ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

আজ ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার মনিরুল ইসলাম অত্যান্ত কৌশলীভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাঘা বাঘা ক্রাইম রিপোর্টারদের প্রশ্নের জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে গেছেন তিনি। প্রায় ২০ মিনিটের ব্রিফিংয়ে ‘তদন্তের স্বার্থে কোন তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না’ এই বাক্যটি তিনি ব্যবহার করেছেন ১০ বার। এর বাইরে একই কথা তিনি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলেছেন। ব্রিফিংয়ের পরে মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারের অতিরিক্ত উপ কমিশনারের কক্ষে দীর্ঘ সময় বসে থেকে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ওই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি আবুল খায়ের, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সমীর কুমার দে, দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নজরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার গোলাম মর্তুজা, ইউএনবির জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক যায়যায়দিনের স্টাফ রিপোর্টার দেব দুলাল মিত্র, ডেইলি স্টারের জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক কয়লাস সরকার, ডেইলি নিউ এইজের স্টাফ রিপোর্টার মুক্তাদির রশিদ, দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার তোহুর আহমদ।

উপস্থিত এ ক’জন সাংবাদিকের সঙ্গে মনিরুল ইসলাম নানা বিষয়ে কথা বলেন। ব্যক্তিগত বিষয় তিনি কথা বলেন। অন্যান্য চাঞ্চল্যকার মামলা, গোয়েন্দা পুলিশের তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, সংবাদ পত্রের আগ্রহ ইত্যাদি বিষয়ে কথা হয়। কিন্তু যখন সাংবাদিকরা সাগর-রুনির হত্যাকান্ড বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন তখনই শক্ত হয়ে গেছেন মনিরুল ইসলাম। বলা কথাই আবার বলেছেন তিনি। সাংবাদিকরা বলেন আপনি এত কৌশলী কথাবার্তা বলছেন কিন্তু আমাদের দিকে তো জাতি তাকিয়ে আছে। বাইরে বের হলেই ক্রাইম রিপোর্টারের কাছে হত্যাকান্ডের বিষয়ে মানুষ জানতে চায়। দয়া করে একটু কিছু বলুন। মনিরুল ইসলাম বলেন, শুধু আপনারাই নয় আমিও যখন বাড়ি ফিরি তখন আমার মা বলে ‘কিরে কিছু পেলি। খুনি কারা। কেন খুন করা হল ওদের।’ মনিরুল ইসলাম বলেন, আমার মা শুধু নয় আমার স্ত্রীও আমাকে বলে তোমারা কিছু কি পাওনি। এত দেরি হচ্ছে কেন।’ উর্দ্ধতন এ গোয়েন্দা কর্মকর্তার কন্ঠে এক ধরনের অসহায়ত্বের সুর ভেসে উঠে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কি এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। যাতে এত গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। তাহলে কি সত্য চাপা পড়ে যাবে। বিচার কি হবে না নির্মম এ খুনের। শোনা যাচ্ছে এ ঘটনার পেছনে কয়েকজন মিডিয়া কর্মী জড়িত। তাহলে মিডিয়াকর্মীদের রক্ষার জন্যই কি এ কৌশল। তাহলে জাতির ভরসাস্থল কোথায়। মানুষ এবার কার কাছে যাবে। বিচারের বানী কি নিরবে কাঁদবে। দয়া করে এতবড় অবিচার করবেন না। আমার সঙ্গে আজ রাতেই একজন উর্দ্ধতন র‌্যাব কর্মকর্তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ফোনালাপ হল। ওই র‌্যাব কর্মকর্তা বললেন, রুনিকে ঘিরেই এ হত্যাকান্ড ঘটেছে এটুকু আপনাকে নিশ্চিত করতে পারি। এর বেশি কিছু আমরা জানিনা।