ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

১৮ ডিসেম্বর সি.পি.বি, বাসদ এবং বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা যে সকল দাবি তুলে হরতাল আহ্বান করেছে সেসব দাবির বিপক্ষে তাদের ঘোর শত্রুরাও কোন যুক্তি উপস্থাপন করতে পারবে বলে মনে হয় না ।আবার এসব দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুর্বের কোন কর্মসূচীর ধারাবাহিকতা ছাড়া এবং সেসব কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে দাবিগুলোকে জনগণের মধ্যে নিয়ে যাওয়া ছাড়া হঠাৎ করেই হরতাল আহ্বান করে বসাকে তাদের ঘোর শুভানুধ্যায়ী- সমর্থকের পক্ষেও যাকে বলে যুক্তি তা উপস্থাপন করা সম্ভব নয় ।সাধারণতঃ এ ধরণের হরতাল আওয়ামী লীগ , বি.এন.পি সহ শাসক শ্রেণির লেজ বলে কথিতরাই আহ্বান করে থাকে । এই করে জনগণের প্রতিবাদের হরতালের মত এক শক্তিশালী হাতিয়ারকে অকার্যকর করে তুলেছে ।ইতিমধ্যে জনগণের দাবি আদায়ে প্রায় অকার্যকর এই হাতিয়ারটির ধার সম্পূর্ণরূপে ভোঁতা করতে ১৮ ডিসেম্বরের হরতাল কার্যকর ভূমিকা রাখবে ।এর সাথে সাথে জনগণের দাবিগুলোকে নির্লিপ্ততায়, নিষ্ক্রীয়তায় এবং কথার কথায় পরিণত করতেও কথিত বামপন্থীদের এই কর্মসূচী ভূমিকা রাখবে ।

হরতাল ছিল জনগণের দাবি আদায়ে শাসক শ্রেণিকে বাধ্য করার জন্য শ্রমিক শ্রেণি সহ অধিকার বঞ্চিত জনতার এক কার্যকর হাতিয়ার ।বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এবং বি.এন.পি তাকে জনগণকে জিম্মি করে শাসক শ্রেণির দুই দলের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির হাতিয়ারে পরিণত করেছে ।তারা জনগণকে জিম্মি করতে গিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ উভয়ে মিলে নানা সহিংস ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। এসব সহিংস ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া ছাড়া জনগণের আর কোন সম্পর্ক এসব হতালের সাথে থাকে না।তার মানে এই নয় যে ,শ্রমিক শ্রেণি সহ বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের হরতালে বা জাতীয় কোন স্বার্থ রক্ষায় সর্বস্তরের জনতার হরতালে কোন সহিংস ঘটনা ঘটে না ।হরতাল সব সময়ই হয় শাসক শ্রেণির নির্বাহী অর্থাৎ সরকারের কর্মনীতি এবং কর্মপন্থায় জনগণের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্থ এবং জনগণকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিরূদ্ধে এবং অবিলম্বে সরকারকে সেই কাজ থেকে সরে আসতে বাধ্য করার জন্য।সরকার এসব গণবিরোধি নীতি নির্ধারণ বা কাজ কোন অসচেতনতার কারণে করে না বা অজ্ঞতার কারণে করে না । সরকার জেনে বুঝেই এবং তার শ্রেণি স্বার্থেই এসব কাজ করে থাকে ।কাজেই সরকারের এমন কাজের বিরূদ্ধে যখন হরতাল আহ্বান করা হয় তখন সরকার নির্লিপ্ত থকে না ।সরকার তার বাহিনী এবং দলের লোকদের মাঠে নামায় হরতাল ‘প্রতিহত’ করার নামে হরতাল আহ্বানকারীদের ‘শিক্ষা’ দিতে ।হরতাল হয়নি প্রমাণ করতে রাস্তায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে এবং অত্যন্ত সচেতনভাবেই গাড়ী নামানো হয় ।