ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

বাংলাদেশে কখন কোন্ বিষয় নিয়ে বিতর্ক(?) শুরু হয়ে যায় তা’ কেউ বলতে পারে না ।এসব বিতর্কের বিষয় বস্তুর মধ্যে বৈচিত্র্যও থাকে অনেক ।কখনো এমন সব বিষয় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় যা’র সাথে গণমানুষের কোন সম্পর্কই থাকে না ।আবার কখনো কখনো অতি পরিচিত বিষয় যা’ বহুকাল ধরে হয়ে আসছে, ঘটে আসছে তা’ নিয়ে এমন বিতর্ক শুরু হয় যেন , এগুলো যে দু’দিন আগেও ঘটে আসছিল, হয়ে আসছিল এমনটি জানাটাও যেন ঠিক নয় ।পক্ষের বিপক্ষের উভয়ের কাছেই যেন তা’ অতি অপরিচিত ব্যাপার। পক্ষওয়ালারা যেন তাকে নতুন করে নিজ কৃতিত্বে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছেন এবং বিপক্ষওয়ালারা এমনভাবে তা বাতিল করতে চাচ্ছেন যেন সেগুলো এতদিন মহা পাপের মধ্যদিয়েই টিকে ছিল! ফলে এসবের পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি বলে কোন কিছু পথ খুঁজে পায় না। শেষ পর্যন্ত সেগুলো গ্রাম্য ঝগড়ার মধ্যদিয়ে গায়ের জোর যেদিকে সেদিকে ঢলে পড়ে ।বর্তমানে এমন এক বিষয় নিয়ে বিতর্ক এবং আন্দোলন চলছে যা’ বহুকাল ধরে হয়ে আসছে । মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা । এ ভর্তি পরীক্ষা কোন নতুন বিষয় নয় ।বহুকাল ধরে তা’ হয়ে আসছে। কোন কিছু বহুকাল ধরে যখন ঘটে চলে তখন তা এমনি এমনিই ঘটে চলে না ।তা’ কতকগুলো শর্তে ঘটে, কারণে ঘটে ।মেডিকেল সহ সকল ক্ষেত্রেই ভর্তির ক্ষেত্রে যে পরীক্ষা পদ্ধতি চলে আসছে তার কতকগুলো শর্ত এবং কারণ আছে । সেসব শর্ত বা কারণের পরিবর্তন হলে বহুকাল ধরে চলে আসা সত্বেও পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটতে পারে ।কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখনই যখন শর্ত বা কারণ না বদলালেও পদ্ধতির বদল ঘটানোর মত পরিস্থিতি ঘটে।

হঠাৎ করেই সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হলো এ বছর অর্থাৎ ২০১২ সাল থেকে মেডিকেলে ভর্তির ক্ষেত্রে কোন পরীক্ষা নেওয়া হবে না । এস.এস.সি এবং এইচ.এস.সি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই সরাসরি মেডিকেলে ভর্তি করা হবে ।এ পরিবর্তনের কারণ বা যুক্তি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে নির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি ।কারণ হিসাবে প্রচার মাধ্যমের নানা উৎস থেকে নানা কথা প্রচার করা হচ্ছে । কখনো শোনা যাচ্ছে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার জন্যই সরকারের এমন সিদ্ধান্ত ।কখনো শোনা যাচ্ছে প্রশ্ন পত্র ফাঁস হওয়ার মত ঘটনা এড়ানোর জন্যই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে । আবার কখনো শোনা যাচ্ছে এসব কিছুই নয় ভর্তি প্রক্রিয়াকে ঝামেলামুক্ত এবং সহজ করার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।এ সিদ্ধান্ত গ্রহনের পর পরই একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠান সূচীতে জানা গেল এ বিষয়টির ওপর টক শো অনুষ্ঠিত হবে । অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে সে অনুষ্ঠানটি দেখলাম এবং শুনলাম ।সে টক শো’তে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন ।তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন সিদ্ধান্ত বাতিলের পক্ষের বিপক্ষের দুজন ডাক্তার, একজন সাংবাদিক এবং উপস্থাপক ।উপস্থাপক বাদে অন্য যাঁরা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা মন্ত্রী মহোদয়ের যুক্তিকেই প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আলোচনাটিতে এসেছিলেন বলে মনে হলো ।স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কথা থেকে ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে যা’ জানা গেল তাকে ঠিক যুক্তি বলে মনে করা যায় না । তিনি বার বার একটি কথাই বলে গেলেন সেটা হলো ‘এটা কোন নতুন বিষয় নয়’।বাংলাদেশের উপর পর্যায়ের দায়িত্বশীল মানুষদের নিকট থেকে প্রায়ই আমরা এমন সব কথা শুনি যাতে মনে হয় যেন তাঁরাই সব কিছু বুঝতে পারেন অন্যরা তা’ বুঝতে পারেন না । এখানেও ব্যাপারটি তাই বলেই মনে হলো । নতুন ব্যাপার যদি না হয়ে থাকে তা’ হলে তো আলোচনারও প্রয়োজন ছিল না ।এতগুলো শিক্ষার্থীর রাস্তায় নামারও প্রয়োজন ছিল না । নতুন কিছু একটা তো অবশ্যই ঘটেছে যার জন্য এতসব আলোচনা এবং এতসব প্রতিবাদ। সেই ‘নতুন’কে পরিষ্কার করে বুঝানোর দায়িত্ব তাঁদেরই যাঁরা তা’ উপস্থাপন করলেন । তা না করে যদি বলা হয় ‘এটা কোন নতুন বিষয় নয়’, তবে সেই ‘নতুন’ এবং তার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরী হতেই পারে ।

