ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

বর্তমান মহাজোট সরকার , কার্যত আওয়ামী লীগ সরকার তার ডুবন্ত নৌকায় মাঝপথেও নয় কিনারায়, অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে আরো কয়েকজন যাত্রীকে টেনে তুললেন! তার মধ্যে আবার দু’জন যাত্রীর হাবুডুবু খাবার দশা!রাজনৈতিক মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছা পুরণের মত বড় দিল আওয়ামী লীগেরই আছে!আওয়ামী লীগ বড় দিলের পরিচয় দিয়েই ডুবন্ত নৌকায় দাঁড়িয়ে ডুবন্ত ভারি মানুষের হাত ধরার সাহস দেখাতে গিয়েছিল । কথায় বলে ডুবন্ত মানুষের হাত ধরা দুঃসাহসের পরিচয়।এমন দুঃসাহস অবশ্য আওয়ামী লীগই দেখাতে পারে !অবশ্য দুই ডুবন্তের দিকে হাত বাড়ালেও অদ্ভুৎ কারণে ডুবন্ত একজন আবার মহানুভবতার এমন হাত ফিরিয়ে দিলেন !চাতকের মত চেয়ে থাকা একজন অবশ্য সাড়া দিলেন । হাতের টানে ডুবন্ত মানুষ উঠে পড়লেন ডুবন্ত নৌকায় ।অত্যন্ত বুদ্ধির পরিচয় দিলেন তিনি ।সে বুদ্ধির পরিচয় নৌকায় ওঠার পর তাঁর কথার মধ্যেও পাওয়া গেল ।বটেই তো !নৌকা ডুবন্ত তাতে কি? ভাল খেলোয়াড়েরাতো খেলা শেষের শেষ বাঁশি বাজিয়ে দেওয়ার অব্যাবহিত পরেও গোল করে বসেন! সে জায়গায় এখনও তো অনেক খেলাই বাকি ! কাজেই গোল করার এখনও অনেক সুযোগ রয়ে গেছে !কারো আশা , কারো আশংকা । তবে তিনি যে গোল করবেন সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ থাকার কারণ নাই ।

অপর জনের কষ্ট ভারি। কি যে বোকার মত কাজটিই তিনি করে বসলেন!মহানুভবতার হাত ঠেলে ফেরালেন!এখন তিনি কান্নার ভাষা এবং সুর কোনটিই খুঁজে পাচ্ছেন না! হাতকে ফিরিয়ে দিয়ে দানকে পায়ে ঠেলার কারণ প্রথমে বুঝা গেল না ।প্রথমে মনে হয়েছিল ব্যাপরটি বুঝিবা রাজনৈতিক ।বিশেষ করে যখন তাঁকে দিতে যাওয়া এ দান পায়ে ঠেলায় তাঁর লোকজন মিষ্টি বিতরণ করলেন ।রাজনৈতিক!! রাজনৈতিকভাবে ডুবতে বসা এমন একজন লোকের তাকত-হিম্মত- সাহস দেখে মন কঠিন হয়ে আসলেও সেই কাঠিন্যের চাপে চোখে পানি এসে যায়!কিন্তু মনে আবার ধন্দ লাগে।তিনিতো ডুবছেন একদিক থেকে যা’ তিনি বলেন এবং ভেসে উঠছেন অপরদিক থেকে যা তিনি এখনও মুখে বলেন না ।সেদিক দিয়ে একদিকে ডুবলেও যা’ তিনি চান না অথচ মুখে বলেন,অপর দিকে ক্ষমতাবান যা’ তিনি চান অথচ মুখে বলেন না ।তাই ক্ষমতা তাঁর সব সময়ই আছে ।