অর্থাৎ ন্যায়সঙ্গত এবং জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত হরতালও কখনোই অহিংস থাকতে পারেনি , থাকতে পারে না ।সম্প্রতি এই সরকারের আমলেই তেল-গ্যাস, বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির হরতালে সরকারের সীমাহীন সহিংস ঘটনা সহ অতীতের অনেক ন্যায়সঙ্গত হরতালে সরকারী সহিংসতার ঘটনা উল্লেখ করা যেতে পারে ।কিন্তু আজকে যে, হঠাৎ করে হরতালে ‘অহিংস তত্ত্ব’ হাজির করে শাসক শ্রেণির পাতা ফাঁদে পা দিয়ে সহিংসতার সকল দায় হরতাল আহ্বানকারীদের কাঁধে একেবারে কাঁধ পেতে নিয়ে নিচ্ছেন তার ভবিষ্যৎ কি ?আর হরতালের সময় বিনা উস্কানিতে আনু মুহাম্মদের ওপর পুলিশের নির্মম আক্রমনেরই বা ব্যাখ্যা কি? আজকের এই অহিংস তত্ত্বের মধ্য দিয়ে কি এই বামপন্থীরা স্বীকার করে নিচ্ছেন যে , সেদিনের হরতাল জনগণের হরতাল ছিল না ?

জামাত-শিবির সহ সকল মৌলবাদী শক্তির বিরূদ্ধে এবং শাসক শ্রেণির বিরূদ্ধে আন্দোলন একটি গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের সংগ্রাম ।ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার এবং এই দলগুলো সামগ্রিকভাবে শাসক শ্রেণিরই বিভিন্ন দিকের খুঁটি ।বলতে গেলে বাংলাদেশের মত একটি দেশে শোষক শাসক শ্রেণির টিকে থাকার জন্য যত রকমের খুঁটি আছে তার মধ্যে এগুলোই হলো অণ্যতম শক্ত খুঁটি ।কাজেই এই খুঁটিকে ভাঙ্গার জন্য শাসক শ্রেণিরই নির্বাহীর কাছে ধর্ণা দেওয়া চরম নির্বোধের কাজ আর তা না হলে এক নিকৃষ্ট মতলববাজী ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না ।১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় এবং সর্বস্ব হারানো মানুষ মুক্তিযুদ্ধে নিষ্ক্রীয় এবং ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতদের কাছে যুদ্ধাপরাধের বিচার পায়নি ।সেই শাসক শ্রেণিই নীতির কোন পরিবর্তন না করে নানা অংশে বিভক্ত হয়ে আজকের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে ।তাদেরই এক অংশ যখন আজকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য জোর গলায় বলছে তখন গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কর্মীদের অবশ্যই সতর্ক দৃষ্টি রাখার প্রয়োজন আছে ।যেসব অন্দোলন তাদের বিপক্ষে যায় সেই আন্দোলনে নের্তৃত্ব দানকারী মানুষদের ওপর বিচারের নামে অবিচার করতে এদের কোন অংশেরই সময় লাগেনি ।অথচ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ৪১ বছর আটকে রেখে শাসক শ্রেণির সকল অংশই এ নিয়ে রাজনীতি করে নানা ফায়দা তুলে চলেছে । আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে এ সংক্রান্ত টু-শব্দটি করেনি ।ভুলে গেলে চলবে না নব্বইয়ের দশকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নের্তৃত্বে জনগণ সোচ্চার থাকা সত্বেও সেসময় জামাতের সাথে সখ্যতার কারণে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধের বিচারের কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি ।যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতেই হবে ।কিন্তু আওয়ামী লীগের নানা সময়ের আচরণে এবং বর্তমান কর্মকান্ডেও এ বিচার তাদের দ্বারা সংঘটিত হওয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন এবং সন্দেহ থেকেই যায় ।ট্রাইবুনালের বিচারপতির স্কাইপি সংলাপ এবং তাঁর নিঃশর্ত পদত্যাগ মানুষের মনে আরো সন্দেহ তৈরী করে চলেছে আদৌ বিচার হবে নাকি নানা বাগাড়ম্বরেই তা শেষ হবে।

কথিত বাম দলগুলোর হরতালের মূল দাবি কি সরকারের কাছে?নাকি জামাত–শিবির যুদ্ধাপরাধে বন্দী তাদের নেতাদের মুক্তির দাবিতে যে হরতাল পালন করেছে সেই হরতালের প্রতিবাদে ?অন্ততঃ সি.পি.বি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের বক্তব্য থেকে তাই জানা গেল যে তাঁরা এই হরতালটি ডেকেছে জামাত-শিবিরের হরতালের প্রতিবাদে।হরতালের প্রতিবাদে হরতাল!কি রাজনৈতিক পরিপক্কতা!!তাও আবার বামপন্থীদের নামে !!!এ হরতালের যে চিত্র এবং খবরাখবর পাওয়া গেল তাতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক জ্ঞান বহির্ভুত একজনের পক্ষেও বুঝতে অসুবিধা হয় না যে , এ হরতালে কেন গাড়ী নামেনি , কেন দোকান পাট খোলেনি ।একজন রাজনৈতিক জ্ঞান বহির্ভুত মানুষের কাছে যা স্পষ্ট, ঘোর অস্পষ্টতায় এসব বাম দলের কর্মীরা যদি তাতেই তৃপ্তির ঢেকুর তোলে তবে তা পরের ঢেকুরেই ‘ধুঁয়া ঢেকুর’ হয়ে দেখা দেবে ।সে অসস্তিতে এসব কর্মীদের কি পরিণতি হবে তা এখন বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হলেও সময়ে ঠিকই বুঝা যাবে ।কারণ বাম রাজনীতির এসব লক্ষণ শুধু শাসক শ্রেণিতে ভেসে যাওয়ারই উদাহরণ এদেশের মানুষের কাছে আছে।ইতিমধ্যে বাম পরিচয় সাথে নিয়েই কয়েকটি দল শাসক শ্রেণির এক অংশের পঙ্কে গড়াগড়ি খাচ্ছে।অপর যারা আছেন তারা ‘দেরি করে মিছ করা’র যন্ত্রণায় মনে যে ভালভালাইয়ের উদ্রেক হচ্ছে এ হরতালের কর্মসূচী তারই বহিঃপ্রকাশ,অন্ততঃ অবস্থা তাই বলে ।হরতালের আগের রাতে সময় টিভিতে সি.পি.বি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের এবং আওয়ামী লীগ নেতা মুহাম্মদ নাসিমের টকশোতে এবং চ্যানেল ৭১ এ বাম গণতান্ত্রিক মোর্চার সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির অস্পষ্ট উচ্চারণে কষ্ট হলেও আমাদেরকে সেরকমই বুঝতে হচ্ছে । শোষক শাসক শ্রেণির দল আওয়ামী লীগের সাথে সেলিমদের প্রেম এবং সখ্যতা প্রাচীন, কিন্তু সাকিদের সাথে এই প্রেম এবং তাদের এই ভালভালাই নতুন ।এটাকি তাদের নির্বুদ্ধিতা না মতলববাজী তা বুঝতেই শুধু বাকি ।নির্বুদ্ধিতা হলে খেসারত তাদেরকেই দিতে হবে ।মতলববাজি হলে পাওনা নিয়ে প্রশ্ন ।