এতকাল যেটা হয়ে আসছিল সেটা হলো মেডিকেলে ভর্তির যোগ্যতা নির্ণয়ের জন্য মোট ১০০ নম্বর ধার্য্য করে তার ৫০ রাখা হতো এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি’র ফলাফল থেকে এবং বাকি ৫০ নম্বর রাখা হতো ভর্তি পরীক্ষা থেকে ।এর মধ্যদিয়ে এস.এস.সি ,এইচ.এস.সি’র ফলাফলের মূল্যায়নও হতে পারত এবং শুধুমাত্র মেডিকেল পড়ার জন্য যারা বিশেষভাবে উপযোগী ভর্তি পরীক্ষার মধ্যদিয়ে তাও নির্ধারণ করা যেতে পারত ।আমাদের দেশে যেহেতু নির্দিষ্ট করে প্রি মেডিক্যাল বা প্রি ইঞ্জিনিয়ারিং বলে কিছু নেই কাজেই যে পদ্ধতিটি ছিল তার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি পাওয়া যেতে পারে ।তাই বলে যে এর ওপরে আর কোন যুক্তি থাকতে পারে না তাতো নয় এবং যুক্তি মানুষ বুঝবেন না তাও নয় ।বিপত্তি হয় তখনই যখন পূর্বের নিয়মটি বাতিল করার ক্ষেত্রে তা কেন খারাপ আবং নতুন নিয়মটি কেন ভাল তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা না থাকে ।ভাল ব্যাপারটি যার জন্য তাকে তো বুঝতে হবে , শুধু ওপরওয়ালাদের বুঝলে তো চলবে না। ওপরওয়ালারা তো সব সময় মানুষের ভালই করতে চান! পৃথিবীতে এমন কোন ওপরওয়ালা আছেন যিনি মানুষের ভাল করতে চান না ?কিন্তু ওপরওয়ালা যখন নিজেই শুধু বুঝেন অন্যরা বুঝতেই পারেন না অথচ ওপরওয়ালার সেই ‘ভাল করার’ বুঝই মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার যে তত্ত্ব তাই তো ফ্যাসিবাদ ।আমি বলছি না ফ্যাসিবাদ কোন খারাপ বিষয়। ফ্যাসিবাদও একটি তত্ত্ব ।এমন একটি তত্ত্ব, যে তত্ত্বের অনুসারিও নিজেকে ফ্যাসিস্ট বলেন না !ফ্যাসিবাদের এটাই যা’ সমস্যা।তা না হলে ফ্যাসিবাদ দিয়েও মানুষের ভাল করা যেত!

মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহনের পক্ষে সবচেয়ে বড় যুক্তি হিসাবে প্রথম দিকে যা শোনা গিয়েছিল তা হলো কোচিং বাণিজ্য বন্ধের জন্যই এমন এক মহত উদ্যোগ নাকি নেওয়া হয়েছে !কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথা থেকে জানা গেল আসলে নাকি সেটা কোন কারণ নয়। আবার কারণ হিসাবে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বললেনও না !বাংলাদেশে অনেক রকমের কাণ্ডই চলতে দেখা যায় । অনেক কিছুই প্রসারের জন্য এবং লক্ষ্যেও সেসবের বিরূদ্ধে প্রচার প্রচারণা চালানো হয়ে থাকে ।অন্য বহু ক্ষেত্রে এমন কথা বলা যায় । সেসব বাদ দিলে শুধুমাত্র শিক্ষার ক্ষেত্রেও যদি বলা যায় সে উদাহরণও যথেষ্টই দেওয়া যাবে ।প্রায়ই একটি বিষয় ঘটতে দেখা যায় তা’ হলো নোট বই উচ্ছেদের জন্য সরকারি অভিযান ।সরকারি অভিযানে নোটবই উচ্ছেদ তো হয়ইনি বরং যতই নোটবইয়ের বিরূদ্ধে সরকারি অভিযান পরিচালিত হয়েছে ততই নোটবইয়ের প্রচার ,গুরুত্ব এবং সে অনুযায়ী তার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ।তাই সন্দেহের যথেষ্ট কারণ আছে যে নোট বইয়ের বাজার আরো রমরমা করার জন্যই এসব অভিযান চালানো হয়ে থাকে ।যেসব বিষয় কোন সমস্যার মূল কারণ নয় বরং সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার মধ্য থেকে উদ্ভুত সেসব বিষয়কে সমস্যার কারণ হিসাবে দেখানো এবং তার বিরুদ্ধেই শুধু প্রচার করা যেমন সমস্যার আসল কারণ আড়াল করার মতলববাজি তেমনই উদ্ভুত বিষয়গুলোর প্রচার করাও হয় বটে ।এ প্রচার অন্য অনেক বাণিজ্যিক প্রচারের চেয়ে বহুগুণে শক্তিশালী এবং কার্যকর ।কাজেই কোচিং বাণিজ্য বন্ধের জন্য যদি সরকারের একটি সিদ্ধান্ত পাল্টানোর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় তবে তার ফলে কোচিং এর ক্ষমতা এবং এর অনিবার্যতার পক্ষেও যুক্তি প্রতিষ্ঠিত হয় ।মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা তুলে দিলে এর জন্য আর কোচিং এর প্রয়োজন হবে না সত্য ।কিন্তু এমন তো নয় যে,কোন শিক্ষার্থী চাইলেই মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবে? তাকে তো প্রতিযোগিতা করতেই হবে ।মেডিকেলে ভর্তির জন্য লক্ষ শিক্ষার্থী যোগ্যতা অর্জন করলেই কি তারা সবাই মেডিকেলে ভর্তি হতে পারবে?পারবে না । তা’ হলে তাকে প্রতিযোগিতা করতেই হবে । সে প্রতিযোগিতা হবে আরো দীর্ঘমেয়াদি ফলে আরো ব্যয় সাপেক্ষ এবং আরো শহরকেন্দ্রীক ।অর্থাৎ কোচিং অন্য ক্ষেত্রে আরো বেশি গভীর হবে ।কাজেই যাঁরা শিক্ষা নিয়ে ভাবেন তাঁরা কোচিং বন্ধের জন্য পরীক্ষা বন্ধের যুক্তি দিতে পারেন না ।আবার কোচিং আইন করে বন্ধ করারও কোন যুক্তি থাকতে পারে না । তা’ও কোচিং আরো গভীর করবে।কোচিং যে সমস্যার কারণে উদ্ভুত সরকার তার সমাধান করলেই কোচিং সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে ।সে বিষয় নিয়ে অন্য লেখায় আলোচনা করা যাবে ।

আর একটি ভয়ংকর কথা শোনা যাচ্ছে তা হলো ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁস হয়ে যায় এবং ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে ভর্তি প্রক্রিয়াকে কলুষ মুক্ত করতেই ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে !এ কথাটি যতই অদ্ভুত শোনাক যতই উপমা ব্যবহার করে এর হাস্যকর দিকটি তুলে ধরা হোক না কেন , এর মধ্যদিয়ে একটি আশংকাও ঘনীভূত হয় ।বলা হচ্ছে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ভর্তি নেওয়া হলে ভর্তি প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ হবে । কিন্তু প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছুই বলা হচ্ছে না ।যখন প্রশ্ন উঠছে একই জিপিএ’র বহুসংখ্যক ভর্তি প্রার্থীর জন্য কি করা হবে ,তখন বলা হচ্ছে তখন নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে ।এখন প্রশ্ন হচ্ছে নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়নের দিকটি সম্পূর্ণ অন্ধকার নয় কি? কারণ শিক্ষার্থীদের কাছে কোন নম্বরের দলিল তো নেই ।যখন একজন শিক্ষার্থী দুই পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ ১০ পেয়েও ভর্তি হতে পারবে না তখন তাকে বলা হবে জিপিএ ১০ পেলেও সে জীববিজ্ঞানে অন্য একজন যে জিপিএ ১০ পায়নি অথচ জীববিজ্ঞানে তার চেয়ে বেশি পেয়েছে তাকেই ভর্তির জন্য যোগ্য মনে করা হয়েছে ।খুবই ভাল কথা। কিন্তু এখানে অন্ধকার দিকটি হলো যে সুযোগ পেল সে এবং যে বঞ্চিত হলো সে কেউই জানতে পারল না তাদের জীববিজ্ঞানের নম্বর ।জানতে চাইলে বহু কাঠ-খড় পোড়াতে হবে।এরকম ক্ষেত্রে দুর্নীতির ঝুঁকির চেয়ে কি প্রশ্ন পত্র ফাঁসের ঝুঁকি কম ?যে কেউ , যাঁর সাধারণ বিচারবোধ আছে বলবেন এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি করার ক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজের ঝুঁকি প্রশ্ন পত্র ফাঁসের ঝুঁকির চেয়ে অনেক কম ।

