ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

“ইয়াসিন কলোনির মালিক ইয়াসিনও তার ভাড়াটিয়াদের নিরাপদে চলে যেতে বলেন। তবে ভাড়া বাবদ চান ১৫০০ টাকা। কিন্তু দিনমজুর, গার্মেন্ট কর্মী, রিকশাচালকেরা এত টাকা ভাড়ায় যেতে চাননি নতুন এলাকায়। তাই নিয়তি তাদের মৃত্যুর দিকে টেনে নেয় বলে জানান স্থানীয় অধিবাসী সাইফুল ইসলাম”।

উপরোক্ত খবরটি আজকের একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত। চট্টগ্রামে বেশ কদিন ধরেই নাকি মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় বসবাসকারীদের বলা হচ্ছিল এলাকাটি ছেড়ে যেতে।
তারা কোথায় যাবেন তা কি বলে দেয়া হয়েছিল?

এ সব জায়গায় যারা থাকেন তারা কি বিনে পয়সায় থাকেন? তারা নিজেরাই কি এই অবৈধ স্থাপনাগুলো নির্মাণ করেছেন? যখন এই স্থাপনাগুলো নির্মাণ করা হয় তখন প্রশাসন কোথায় ছিল?
পাহার ধস এ দেশে এই প্রথম নয়। পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনাও এ দেশে এই প্রথম নয়। কেন অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না? তাদের এত ক্ষমতার উৎস কোথায়?

এমন হাজারো প্রশ্নের উত্তর দেয়ার কে আছেন?

কেউ নেই, তবে শোক প্রকাশের জন্য আছেন-

“চট্টগ্রামের প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। গতকাল সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী এ শোক প্রকাশ করেন”।

এ শোক প্রকাশ ঐ সব অভাগাদের কি দিবে? ভুলে যাওয়া এক নির্বিষ জাত এই আমরা। সব ভুলে যাই। সহজেই ভুলে যাই। শুধু ভুলে না ভুক্তভোগী। নিয়তি তাদের ভুলতে দেয় না। যেমন ভুলে গেছি ইলিয়াস আলী’র কথা, ভুলে গেছি ইলিয়াস আলী ইস্যুতে যে আরও পাঁচটি তাজা প্রাণ ঝরে গিয়েছিল তাদের কথা। ভুলে গেছি সাবেক রেল-মন্ত্রীর এপিএস এর সেই ড্রাইভারের কথা। ঠিক এভাবেই ভুলে যাব চট্টগ্রামের আজকের এই লাশের মিসিলের কথা। তারপর আবার কোন মিশুক-মনির এর অকাল প্রয়াণে আমরা শোকাহত হব। ইলিয়াস আলী’র মত কোন ইস্যুতে উত্তাল হবে রাজপথ। লঞ্চ-ডুবিতে মারা যায় শত শত যাত্রী। আলোচনা সমালোচনার ঝর উঠে। শোক প্রকাশের বন্যায় ভেসে যায় সব ক্রোধ। তারপর সবাই ভুলে যাই। ভুলো-মনা জাত। ভুলে যায় সব। কোন পরিবর্তন আসে না। এটাই যেন নিয়তি।

বস্তি উচ্ছেদ হবে না।
অশিক্ষিত খুনি ড্রাইভাররা অবাধে পাবে লাইসেন্স।
বিচার হবে না ইয়াসিন কলোনির মালিক ইয়াসিনদের ।

এভাবেই চলবে একের পর এক লাশের মিছিল। শোকে শোকাতুর হবে সবাই। শুধু দায়টা নেবে না কেউই। জেনো কেউই দায়ী নই। আমরা সবাই দেখে যাই, সয়ে যাই, ফুঁসেও উঠি কখনোবা। তবে তা নিমিষেরই তরে। নির্বিষ সাপের ফণা তোলাই সার। বুঝে গেছে সবাই। শুধু তাকিয়ে থাকি ভবিষ্যতের পানে।

আমরা জানিনা আমাদের ভবিষ্যৎ
জানিনা সর্ষের মধ্যের ভূত তাড়ানোর কৌশল।
জানিনা স্বপ্নদ্রষ্টাদের স্খলন কি করে ঠেকাতে হয়।
তবে এটা জানি সব কিছুর সীমা থাকে
আর সৃষ্টিকর্তার খড়গ ঠিক নেমে আসে সীমা অতিক্রম কালে।