বাংলাদেশের বাম রাজনীতিতে অনেক আহাম্মকি , উজবুকিপনা আর সুবিধাবাদিতার ঘটনা আছে । ইতিহাসের পাঠক মাত্রেই সেসব জানবেন ।কিন্তু এই হরতাল কর্মসূচীর মত হাস্যকর ঘটনা বুঝিবা কমই আছে ।কথিত বামদের অধঃপতনের সীমা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে এ হরতাল কর্মসূচী তারই প্রমাণ।কোন কালে কেউই কি কখনো শুনেছে পুলিশ হরতালকারীদের প্রসংশা করছে?প্রচার মাধ্যমের কল্যাণে জনগণ তাও দেখলো ।সরকারী দলের নেতাদের মুখে এ হরতালের সাফল্য নিয়ে প্রসংশার খই ফুটছে!তা হলে এ হরতাল কিসের জন্য এবং কার বিরূদ্ধে ?যুদ্ধাপরাধীদের বিরূদ্ধে?তাই যদি হয় তবে এ হরতালে তাদের কি ক্ষতি হলো ?তারা যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় নাই তখন তাদের বিরূদ্ধে হরতাল করা আর তাদের ওপর গোস্বা করে ভাত না খাওয়া কি সমান কথা নয়? হরতাল হলে গাড়ী না চললে , দোকানপাট না খুললে জামাত-শিবিরের কি ক্ষতি?জনগণ যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় তাই প্রমাণ করার জন্য?আওয়ামী লীগের এ সন্দেহ না থাকলেও তারা আগাগোড়া বাইরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধাদানের কথা বলে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে যে, তারা আদৌ এ বিচার করবে কিনা ।সেখানে জনগণ যে যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় তা প্রমাণের কোন প্রয়োজন পড়ে না ।এ প্রয়োজন আওয়ামী লীগের পড়তে পারে কিন্তু বামপন্থীদের কেন এ প্রয়োজন পড়বে?পুলিশ সহ সরকারী দলের লোকেরা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী স্বয়ং যেভাবে হরতালকারীদের আদর করলেন তা নিয়ে জনগণের কোন প্রশ্ন নেই কারণ এ নিয়ে প্রশ্ন করার মত নির্বোধ জনগণ নয় ।কিন্তু এসব বাম দলে নিশ্চয়ই মতলববাজদের বাইরে একনিষ্ট কর্মীরা আছেন , তারা যখন পুলিশের এবং সরকারী দলের লোকদের হরতালকারীদেরকে এমন আদর করা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন তখন কি এ বামপন্থী সুবিধাবাদী নেতারা বলবেন তাঁদের হরতালকে আওয়ামী লীগ হাইজ্যাক করেছে? তাঁদের পক্ষে এমন কথা বলা বিচিত্র নয়।জনগণের কোন দাবি সরকার আদরের সাথে পূরণ করবে ,জনস্বার্থের কোন আন্দোলন সরকারের লোকদের দ্বারা প্রসংশিত হবে তা হলে কার বিরূদ্ধে আন্দোলন? জনগণের শত্রু কারা তাহলে?এসব বামপন্থীরা কি মনে করেন?

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না করে শাসক শ্রেণির লোকেরা গত ৪১ বছর ধরে বলে চলেছে যে, এ কারণে দেশ ও জাতী কলংকিত হয়ে আছে। আর এই কলংকের কারণ দেখিয়ে তারা তাদের কৃত অসংখ্য অপরাধকে জায়েজ করে চলেছে ।দেশের মানুষের সকল দুর্দশার দায়কে শোষক এই শাসক শ্রেণি কথিত এই কলংকের উপর চাপিয়ে নিজেদের নিষ্কলঙ্ক প্রমাণ করে চলেছে ।অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ধরে রেখে এমন রাজনৈতিক বাণিজ্য শাসক শ্রেণির জন্য এক বড় সম্পদ ।কথিত বামপন্থীরাও কি তাই মনে করেন যে, এই কলঙ্কের জন্যই জনগণের সকল দুর্দশা এবং শাসক শ্রেণির লোকদের মত করে বলবেন এ কারণেই সকল ‘উন্নয়ন’আটকে আছে ?প্রকৃত পক্ষে শাসক শ্রেণি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে দীর্ঘদিন যে প্রহসন করে চলেছে এবং রাজনৈতিক বাণিজ্য করে চলেছে তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে ।এ বামপন্থীরা কি সে প্রশ্ন তুলছেন?