বাংলাদেশ এক অদ্ভুত দেশ । এখানে এমনসব কর্মকাণ্ড শাসক শ্রেণি করে থাকে যা’ থেকে তাদের বিচারবোধ সম্পর্কে দারুণভাবে প্রশ্ন ওঠে ।অনেক ক্ষেত্রেই মনে হয় তাদের বিচারবোধ কি আসলেও এতটাই কম?সে প্রশ্নের জবাব একটাই তা হলো সকল বিচারবোধ লোপ পায় যখন মতলববাজি সবকিছুকেই ছাড়িয়ে যায় । মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকেও তাই মনে হয় ।এখন শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষার জন্য মিছিল করছে!কিন্তু তাদের, অন্ততঃ দুই পাবলিক পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ জিপিএ পেয়েছে তাদের মিছিল করার কথা ছিল ভর্তি পরীক্ষা না নিয়েই তাদের ইচ্ছানুযায়ী পছন্দের বিষয় পড়তে পারার দাবি থেকে ।এ বলে যে, তাদের ভাল ফলাফল নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী সহ শাসক শ্রেণির লোকেরা এইতো ক’দিন আগেই কত গলাবাজি করল। তাদের গুণমুগ্ধ হয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হলো । সর্বোচ্চ ফলাফলের স্বীকৃতি তাদের দেওয়া হলো । অথচ তারা ভর্তি হতে গিয়ে তাদের পছন্দের বিষয় পড়তে পারছে না ।সেদিক দিয়ে তাদের সর্বোচ্চ ফলাফলের স্বীকৃতি চেয়ে তাদের মিছিল করার কথা ছিল ।যেসব দেশে শাসক শ্রেণি তাদের সার্বিক শিক্ষানীতি এবং শিক্ষা পরিকল্পনার মধ্য থেকে ভর্তিক্ষেত্রে এমন সংকট দুর করতে পারে না ,সেসব দেশেই নিজেদের এই সংকট এবং ব্যর্থতার দায় শিক্ষার্থীদের ওপর যৌক্তিক ভাবে চাপিয়ে দেওয়ার জন্যই ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে শাসক শ্রেণি নিয়ে থাকে ।সেদিক দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা শাসক শ্রেণির ব্যর্থতা এবং সংকট নিরসনের জন্যই নেওয়া হয়ে থাকে ।তাহলে মতলববাজি কোথায় গিয়ে পৌঁছালে এসব বিচার বোধ ভুলে যাওয়া সম্ভব তা ভেবে দেখা দরকার ।

সবশেষে যে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হলো ,এই সরকারই অনেক হাঁকডাক করে জাতিকে একটি শিক্ষানীতি উপহার দিয়েছন। সেই জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ স্পষ্ট উল্লেখ আছে-“মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া অব্যাহত থাকবে”। তাহলে সরকার কি এরই মধ্যে শিক্ষানীতির পরিবর্তন করেছেন? কখনো কোন ঘোষনা দিয়েছেন? তাহলে কি নিজেদের প্রণীত শিক্ষানীতি নিজেরাই গোপনে পরিবর্তন করেছেন?নাকি ওটা সরকার মানেন না? ওটা কি তাহলে শুধুই লেখার জন্যই লেখা হয়েছে ? এরকমই আরো একটি বিষয় দেখা যাচ্ছে । সেটাও শিক্ষানীতি বিষয়ক। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এ উল্লেখ আছে –‘পঞ্চম শ্রেণি শেষে উপজেলা/পৌরসভা/ থানা(বড় বড় শহর)পর্যায়ে সকলের জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে’।পঞ্চম শ্রেণির ছোট ছোট বাচ্চাদের এমন পরীক্ষা নিয়েও যেখানে প্রশ্ন তোলা যায়, সেখানে সরকার এটাকেও লংঘন করে জাতীয় পর্যায়ে পরীক্ষা গ্রহন করছে ! সরকারের নিজেদের লিখিত নীতি এমনভাবে লংঘন করে এমন কর্মকাণ্ড চালানোর অনেক কারণের মধ্যে কয়েকটি হলো –গরীব মানুষের শিক্ষার ব্যয় বাড়িয়ে তাদের সন্তানের শিক্ষাকে কঠিন করে তোলা ,শিক্ষা নিয়ে নিম্ন মানের বই , গাইড বই ইত্যাদির রমরমা ব্যবসার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা । প্রাথমিক পর্যায় থেকেই কোচিং বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো ।এসব সত্বেও সরকারি ছিকের দিকে অপলক চেয়ে থাকা শিক্ষাবিদ,কথিত গণশিক্ষা বিস্তারকারী লোকেরা চেয়ে আছেন কখন শিঁকে ছিঁড়বে!