ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

ধর্মের নামে ধোঁকাবাজি এবং শোষণ,নির্যাতন আর নিপীড়ন এমনই নির্মম ছিল যে, সেদিন প্রতিবাদে উঠেছিল শিশুরও মুষ্টিবদ্ধ হাত।সেই মুষ্টিবদ্ধ হাতে যে শক্তি ছিল তা দেখে শাসকেরা সেদিন ভীতসন্ত্রস্ত হয়েছিল । তারা ভেবেছিল এ হাত গুড়িয়ে দিলে শক্তি নিঃশেষিত হবে । প্রতিবাদে আর কোন হাত উর্ধ্বে উঠবে না ।গুড়িয়ে দিয়েছিল সেই শিশুকে । কিন্তু তার সেই মুষ্টিবদ্ধ হাত উঠে গিয়েছিল আনেক আনেক উঁচুতে । সেই মুষ্টিবদ্ধ হাত সেদিন আকাশ ছুঁয়ে এই জনপদের সকল মানুষকে ইশারা করেছিল । মানুষ জেগে উঠেছিল ।কাস্তে- লাঙ্গল, শাবল- কলম সকল কর্মের হাতিয়ারগুলো পরিণত হয়েছিল প্রতিবাদের হাতিয়ারে ।শাসকেরা থেমে থাকেনি ।আসাদের বুকের তাজা রক্তে তার শার্ট ভিজিয়ে দিয়েছিল ।আসাদের সেই একটি রক্তমাখা শার্ট তিরিশ লক্ষ শার্টে পরিণত হয়েছিল।তিরিশ লক্ষ শহীদের মৃত্যুর ভারে গঠিত হয়েছিল এই দেশ ।পাশবিকতায়,নির্যাতনে আর লাঞ্ছনায় নির্বাক হওয়া অগুণতি নারীর বাক এই জনপদের মানুষের মুখে দিয়েছিল প্রথম বাক । সেই যন্ত্রণার বাক ধারণ করে এদেশের মানুষের নিরণ্তর পথ চলা ।তাই এদেশের মানুষ বার বার জানিয়ে দেয় আমরা যন্ত্রণায় সৃষ্টি , আমাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না ।রাজিব হায়দার মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে অমর হয়ে আবারও সেই সত্যকে জানিয়ে দিয়ে যায় ।

রাজিবকে ওরা হত্যা করেছে ।ওরা ভেবেছে এই বুঝি শেষ ।সেদিন যেমন না খাওয়া হাড় জিরজিরে খোলা গায়ের শিশুটির মুষ্টিবদ্ধ উদ্ধত হাতকে তারা ভয় পেয়ে বুলেটের আঘাতে ছিন্নভিন্ন করে ওরা ভেবেছিল এই বুঝি শেষ ।সেদিন যেমন না খাওয়া হাড় জিরজিরে খোলা গায়ের শিশুটির মুষ্টিবদ্ধ উদ্ধত হাতকে তারা ভয় পেয়ে বুলেটের আঘাতে ছিন্নভিন্ন করে ভেবেছিল এখানেই শেষ ।কিন্তু শেষ হয়নি ।শিশুর সেই মুষ্টিবদ্ধ হাত এমনই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে সেই শক্তিকে গ্রেনেড,রাইফেল,মেশিনগান সহ কোন মারণাস্ত্রই দমাতে পারেনি । আজো পারবে না ।
বাংলাদেশের মানুষ এই মাটির সাথে আটকে থাকে নিছক মহাকর্ষ শক্তির বলে নয় । এদেশের মানুষ মাটির সাথে আটকে থাকে তিরিশ লক্ষ শহীদের রক্তের ভারে । এ ভার এদেশের মানুষের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য দেয় ,শক্তি দেয় ।এ ঐক্য অটুট-অটল।এ শক্তি দুর্জেয়-দুর্দম ।
রাজিবের মৃত্যুর ভার এদেশের মানুষের মধ্যে যে অটল-অখন্ড বন্ধন সৃষ্টি করেছে কোন অপশক্তিই সেই বন্ধনে চিড় পর্যন্ত ধরাতে পারবে না ।