ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষানীতি নামক যা কিছু হয়েছে তার ভিতরে যাই লেখা থাকুক , কার্যকর রূপে যা দেখা গেছে তা হলো পরীক্ষা এবং পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কিছু বক্তৃতা , কিছু কার্যক্রম । তাই এগুলোকে শিক্ষানীতি না বলে পরীক্ষা নীতি বলা যায়। পরীক্ষা নীতিও অবশ্যই একটি নীতি এবং এ নীতিরও ভিন্নতা আছে । এ নীতি নির্ভর করে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর । একটি গণতান্ত্রিক, গণমূখী শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য পরীক্ষা নীতি যেমন হয় ,অগণতান্ত্রিক এবং সমাজে বিরাজমান শ্রেণী বৈষম্য অটুট রাখতে,আরো গভীর করতে এবং শাসক শ্রেণীর দায় এড়াতে প্রতারণামূলক,ধোঁকাবাজির শিক্ষা ব্যবস্থায় পরীক্ষা নীতি তেমন হয় না । এ দুই ক্ষেত্রে পরীক্ষার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য যেমন ভিন্ন তেমনই পরীক্ষার নীতিও ভিন্ন হতে হয় ।

একটি গণতান্ত্রিক, গণমূখী শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য থাকে ধর্ম , জাতি , বর্ণ , লিঙ্গ নির্বিশেষে একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গঠন করা । এ শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষিত মানুষ বলতে নিছকই অক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন ব্যাক্তিকে এবং সুবিধাভোগী শ্রেণী -গোষ্ঠির উকালতিতে পারদর্শী মানুষকে বুঝায় না । এ ব্যবস্থায় শিক্ষিত মানুষ বলতে বুঝায় চোখ-কান, মাথা-মন খোলা মানুষ । যে মানুষ প্রকৃতিকে বুঝবে , মানুষকে বুঝবে , মানুষের সমাজকে বুঝবে , বুঝবে মানব সমাজ এবং প্রকৃতির মধ্যে সম্পর্ক ।শিক্ষিত মানুষ সামাজিক সম্পর্কগুলো বুঝবে , মানব সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য প্রতিবন্ধক সম্পর্কগুলো চিহ্নিত করতে পারবে এবং অগ্রগতির সম্পর্ক নির্মাণের মননে নিবিষ্ট হবে ।এ মানুষ প্রকৃতি সংহারী এবং প্রকৃতি বিনষ্টকারী প্রযুক্তি ব্যবহার এবং এ ব্যবহারে ব্যাক্তিগত, গোষ্ঠিগত , শ্রেণীগত ও স্থানীয় উন্নয়নকে কখনোই সামগ্রিক মানব-প্রকৃতির উন্নয়নরূপে বিবেচনা করবে না ।এমন একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠি গঠনের লক্ষ্য যে শিক্ষা ব্যবস্থার ,সে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে পরীক্ষা পদ্ধতি হবে তার মূল উদ্দেশ্য হবে লক্ষ্য অর্জনের সামর্থ্য যাচাইয়ের । শিক্ষার্থীদের পদে পদে অযোগ্যতা প্রমাণ করা বা শাসক শ্রেণীর সাফল্যের বাগাড়ম্বর এ পরীক্ষা পদ্ধতির লক্ষ্য হবে না ।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে নানা নামে প্রণীত শিক্ষানীতির দ্বারা অন্যকিছুর পরিবর্তন না হলেও পরীক্ষা পদ্ধতির নানা নামে পরিবর্তন হয়েছে । পরীক্ষা পদ্ধতির নাম যাই হোক এগুলোর লক্ষ্য অভিন্ন । সে অভিন্ন লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের পদে , পদে অযোগ্য প্রমাণ করা । এতে গণতন্ত্রের মুখোশ পরা শাসক শ্রেণীর দায় কমে ।এ দায় এড়ানোর জন্য শাসক শ্রেণীর নানা পরিচয়ের সরকারগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কৌশল গ্রহন করে এসেছে । তবে দিন যত যাচ্ছে কৌশলের মধ্যে প্রতারণার ধরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে । একটি সময় ধরে কৌশলটা ছিল খানিকটা সরল । বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় ব্যাপক অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের ফেল করানো হতো । ফেল করানো হতো বলার অর্থ এই যে,পাশ করানোর জন্য সরকারের দিক থেকে যা’ করণীয় ছিল তা করা হতো না । ফলে ব্যাপক অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ফেল করত । একে ফেল করানো বলাই যুক্তিসংগত । এতে করে শিক্ষার্থীদের অযোগ্য প্রমাণ করা গেলেও শিক্ষায় সরকারের সাফল্যকীর্তন করা সম্ভব হতো না ।