এসব অকর্মণ্য সুবিধাবাদী বামপন্থীদের কারো কারো মুখে শোনা গেল অনেকেই নাকি তাঁদের দাবি দাওয়ার তালিকা দেখে ফোন করে সমর্থন জানাচ্ছেন!জানি না তাদের প্রচার পত্রে ফোন নম্বর দিয়ে দিয়েছিলেন কিনা । যদি দিয়ে থাকেন তবে তা খুবই মজার ব্যাপার !এক বিরাট নেতা (কমরেড!)টেলিভিশনে টকশোতে বললেন এ হরতাল কোন দলের নয় ,এটা জনগণের হরতাল !দলের নয়?দল কি তাহলে খারাপ জিনিস?হায়রে বামপন্থী নেতা আর তাদের আন্দোলন!আসলেইতো তাই! জনগণইতো রে রে করে সাড়া দিবেন! জনগণের দাবিদাওয়া সঠিক হলে দলে দলে তারা রাস্তায় নেমে আসবেন!অবশ্যই জনগণের দাবিদাওয়া নিয়ে জনগণই মাঠে নামবেন। কিন্তু জনগণের দাবি নিয়ে বিজ্ঞাপণ দিলেই কি জনগণ দলে দলে মাঠে নামবেন?জনগণকি এতটাই অরাজনৈতিক?জনগণকে মাঠে নামানোর জন্য রাজনীতি থাকতে হবে ।অতিষ্ঠ হয়ে স্বতঃস্ফুর্তভাবে জনগণ মাঠে নামেন সে ইতিহাস আছে কিন্তু কোন বিজ্ঞাপণে জনগণ মাঠে নেমে এসেছে, রাস্তায় নেমে এসেছে জনগণের এমন অরাজনৈতিক অবস্থার ইতিহাস নাই ।জনগণ রাজনীতির পিছনে মাঠে নামবে ,নের্তৃত্বের পিছনে মাঠে নামবে নিশ্চয়ই ।

শাসক শ্রেণি এবং জনগণের বিরূদ্ধে তার মৌলবাদী হাতিয়ার ,জনগণকে বিভ্রান্ত করতে বাম দিকের হাতিয়ারের কবল থকে জনগণের মুক্তির জন্য সমাজতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই ।অধিকার বঞ্চিত, সমস্যা জর্জরিত মানুষের ব্যাপক আকারে এ আন্দোলনে এ সময়ে শরিক হতে দেখা যাচ্ছে না।এর অনেক কারণের মধ্যে একটি এবং সবচেয়ে বড় কারণ হলো এক দিক দিয়ে জনগণের খানিকটা রাজনৈতিকভাবে শিক্ষিত হওয়া ।জনগণ বড় বড় বামপন্থী প্রজেক্টবাদী নেতার সাথে পরিচিত। এসব নেতারা বামপন্থাকে প্রজেক্ট হিসাবে নিয়ে নিজেদের শুধু আখেরই গোছায়নি বা গুছিয়ে চলেনি জনগণের রাজনৈতিক আন্দোলনকে নানাভাবে বিভ্রান্ত এবং ক্ষতিগ্রস্থ করেছে বার বার । জনগণের সাথে প্রতারণার এই অপকর্ম ধারাবাহিকভাবে চলছে এবং তা নতুন নতুন রূপে আবির্ভুত হচ্ছে ।শাসক শ্রেণির সাথে ভালভালাই এবং তাদের তোষামোদি রাজনীতি জনগণের রাজনৈতিক সংগ্রামের দিকে যাওয়ার পথকে বার বার বাধাগ্রস্থ করে চলেছে ।তাই ১৮ ডিসেম্বরের এ তোষামোদি হরতাল নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠবেই।