ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

এখনই সময় সিদ্ধান্তে আশার। বিএনপির এই পিছু হটার সাথে আওয়ামীলীগের নমনীয়তা এখন অত্যন্ত জরুরী। যদি সত্যিকার অর্থেই বর্তমান সরকার দেশে স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে চান তবে এটা অনেক বড় এক সুযোগ। কেন তারা নমনীয় হলেন তার পোস্টমর্টেম না করে বরং অনুকূল পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোই হবে উপযুক্ত। গণতন্ত্রে জেদ চলে না, এখানে সহনশীলতাই বড় কথা। গণতন্ত্রই একমাত্র জায়গা যেখানে যিনি যত বেশি নমনীয় হন যত বেশি ছাড় দেন তিনি ততটাই উচ্চতায় পৌছান। তেমনি অহংকার, জেদ স্বর্গ থাকে মুহূর্তে টেনে নামায় ভূতলে। বিএনপি’র সাম্প্রতিক সময়ে গৃহীত রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হলেও তার পূর্বের কর্মসূচিগুলোতে জনসমর্থন ছিল। তার কারন হল এ দেশের জনগন শান্তিপ্রীয়। আমরা সকল সমস্যারই শান্তিপূর্ন সমাধান চাই। অশান্তি করে নয়। এ দেশকে আজকের অবস্থানে কোন একক দল বা গোষ্ঠি আনেনি।এর পেছনে অবদান কম বেশি প্রায় সকল সরকারের। সাধারন জনগন তাদের ভাল কাজের সমর্থন যেমন দিয়েছে তেমনি দেশের স্বার্থ পরিপন্থি সকল কাজের বিরোধীতা করেছেন। সমস্যা হল সরকারে যারা যখন থাকেন তারা তখন অন্য সবাইকে শত্রু ভাবতে শুরু করেন। যার ফলে যে যাই বলুক তারা মনে করেন এটা সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র। কাজ করলেই তো ভাল-খারাপের প্রসঙ্গ। সরকার যারা চালাবেন তারাই কাজ করবেন এটাই স্বাভাবিক। আর কাজ করতে গেলে ভূল হবে সেটাও স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক হল সরকার যারা চালান তারা কিছুতেই মানতে চান না। যে তাদের কোন ভুল হতে পারে। আর সমস্যার শুরুটাও ওখানেই। তারা যদি সাধারন মানুষের কথা শুনতেন যদি গুরুত্ব দিতেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতেন। তাহলে দেশের মানুষ যেমন স্বস্তি পেত তেমনি তাদের গ্রহণযোগ্যতাও আরো বাড়ত।

মাননীয় সরকার প্রধান ভাবেন তার মন্ত্রীসভার কেউ ব্যার্থ হলে এবং তাকে মন্ত্রীসভা থেকে বাদ দিলে বিরোধীরা কথা বলার সুযোগ পাবেন। হ্যা তা হয়ত পাবেন। কিন্ত তিনি সজাগ এবং সংবেদনশীল এটাও যে প্রমান হত সেটা তাঁর ভাবনায় স্থান করে নিতে পারেনা। আর তা যে তাঁকে এবং তাঁর দলকে আরো বেশি গণমানুষের কাছে নিয়ে যেতে পারত তাও তিনি মানতে চান না। হয়ত এ কারনেই অত্যন্ত জরুরী হলেও মন্ত্রীসভায় কোন রদবদল হয় না। রদবদল হয় না, একবার যা বলে ফেলেছেন তার। সেটা ঠিক-বেঠিক যাই হোক না কেন। যে আচরনের কারনে মানুষ সহজেই ভূলে যায় তার ভাল কাজগুলো। ঘটে সংঘাত, হয় প্রাণহানী, সুযোগ নেয় তৃতীয় পক্ষ। ক্ষতিগ্রস্থ হয় দেশ। অথচ একটু সহনশীলতা, অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে সকলে বসে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নিলে খুব সহজেই এড়ানো যেত যে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

আওয়ামি লীগ মানেই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। অন্য সব বিপক্ষ শক্তি। কিংবা আওয়ামি লীগ মানেই ধর্মহীনতা অন্য সবাই ধর্মের সংরক্ষক। এসব শ্লোগান এখন অচল। এছাড়াও এ দল ভারতের ও দল পাকিস্তানের করদ রাজ্য বানাবে। এ ধরনের হীন কথা যারা বলে বেড়ান আসল দেশদ্রোহী তারাই। তাদেরকেই এ দেশ থেকে বেড় করে দেয়া উচিৎ। বাংলাদেশকে কারো করদ রাজ্য বানানোর ক্ষমতা কারোরই নেই। বড়জোর কিছুটা ক্ষতি করতে পারবে। দেশকে রক্ষায় এ দেশের জনগনই যথেষ্ট। এ দেশকে যেমন শুধুমাত্র একক কোন দল স্বাধীন করেনি, তেমনি কারো মুহূর্তমাত্র ঘোষনায়ও এ দেশ স্বাধীনতা লাভ করেনি। কথাটা সকলেরই মনে রাখা উচিৎ।

এ দেশের সাধারন মানুষ একজন অসাধারন লোকের ছায়ায় সমবেত হয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল। লক্ষ লক্ষ প্রানের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা, কারো দয়ার দান নয়। তেমনি এ দেশের প্রতিটি গন আন্দোলনের ক্ষেত্রেও নেতৃত্বে যারাই থাকুন না কেন আন্দোলনের প্রান সাধারন নিরীহ জনগোষ্ঠী। যারা মুলত শান্তিপ্রিয়। যারা সর্বদাই শান্তি কামনা করে। যারা এখনো অপেক্ষা রত নেতাদের গালাগালিকে গলাগলিতে পরিনত হওয়া দেখার আশায়।