উপরন্তু শিক্ষাদানে সরকার ব্যর্থ বা অসফল হওয়ার সমালোচনায় সমালোচিত হতো । এসব সমালোচনায় কর্ণপাত করার মত ন্যূনতম গণতান্ত্রিক উপাদান সম্পন্ন সরকার কখনোই গঠিত হয়নি । ফলে প্রতারণামূলক কৌশল গ্রহন ছাড়া সমালোচনার জবাব দেওয়ার আর কোন উপায় এসব সরকারের নেই । কাজেই কর্তাব্যাক্তিদের “উদ্ভাবনী” ক্ষমতায় শিক্ষাদানে ব্যর্থতার সমালোচনার জবাব তৈরীতে এসব সরকারগুলো মনোযোগী হলো ।কি সেই উদ্ভাবন ? এ উদ্ভাবন হলো বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় পাশের হার এবং সর্বোচ্চ ফলাফল প্রাপ্তির হার বৃদ্ধি করা । কি করে তা সম্ভব ? সরল যে পথে গেলে পাশের হার বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ভাল ফলের হার বৃদ্ধি পেতে পারে শ্রেণিগত কারণে সরকারগুলো কখনোই সে পথে যায়নি ।কাজেই বিভিন্ন মতলববাজি কর্মসূচীর মাধ্যমেই তা করতে হবে ।সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য শিক্ষার মান বৃদ্ধির কোন রকম উদ্যোগ এবং কর্মসূচী গ্রহন করা না হলেও পরীক্ষা পদ্ধতি , বিশেষ করে প্রশ্ন পত্র প্রণয়ন পদ্ধতি বহুবার পরিবর্তন করা হয়েছে । শুধুমাত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মাধ্যমেই ভাল ফলাফল নিশ্চিত করা হয়নি , সকল পাবলিক পরীক্ষায়ই শিক্ষাবোর্ড থেকে খাতা উদারভাবে মূল্যায়নের অলিখিত নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে বলে শোনা যায় । অবস্থা দৃষ্টে এ নির্দেশ যে ঠিকই দেওয়া হয় তা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে ।

সরকারগুলোর পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে পাশের হার এবং সর্বোচ্চ ফলাফল জিপিএ ৫ প্রাপ্তির হার বৃদ্ধি দেখিয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধির যে গল্প লাগাতারভাবে শুনিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার ভিত্তি কি ? শিক্ষার মান কি বাতাসেই বেড়ে যায় ?একদিকে পাঠদানের জায়গাগুলো লাগাতারভাবে সংকুচিত করা হচ্ছে অপরদিকে শুধুমাত্র পরীক্ষার ফলের ওপর শিক্ষার মান বৃদ্ধির গল্প শুনিয়ে যাওয়া হচ্ছে । একদিকে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণের সকল পথ এবং আয়োজন করা হচ্ছে অপরদিকে শিক্ষানুরাগী সাজা হচ্ছে ।স্বাধীনতার পর একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে শিক্ষার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল তা নেওয়া হয়নি । প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক , উচ্চ মাধ্যমিক সকল ক্ষেত্রেই অবকাঠামোগত অপ্রতুলতা সব সময়ই থেকে গিয়েছে । জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে সরকারি উদ্যোগে শিক্ষার অবকাঠামো বৃদ্ধির হার শুরু থেকেই কম ছিল । পরবর্তীতে তা কমতে কমতে শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে ।একটা সময় ছিল সরকারি উদ্যোগ ছাড়াই বিভিন্ন এলাকার জনগণ বুক-পিঠ লাগিয়ে এলাকা ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলত ।তখন শিক্ষাকে লাভজনক ব্যবসায় হিসাবে মনে করা হত না । শিক্ষা নিয়ে সরকারের নানা রকমের প্রতারণামূলক নীতির কারণে দিনে দিনে শিক্ষা একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে ।

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে কম ঝুঁকিতে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসার নাম শিক্ষা ব্যবসা । সে কারণে দেশের শহরগুলোর আনাচে-কানাচে মুনাফাকেন্দ্রিক নিম্ন মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাঙের ছাতার মত গজিয়ে উঠছে । জনগণকে জিম্মি করে এসব প্রতিষ্ঠানের অতি মুনাফা করতে পারার কারণ সরকার গৃহীত নানারকম প্রতারণামূলক শিক্ষানীতির কারণে । এখানে সরকারের শিক্ষানীতি বলতে ‘শিক্ষানীতি’ নামক সরকারী বইটিতে কি লেখা আছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয় । স্বাধীনতার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের জনগণ একটি সংবিধান অর্জন করেছিলেন । সে কারণে শাসক শ্রেণী সংবিধানে তাদের স্বার্থের বিস্তর কথার মধ্যে জনগণেরও স্বার্থসংশ্লিষ্ট কথা সেখানে লিখতে বাধ্য হয়েছিল ।নিজেদের প্রয়োজন ছাড়া এবং নিজেদের দ্বারা সৃষ্ট বিপদ-আপদ ছাড়া শাসকশ্রেণী সংবিধানের কোন তোয়াক্কা করে না ।ঠিক তেমনিভাবে ‘শিক্ষানীতি’ নামাক বইতে কি লেখা আছে শাসকশ্রেণী তারও তোয়াক্কা করে না । তাই এদের শিক্ষানীতি বলতে এরা বাস্তবে যা করে এবং মুনাফালোভিদের যা’ করতে দেয় এবং তা’ করার জন্য যেসব পথ তৈরী করে দেয় তাকেই বুঝতে হবে ।

প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সকল স্তরে শিক্ষা এখন মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের হাতের মুঠোয় । শিক্ষা ক্ষেত্রে দিনে দিনে সরকারি তথা পাবলিক প্রভাব কমতে কমতে এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় ।প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরেতো সম্পূর্নই চলে গেছে ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রনে । বিশ্ববিদ্যায় স্তরে যতটুকু অবশেষ আছে তারও যাই যাই অবস্থা । একটি দেশের সরকার যদি এমন অবস্থা সৃষ্টি করতে না চায় তাহলে শিক্ষা ক্ষেত্রে এমন অবস্থা কখনোই হতে পারে না ।সরকারই এমন সব পথ তৈরী করে দিয়েছে যে পথে বেপরোয়া মুনাফা করা সম্ভব । শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয় শিক্ষাকে সরকার এমনই এক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে যেখানে একে ঘিরে শত রকম মুনাফা করার পথ সৃষ্টি হয়েছে ।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার কথা জনগণকে বলে আসা হচ্ছে । বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার অর্থ কি? এর অর্থ কি এই যে, যা’র শিশুটি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহনে বিদ্যালয়ে যেতে পারল না তাকে শাস্তি দেওয়া হবে ? প্রশ্নটি হাস্যকর এই জন্য যে , আজকের দিনে একজন মানুষকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না যাঁর সামর্থ্য আছে অথচ সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না । তা’ হলে ‘বাধ্যতামূলক’ কথাটির দায় কার ওপর বর্তায় ? নিঃসন্দেহে তা রাষ্ট্রের ওপর এবং রাষ্ট্রের নির্বাহী হিসাবে সরকারের ওপর বর্তায় । কিন্তু বাস্তব কার্যক্রমে কি প্রতিয়মান হয় যে সরকারের সেই বাধ্যবাধকতা আছে? দেশের সকল শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা এবং দায় সরকার অনুভব করলে সরকারকে সেই মতই পদক্ষেপ নিতে দেখা যেত । পরিবর্তে সরকারকে দায় এড়ানোর জন্য যত প্রকার পদক্ষেপ সম্ভব তাই নিতে দেখা যায় ।হাজার হলেও গণতান্ত্রিক(?) দেশ, এখানে দায় বোধ করার চেয়ে দায় এড়ানোর কৌশল অন্ততঃ ভোট প্রাপ্তির জন্য প্রয়োজন ।এ দায় এড়ানোর এক বড় কৌশল হলো মাঠ পর্যায়ে শিক্ষা নিশ্চিত না করেই পরীক্ষা এবং ফলাফল নিয়ে বাড়াবাড়ি ।বাধ্যতামূলক শিক্ষার অর্থ এ বাধ্যবাধকতা রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের নির্বাহী হিসাবে সরকারের । যেখানে প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার বাধ্য সেখানে সরকার তা না করে এর দায় এড়ানোর যত রকম কৌশল সম্ভব তাই নিয়ে থাকে ।অন্ততঃ প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা যে স্তরের শিক্ষাকে সরকারই বলে থাকে বাধ্যতামূলক , এর সম্পূর্ণ দায়ীত্ব সরকারেরই নেওয়ার কথা । কিন্তু এ পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে তেমন কোন পদক্ষেপই নিতে দেখা যায়নি ।পরিবর্তে প্রাথমিক পর্যায়েও নানা নামের এবং নানা পরিচয়ের শিক্ষা ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বাড়তে বাড়তে এখন প্রাধান্যে চলে এসেছে ।জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নামে মাত্রই বেড়েছে । এসবের চেয়েও বড় কথা হলো সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব এবং গুরুত্ব অত্যন্ত সুকৌশলে এমনভাবে কমানো হয়েছে যে , এখন শহরতো বটেই এমনকি গ্রাম পর্যায়ে পর্যন্ত মানুষ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানকে না পাঠিয়ে শিক্ষা ব্যবসায়ীদের খপ্পরে গিয়ে পড়ছে ।শহরাঞ্চলে , বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমনই বেহাল দশা যে, কোন পরিবারের শিশুকে এসব বিদ্যালয়ে পড়তে দেওয়া শিশুটির শিক্ষার প্রতি ঐ পরিবারের দায়ীত্ব এবং গুরুত্ব যে কম তাই বুঝায় ।যখন সরকারের হাতে প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যন্ত শিক্ষার কোন দায়ীত্ব এবং প্রভাব নেই তখন এ পর্যায় থেকেই পরীক্ষা এবং রেজাল্ট নিয়ে সরকারের যে বাড়াবাড়ি আর বাগাড়ম্বর তাতে করে সরকারের ভুমিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা ব্যবসায়ীদের এবং তাদের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচারের ।

বাধ্যতামূলক শিক্ষার অর্থ হলো বিদ্যালয়ই শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করবে । সেখানে পরীক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় । সেখানে পরীক্ষার একটাই অর্থ হতে পারে তা হলো বিদ্যালয় তার কাজ কতটুকু করতে পারল এবং কতটুকু ঘাটতি থাকলো তা নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা । সে যাচাইয়ের কাজ বিদ্যালয় গুরুগম্ভীর আনুষ্ঠানিক আয়োজনের মধ্যে নাও করতে পারে । প্রতিনিয়ত অনানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে তা লাগাতারভাবে হতে পারে ।সে কারণে একটি গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে বর্তমান ধারার পরীক্ষা অকল্পনীয় ব্যাপার । বর্তমানে প্রথমিক পর্যায়ে বিদ্যালয়কে যেভাবে পরীক্ষামূখী করে তোলা হয়েছে তা রীতিমত এক আতংকের ব্যাপার । আতংকের ব্যাপার দুইদিক থেকে । একদিকে এই ‘ডিজিটাল’ যুগেও প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের এক বিশাল অংশের শিক্ষা থেকে ছিটকে পড়া । অপরদিকে যারা টিকে থাকছে তাদের নির্বোধ ‘ভাল রেজাল্ট ধারি’ চিন্তাশক্তিহীন অথর্ব ‘শিক্ষিত’ মানুষরূপে আবির্ভূত হওয়ার আশংকা ।