তিনি এক বিশাল কমিটির প্রধান ব্যাক্তি ।তাঁদের সেই মিলিত ক্ষমতায় শিক্ষার মত একটি বিষয়কে মুচড়িয়ে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে গিয়েছেন তাঁর বর্তমান এবং ভবিষৎ চিত্র মনে করলে তাঁদের ক্ষমতার পরিমাপ করা যায়।ক্ষমতা না থাকলে শিক্ষাকে সম্পূর্নরূপে বাণিজ্যিক করা কি সম্ভব?তাঁরা তাই করতে সক্ষম হয়েছেন ! ভর্তি বাণিজ্য থেকে প্রশ্ন বাণিজ্য , ফলাফল বাণিজ্য সবই অত্যন্ত নিপুণ দক্ষতায় করতে সক্ষম হয়েছেন! গরীব মানুষের সন্তানদের শিক্ষার ক্ষেত্র থেকে অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে ছিটকে ফেলে দেওয়ার সকল পথ এবং আয়োজন সগৌরবে করেছেন!!এর মধ্যেও দেশের কল্যাণ আছে ,ফলে এ কর্মে আছে দেশপ্রেম! কৃষকের বাচ্চা কৃষক না হলে ফসল ফলাবে কে !! শ্রমিকের বাচ্চা শ্রমিক না হলে উৎপাদন করবে কে !!!তিনিতো গরীবের বন্ধু ,শ্রমিক-কৃষকের বন্ধু ! সেই ষাটের দশকের উত্তাল সময়গুলো থেকে বলে আসছেন।তাঁদের মুক্তির জন্য পারিবারিক ,পৈত্রিক এবং তাঁর নিজেরও বটে কত ঐশ্বর্য্য , কত সুযোগ কত সুবিধা ‘ত্যাগ’ করেছেন!!তাঁর নিজের কি অসুবিধা ছিল?মানুষের,বিশেষ করে গরীব মানুষের মুক্তির জন্য প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়া সত্ত্বেও গিলে চেপে ধরে রেখেছেন!সেই মানুষদের তিনি ভুল পথে পরিচালিত হতে দিতে পারেন না ! বিশেষ করে তাদের শিক্ষার বিষয়টি নিয়ে তাঁকে অবশ্যই ভাবতে হয় !তার পর আবার তিনি এক সময়ের আইয়ুব-মোনেমের তখতে তাউস কাঁপিয়ে দেওয়া ছাত্র নেতা !সে কারণেই তিনি অন্য সকল কমিটির প্রধান হওয়া থেকে শিক্ষা কমিটির প্রধান হওয়াকেই বেছে নিয়েছেন!নামকরা বড় বড় বিদ্যালয়ে গরীবদের পড়তে যাওয়া মানে সাংষ্কৃতিকভাবে হীনমন্যতার যন্ত্রনায় সবসময় ভুগতে থাকা!যা’ তাদের বিকাশের জন্য কখনোই ভাল হতে পারে না !!তাই সেখানে তাদের প্রবেশ বন্ধ হওয়া ন্যায্য!!কিন্তু আইন করে নিষিদ্ধ করলে গরীব কষ্ট পাবেন!গরীবের জন্য ওষ্ঠাগত প্রাণ যাঁর তিনি তা সহ্য করতে পারবেন না !তাই ভর্তি বাণিজ্যের পথই এখানে সবচেয়ে মানানসই এবং যৌক্তিক পথ!!সে ক্ষেত্রে টাকাওয়ালাদের টাকাও খসলো !! সে টাকাতো গরীবেরই কাজে লাগানো যায়!!গরীবের কাজে লাগানোর সবচেয়ে ভাল উপায় হলো গরীবদের মুক্তির জন্য যাঁরা এমন করে ভাবেন তাঁদের কাজে লাগানো!!

