠু ব্যাবহারের মাধ্যমে বন্যার ঝুকিযুক্ত অঞ্চলগুলোর বাস্তুসন্সথানিক সকল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
জলাভূমি রক্ষায় আমাদের জলাভূমির সঠিক বাবস্থাপনা করা, ঝুঁকিপূর্ণ জলাভূমি চিনহিত করা, জলজ প্রাণীর সংরক্ষণের বাবস্থা করা, সচেতনেতা বৃদ্ধিতে সয়াহতা করা উচিত।
সরকারের উচিত আইনানুগ বাবস্থা নিয়ে জলাভূমিগুলাকে রক্ষায় এগিয়ে আসা।