বর্তমান সরকার দায়ীত্ব গ্রহনের পূর্বে পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণী শেষে জাতীয় পর্যায়ে কোন পরীক্ষা নেওয়া হতো না । পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো দশম শ্রেণী শেষে , যাকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এস.এস.সি) পরীক্ষা বলা হয়ে থাকে । এই সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর পঞ্চম এবং অষ্টম শ্রেণী শেষে জাতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা গ্রহন শুরু করেছে । যদিও সরকারের শিক্ষানীতিতে অষ্টম শ্রেনি পর্যন্ত প্রাথমিক পর্যায় নির্ধারণ করা হয়েছে । তার পরেও পঞ্চম শ্রেণি শেষে সমাপনী পরীক্ষার নামে কেন জাতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে ? কোন্ গবেষণা বা বিবেচনা থেকে এই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে ? ছোট ছোট শিশুদের জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার চাপের মধ্যে কেন ফেলা হলো ? এই পরীক্ষার নাম ‘সমাপনী’ পরীক্ষা কেন ? এটা কিসের সমাপন? প্রাথমিক পর্যায় যদি পূর্বের মত পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত থাকতো তাহলেও বলা যেত এটা প্রাথমিক পর্যায় সমাপ্তির পরীক্ষা । কিন্তু সরকার যেখানে প্রাথমিক পর্যায়কে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করল সেখানে আবার পঞ্চম শ্রেণিতে কিসের সমাপন ? তাছাড়াও ‘সমাপনী’ নামের মধ্যে একটি দর্শনগত সমস্যা আছে । কোন পরীক্ষাকেই সমাপনী পরীক্ষা বলা যায় কিনা ভেবে দেখা দরকার ।

সরকার কি পঞ্চম শ্রেণি শেষে জাতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা শিক্ষা ক্ষেত্রে পরীক্ষা (Experiment) করার জন্য নিচ্ছে ? সে ক্ষেত্রেও প্রশ্ন করা যেতে পারে শিশুদের ওপর এতবড় ‘পরীক্ষা’ সরকার কোন বিবেচনা থেকে শুরু করে দিল ? কোন্ কোন্ লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে সরকার এই পরীক্ষা নেওয়ার তাগিদ বোধ করল ? এই বয়সের একজন শিশু জাতীয় পর্যায়ের এমন একটি পরীক্ষার ভাল ফলাফলই হোক আর মন্দ ফলাফলই হোক তার চাপ বহন করার ক্ষমতা রাখে কি? মনোবিজ্ঞানীরা কি বলেন ? সরকারের পক্ষথেকে এমন ‘পরীক্ষা’ করতে যাওয়ার আগে কি এমন কোন গবেষণা করা হয়েছ? সরকার এবং সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে কতকগুলো মনগড়া কথা বলা ছাড়া এ পরীক্ষা নেওয়ার পিছনে কোন যুক্তি পাওয়া যায় না । শিক্ষামন্ত্রী পুস্তিকা প্রকাশ করে প্রচার করছেন এবং তিনি প্রায়ই বলে থাকেন এ পরীক্ষা প্রবর্তনের ফলে ঝরে পড়ার (তাঁর উচ্চারণে ‘ঝড়ে’ পড়া) হার কমেছে এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে ।বাংলাদেশের সৃষ্টি লগ্ন থেকেই দেখা যায় শাসক শ্রেণির নির্বাহীরা বিশেষ করে সরকারের ওপর পর্যায়ের লোকেরা কোন প্রকার জরিপ, তথ্য , যুক্তির তোয়াক্কা না করে মনগড়া কথা বলে থাকেন ।শিক্ষামন্ত্রীর কথাও সেরকমই মনগড়া কথা ছাড়া আর কিছু নয় ।ঝরে পড়ার হার কমে গিয়েছে এ কথার যুক্তি কি?বরং প্রকৃত তথ্য হলো যে , এ পর্যায়েই শিক্ষার ব্যয়ভার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে গরীবদের পক্ষে তাঁদের সন্তানকে এ পর্যায় থেকেই পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ পরীক্ষা প্রবর্তনের ফলে কিভাবে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি পেল ? সরকার যদিও প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক বলে থাকে এবং সেঅনুযায়ী এ পর্যায়ে কোন বেতন থাকার কথা নয় । কিন্তু এই বিনাবেতনে কতভাগ শিক্ষার্থী পড়ছে? সরকারের কি সে জরিপ আছে ? শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে যদি এমন অবস্থা থাকে যে, কেউ মনে করে তারা খয়রাত গ্রহন করছে এবং কেউ মনে করে তারা দাম দিয়ে শিক্ষা গ্রহন করছে , তাহলে প্রথমেই একটা অংশের শিক্ষা বলে আর কিছু প্রাপ্তি থাকে না । বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার অবস্থা এমনই । কেউ উচ্চ দাম দিয়ে নামকরা বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা ক্রয় করছে যেসব বিদ্যালয়ের উচ্চ প্রশংসা আবার সরকারের লোকদের মুখে সব সময় শোনা যায় । আর গরীবদের জন্য আছে খয়রাতি ব্যবস্থা । যেখানে সরকারের জায়গা থেকেই হিসাব করলে শিক্ষার কিছু পাওয়া যাবে না ।এ অবস্থার মধ্যেও গরীবরা পথ হাতড়ে ফিরছিলেন । কিন্তু পঞ্চম শ্রেণি শেষে ‘সমাপনী’ পরীক্ষা প্রবর্তনের পর থেকে গরীবদের সেই পথ হাতড়ে ফেরাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে । এর ফলে শিক্ষার আনুসঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে । এ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের প্রায় বাধ্যতামূলকভাবে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে । বাধ্যতামূলকভাবে গাইড বই ক্রয় করতে হচ্ছে ।এসবের ভিত্তিভুমি শিক্ষামন্ত্রীর কথার মধ্যেই পাওয়া যাবে । তিনি যে কোন পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্টের সময় মিডিয়ার সামনে বলে থাকেন যেসব বিদ্যালয় ভাল করেনি সেসব বিদ্যালয়ের বিরূদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।তাঁর এসব কথা থেকেই একটি দেশের শিক্ষা পরিস্থিতি সম্পর্কে এবং সেক্ষেত্রে ওপরওয়ালাদের খোঁজখবর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় । শিক্ষামন্ত্রীর এমন হুমকির ফলে গরীবদের জন্য যেসব বিদ্যালয় সেসবকেও কিছু পদক্ষেপ নিতে হয় । কি সেই পদক্ষেপ ? বাধ্যতামূলক প্রাইভেট পড়তে চাপ সৃষ্টি করা । এখনতো আবার মন্ত্রী মহোদয় বিদ্যালয়ের মধ্যেই তার বৈধ ব্যবস্থা করে দিয়েছেনএবং কত টাকা লাগবে তাও নির্ধারণ করে দিয়েছেন !বিদ্যালয় থেকেই গাইড বই ক্রয়ের পরামর্শ দেওয়া হয় । গাইড বই থেকে সাজেশন ভিত্তিক পড়া দাগিয়ে দেওয়া হয় । এ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে টেস্ট পেপারস বের করা হয়েছে । সেগুলো ক্রয় করতে শিক্ষার্থীরা বাধ্য । বিশ-ত্রিশ লক্ষ শিক্ষার্থীর বিরাট এক বাজারে এসব ব্যবসা জেকে বসেছে ।শিক্ষামন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে যখন এসবের কিছুই দেখছেন না তখনতো প্রশ্ন করা যেতেই পারে তাঁরা নিজেরাই এসব ব্যবসার সাথে কোন না কোনভাবে জড়িত কিনা ?এমন প্রশ্ন মনে আসার যথেষ্ট কারণ আছে ।‘প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১২ টেস্ট পেপারস; সুপার সাজেশন্স’ নামে লেকচার পাবলিকেশনের একটি বই বাজারে দেখা যাচ্ছে ।এই বইটিতে ১০০% কমনের নিশ্চয়তা দিয়ে একটি গ্যারান্টি সীল দেওয়া আছে ।সেই গ্যারান্টি সীলের উপরে ‘১০০% NAPE Format’ লেখা আছে । NAPE হচ্ছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী (নেপ)।এই নেপের মহাপরিচালকের স্বাক্ষর সংবলিত একটি প্রজ্ঞাপন এই বইটির সাথে সংযোজন করা হয়েছে ।শুধু তাই নয় যেসব তথ্য বিদ্যালয়গুলো এখনও শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করেনি এই গাইড বইটিতে সেসব তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে সমাপনী পরীক্ষার শুধুমাত্র তারিখটি ঘোষনা করা হলেও এ বইটিতে পরীক্ষার রুটিন পর্যন্ত সংযোজন করা হয়েছে ।অভিভাবকগণ এ বইটি দেখলে বিভ্রান্ত না হয়ে উপায় নেই ।অভিভাবকেরা যাতে এ বইটি ক্রয় করে তার জন্য এত সব সরকারি তথ্য দিয়ে সকল প্রকার মতলব আটা হয়েছে ।সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং তার কর্তাব্যাক্তিরা কি এগুলোর কিছুই জানেন না ? শুধু এ বইটিই নয় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষাকে ঘিরে এ ধরণের আরও আনেক গাইড বই বাজার ছেয়ে আছে । এ সরকার শিক্ষানীতির মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার স্তরকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার ঘোষনা দিয়েও কেন পঞ্চম শ্রেণিতে জাতীয় পর্যায়ে ‘প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা’ নেওয়া শুরু করে দিল ? এতকাল যা’ চলে আসল ,পৃথিবীর কোন দেশে যা’ খুঁজে পাওয়া কঠিন হঠাৎ করে সরকার তাই শুরু করে দিল কেন ? এ পরীক্ষার নাম ‘সমাপনী’ পরীক্ষা দিয়ে সরকার কাদের শিক্ষা জীবনের সমাপন ঘোষনা করছে ? এসব প্রশ্নের উত্তর কি এসব গাইড ব্যবসা এবং প্রাথমিক পর্যায়েই শিক্ষা নিয়ে রমরমা ব্যবসার মধ্যেই খুঁজতে হবে?

এসব পরিস্থিতি বিবেচনা করলে ঝরে পড়ার হার কমার পক্ষে কোন যুক্তি মেলে না ।উপরন্তু অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে অনেকেই নিরবে তার সন্তানের শিক্ষা জীবনের এখানেই ইতি টানতে বাধ্য হচ্ছেন । শিক্ষামন্ত্রী ২০১১ সালের সমাপনী পরীক্ষার রেজাল্টের দিন বলেছিলেন সমাপনী পরীক্ষার সার্টিফিকেটের জন্যই নাকি ঝরে পড়ার হার কমেছে ! এর চেয়ে হাস্যকর আর কি হতে পারে ? যাঁরা সন্তানের শিক্ষা জীবনের এখানেই ইতি টানতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁদের দুর্ভাগ্যের দীর্ঘশ্বাস হিসাবে এই সার্টিফিকেটের কিছু মূল্য থাকলেও যারা পরবর্তীতে লেখাপড়া চালিয়ে যাবে তাদের কাছে এই সার্টিফিকেটের আলাদা মূল্য কি? পঞ্চম শ্রেণির সার্টিফিকেট একটি বিদ্যালয় থেকে দিলে তারই বা মূল্য এ তুলনায় কম হওয়ার পক্ষে যুক্তি কি ?এর পক্ষে যুক্তি দিতে গেলে শিক্ষা ব্যবস্থাটির মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ঝরে পড়ে হয় ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় অথবা উচ্ছেদ হয়ে যায় ।সেই অবস্থাই এখন ঘটছে । রেজাল্টের দৌড়ে শিশুদের তো তাড়িত করা হচ্ছেই অভিভাবকরাও বিভ্রান্ত হয়ে ছুটাছুটি করছেন । সাধারণ বিদ্যালয়গুলোতে থাকলে ভাল রেজাল্ট করা সম্ভব নয় ভেবে যাদের ন্যূনতম সামর্থ্য আছে তারাও চটকদার বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে গড়ে ওঠা উচ্চ মুনাফার প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের সন্তানদের নিয়ে যাচ্ছেন । এর ফলে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যেগুলো গরীবদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানরূপে এখনও বিদ্যমান সেগুলো এমনসব শিক্ষার্থী নিয়ে চালাতে হচ্ছে যাদের পারিবারিক এবং আর্থিক অবস্থার কারণে কোনমতেই ভাল রেজাল্ট করা সম্ভব নয় ।এর ফলে এসব প্রতিষ্ঠানকে হয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে হবে অথবা শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে শুধুমাত্র নামেই থাকতে হবে ।

সরকারি নীতির কোন দিনই কোন তলা খুঁজে পাওয়া যায় না । সরকার ঘোষনা করে এক নীতি কাজ করে আরেক নীতিতে । লিখিত নীতির ধারেকাছেও সরকার থাকে না । জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী মূল্যায়ন প্রসঙ্গে ঘাষণা দিচ্ছে -‘পঞ্চম শ্রেণি শেষে উপজেলা/পৌরসভা/থানা(বড় বড় শহর)পর্যায়ে সকলের জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।’ এখানে কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে অর্থাৎ পাবলিক পরীক্ষার কথা বলা হয়নি, যেমনটি বলা হয়েছে অষ্টম শ্রেণি শেষে পরীক্ষার ক্ষেত্রে । সেক্ষেত্রে পাবলিক পরীক্ষা নামেই তাকে অভিহিত করা হয়েছে এবংপরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পরিচালিত হবে এ কথা উল্লেখ আছে । যেহেতু পঞ্চম শ্রেণি শেষে জাতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা গ্রহনের কথা বলা হয়নি তাই সেক্ষেত্রে পরীক্ষা কাদের দ্বারা পরিচালিত হবে সেটা বলার প্রয়োজন হয়নি । প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে উপজেলা বা থানা পর্যায়ে অভিন্ন প্রশ্ন পত্রে পরীক্ষা গ্রহন কোন নতুন ব্যাপার নয় । তাই শিক্ষানীতির ঘোষনা অনুসারে বুঝা যায় বিদ্যালয়গুলোই সে পরীক্ষা পরিচালনা করবে । বড়জোর উল্লেখিত পর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলো কর্তৃক সেগুলো পরিচালিত হওয়ার ব্যাপার একটু দুর কল্পনা করে বুঝা যেতে পারে । কিন্তু এত অল্প বয়সের বাচ্চাদের এত ব্যাপক সমারোহে জাতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা গ্রহনের বিষয় কল্পনাতীত ।কোন ন্যূনতম বিচার বোধ সম্পন্ন মানুষের পক্ষে তা কল্পনা করা অসম্ভব হওয়ার কথা । কিন্তু বাংলাদেশ এক অদ্ভুত দেশ এখানে সেই অকল্পনীয় ব্যাপারই ঘটছে । যা’ শিক্ষানীতির মধ্যে নেই এবং যারা এই শিক্ষানীতি প্রণয়ন করল তারাই প্রণয়নের পর থেকেই তা লংঘন করা শুরু করল! অবস্থা দৃষ্টে মনে প্রশ্ন জাগে শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যাক্তিগণ কি শিক্ষা নীতিটিও পড়েছেন ? যদি পড়ে থাকেন তাহলে কি তাঁরা জেনে বুঝেই তা লংঘন করছেন ? কেন? নীতির মধ্যে আবার অন্য নীতি কেন ? শিশুদের জাতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা নেওয়ার যদি কোন ভাল দিক থাকত তবে তা শিক্ষানীতির মধ্যে ব্যাখ্যাসহ উল্লেখ থাকল না কেন ?

একটা সময় ছিল যখন শিক্ষাক্ষেত্রসহ সমাজের যে কোন অসংগতির বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠত । আওয়াজ তোলার মত ছাত্র সংগঠন ছিল । অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় এখন সবই ধান্দাবাজির মধ্যে চলে গেছে । ছাত্র সংগঠনগুলো এখন ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠার প্রজেক্ট হিসেবে কাজ করে । ব্যাক্তিগত বৃত্তি , ব্যাক্তিগত প্রতিষ্ঠার ধান্দাবাজির জন্যই মনে হয় এখন ছাত্র সংগঠন করার স্বার্থকতা ! বুদ্ধিজীবী(?)গণ এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত রাখেন ।প্রাথমিক শিক্ষা তাঁদের উচ্চতায় থেকে দেখা সম্ভব নয় , তাই তাঁদের দিক থেকে এসব দেখার কোন কারণ নেই! তা না হলে সারা দেশব্যাপি প্রতিবাদের ঝড় উঠত । ছোট ছোট বাচ্চাদের এমন রেসের মধ্যে ফেলে তাদের অথর্ব বানানোর দুঃসাহস কেউ দেখাতে পারত না ।