ভর্তি বাণিজ্য আগে থেকেও হতো ।কিন্তু তাকে উন্নত এবং ঝামেলা মুক্ত করার সুনিপুণ উপায়তো তাঁরাই তৈরী করলেন !আগে বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পরীক্ষা নেওয়া হতো । এখানে ওখানে বিশেষ করে কোচিং ওয়ালাদের সাথে দেন দরবার করতে হতো ।প্রক্রিয়াটা ছিল অনেক ঝামেলার!অদৃশ্য অথচ সরাসরি একটি ব্যবস্থা থাকা ভাল!কিসের ওপর ভরসা করা যায়? বিধির লিখনের উপর ভরসা ছাড়া তো আর কোন ভরসা পাওয়া যায় না! যেখানে গরীবের দীর্ঘশ্বাসের একমাত্র ঠিকানা! সেই বিধির বিধানের বাস্তব রূপ কিভাবে পাওয়া যাবে ? লটারি!! ‘বিধাতার’ লিখনের ওপরতো কারো হাত নাই !কিন্তু বিধাতার লিখনে একজন গরীব মানুষের নামও যদি না ওঠে তবে সে কষ্টতো তাঁরও কম নয়! ‘বিধাতার’ লিখনে কেন গরীব মানুষের নাম উঠছে না সে বিষয় অবশ্যই তিনি খতিয়ে দেখবেন!! ‘বিধাতা’ গরীবের নাম যতই না লিখুন এখানে একটি তৃপ্তিতো তাঁদের আছেই।ছোট ছোট বাচ্চাদের পরীক্ষার তকলিফ থেকে তাদের রেহাইয়ের তৃপ্তি ।কিন্তু পরীক্ষা সম্পর্কে মানুষ যাতে ভুল না বুঝে সে জন্য আবার ‘সমাপনী’ পরীক্ষা নাম দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে তা গ্রহনের ব্যবস্থা তাঁরাই করেছেন ।সেখানকার প্রাপ্তির দিকে তাকালে অবশ্য বাচ্চাদের এমন ভারি পরীক্ষার তকলিফ,অভিভাবকদের অর্থের তকলিফ কিছুই নয় !সে সার্টিফিকেট কত ওজোনদার!কিন্তু সবকিছুতেই বিপত্তি বাধায় তাঁর ‘প্রিয়’ গরীব মানুষগুলো!অবশ্য এর মধ্যদিয়ে একটি বিষয় নির্ণীত হয়,তিনি বা তাঁর মত যাঁরা বহুকাল আগে থেকেই বলে আসছিলেন তার সত্যতা মেলে !গরীবদের এতটুকুও যে খরচ করার সা্মর্থ্য নেই তা তারা এতকাল শুধু বলেই আসছিলেন ! এ নীতি না হলেতো তার সত্যতাও মিলত না !শুধুতো এ খরচের কারণেই নয় গরীবের সন্তানেরাতো শিক্ষা থেকে আগেও ঝরে পড়ত ! এখন না হয় একটু বেশি! কিন্তু প্রাপ্তিটাওকি কম? কষ্ট করে হলেও একবার যদি ‘সমাপনী’ পরীক্ষার সার্টিফিকেটটি গরীবের সন্তান পেয়ে যায় তবে ঝরে পড়েও কি তার লাভ কম! এই ‘বুর্জোয়া’ রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে গরীবদের জন্য এ প্রাপ্তি কি কম !!

দেউলিয়া হলেই কেউ অপাংক্তেয় হয় না !এমন একজন ‘নাবুর্জোয়া’কে সাথে নিয়ে সত্যিকারের বুর্জোয়ারা সহমতে যখন এতসব কাজ করতে পারেন তখন তিনি দেউলিয়াই বা কিসে প্রমাণ!!তাঁর হৃদয়ের এ ‘নাবুর্জোয়া’ কূল তিনি নিজে হাতে ধ্বসিয়ে দিলেও ওই ‘বুর্জোয়া’ কূল নিজ হাতেই আবার ফুলে –ফলে ,ঐশ্বর্য্যে ভরিয়ে তুলেছেন যে !! ‘নাবুর্জোয়া’ হয়েও এমন সহমতের বন্ধু পেয়ে ‘বুর্জোয়ারা’ও যার পর নাই মুগ্ধ! এমন বন্ধুকে একটি কাজে সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক নয় । তার জন্যই তাঁর দিকে ‘বুর্জোয়া’ বন্ধুদের এমন হাত বাড়ানো!কিন্তু একি কান্ড!বন্ধুর বাড়িয়ে দেওয়া হাত এমন করে ফিরিয়ে দিলেন! ‘বুর্জোয়া’ বন্ধুদেরও সে ভাব বুঝতে কষ্ট হয়! সবাই কারণ জানার জন্য অধীর হন! ‘নাবুর্জোয়া’ বন্ধুর শিষ্য-সাগরেদদের মিষ্টি বিতরণ দেখে কিছুটা আন্দাজ করা চলে বটে ! ‘ যে ধনে পালাম এ ধনের নাগাল’ তাকে একেবারে ভুলে যেতে মনের কোণে মোচড় লাগে !! মাঝে মাঝে ব্যথা অনুভব হয় সেই সব স্মৃতিগুলো মনে করে !সেসব কথা মাঝে মাঝে ঝামেলা বাধায়!কৃষকের অধিকার, শ্রমিকের অধিকার , মৃতশ্রম, জীবীতশ্রম কতসব আজেবাজে কথা এসে মনের মধ্যে খামাখা ঝামেলা বাধিয়ে বসে !এসব ঝামেলার জন্যইতো বন্ধুর এমন দানের প্রস্তাবকে পায়ে ঠেলা হলো! মিষ্টি বিতরণও হয়ে গেল !

হঠাৎ মনে দিল অন্য আরেক মোচড় ! এসব থেকে বন্ধুরা আবার ভুল বুঝবে নাতো !ভয় হয়! যেহেতু খাঁটি হোক আর খাদ হোক পুরাতন প্রেমতো একটা ছিল!তাইতে বন্ধুদের সন্দেহতো হতেই পারে !এ সন্দেহ দুর না করেতো খাঁটি নতুন প্রেমের বিশ্বস্ততার প্রমাণ দেওয়া ভার!তাতে যদি ঘরের কথা পরে বা মনের কথা জনারণ্যেও বলতে হয় তাও ভাল!এখন কান্না ছাড়া উপায় নাই! কিন্তু কান্নার ভাষা কোথায় !কৃষ্ণ রাধাকে কাঁদিয়ে চৈতন্য হয়ে যে ভাষায় কেঁদেছিলেন লালনে তা ধরা পড়েছিল এভাবে-“ও সে রাধা বলে কাঁদছে এখন, তাঁরে কত কাঁদিয়েছে”। কিন্তু তিনিতো কাউকে কাঁদাননি!বরং তিনিইতো কেঁদে চলেছেন হরদম!জঙ্গিবাদের ভয় পেয়ে কাঁদছেন,অন্যদের সে ভয় পাওয়াতে কাঁদছেন!কিন্তু এ কান্নাতো পুরাতন । এ কান্না আছে বলেইতো ‘বুর্জোয়া’ বন্ধুরা আছেন !এ কান্নায়তো সে দান ফেরানোর ব্যথার কান্না হয় না!অভিমানি কান্নায় হতে পারে!সত্যিইতো এমন বন্ধুকে এমন গুরুত্বহীন করা কি ঠিক হয়েছে! অচেনা অজানা হলে এক কথা ছিল ! যেখানে বন্ধুদের সাথে সব সময় ওঠাবসা সেখানে কিনা এমন একটি দানের নিমন্ত্রণ কর্মচারীর মাধ্যমে দেওয়া হলো ! একি ব্যবহার বন্ধুর সাথে!বুক ফাটিয়ে পৃথিবীব্যাপি আওয়াজ তুলে কাঁদলেও যে এ কষ্টের পরিমাণ ব্যাক্ত হয় না !তারই ‘কিঞ্চিৎ ব্যাক্ত’ খবর- দারে ।দান ফিরিয়ে দেওয়ায় বন্ধুরা যে কষ্ট পাননি চোখ মুছে ফুঁপিয়ে ভোলেন না তাও প্রকাশে!জঙ্গির ভয়ে যেখানে প্রাণ ওষ্ঠাগত সেখানে এমন বন্ধু মেলা ভার ‘ করেন এমন উক্তি , রেখে মনে অগাধ ভক্তি’!তাতেও যদি না গলে বন্ধুর প্রাণ তবে বলতে হয়-“পড়েছি অকুল পাথারে দাও এসে চরণ তরী”বা “পার কর…আমায় কেশে ধরে”।দান গ্রহনে বা ফেরানোতে কোন্ টায় বন্ধুর লাভ হিসাব মেলানো ভার ।‘ভেদ যে পেল’ সে পায় আসল ভাব তা হলো ‘উভয় ভাল’।