ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

কার্নিভোরা গাছ এক বিশেষ ধরনের গন্ধ ছড়িয়ে পতঙ্গদের আকৃষ্ট করে এবং পতঙ্গকে হত্যা করে নিজের খাদ্যে রূপান্তরিত করে। তেমনি মাকড়সা প্রায় অদৃশ্য জাল বিছিয়ে কীট পতঙ্গের জালে আটকা পড়ার অপেক্ষায় বসে থাকে এবং পতঙ্গকে হত্যা করে নিজের খাদ্যে রূপান্তরিত করে। এভাবেই তারা নিজেদের খাদ্যের সংস্থান করে নিজেদের ক্ষুধা নিবৃত্ত করে। এটা অন্যায় নয়। কারণ ঐ কার্নিভোরা গাছ বা মাকড়সা এ ভাবেই তাদের জীবন ধারণ করে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। মানুষও বেচে থাকে অন্যান্য জীব হত্যা করেই তবে পার্থক্য হল অন্যান্য প্রাণীর এই বেচে থাকার প্রণালী যতটা বীভৎস মানুষের বেলায় তা নয়। মানুষ অন্যান্য প্রাণীর দেহজ পদার্থ ভক্ষণ করে বাঁচে সত্য তবে তা শৈল্পিক রূপে। আর তাই সে মানুষ। পশু নয়। আর পশু নয় বলেই মানুষ চাইলেই যা ইচ্ছে তা করতেও পারে না।

মানুষের বিবেক আছে যা তাকে প্রতিনিয়ত বাঁধা দেয় অমানুষ হওয়া থেকে। কিন্তু আজকাল সে বিবেক অসহায় হয়ে গেছে আমাদের জাগতিক লোভের কাছে। আমরা অহরহ প্রতারণা করে, ভণ্ডামি করে, মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে নির্লজ্জভাবে অন্যকে ক্ষতিগ্রস্থ করছি নিজে লাভবান হতে। যা আমাদের নামিয়ে নিয়ে যায় ঐ কার্নিভোরা গাছ বা মাকড়সার স্তরে। আজকের বাজার অর্থনীতি চলছে বিজ্ঞাপনের উপর। এই বিজ্ঞাপনের যুদ্ধে উৎপাদকেরা প্রতি নিয়ত চেষ্টা করছে আমাদের মনোযোগ , অর্থ , সময় এমনকি চিন্তাশক্তি পর্যন্ত কেড়ে নেওয়ার । রাস্তা, ফুটপাত, বাড়ির দেয়াল, বাস, ট্রেন, লঞ্চ, খেলার মাঠ, টি সার্ট , টুপি ছাতা কোথায় নেই বিজ্ঞাপন? এরপরে টিভি তো আছেই। যা আপনি অনুষ্ঠান, না বিজ্ঞাপন দেখতে কিনেছেন। মাঝে মাঝে নিজেই ভুলে যান। ভুলে যাবারই কথা। যেমন কোন নাটক দেখতে বসে বিজ্ঞাপন বিরতির পরে ফিরে এসে ভুলেই যান কি দেখছিলাম।

আজকের বাজার অর্থনীতির এই সময়ে বিজ্ঞাপনের আধিক্য বিরক্তিকর হলেও তাকে দোষের বলার উপায় নেই। বিজ্ঞাপন এখন শুধু পণ্যের প্রচার-প্রসারই করছে না। ছাপ ফেলছে আমাদের সামাজিকতায় এমনকি গভীর জীবনবোধ এবং চিরন্তন মূল্যবোধেও। তাই কোন বিজ্ঞাপনে যখন দেশিয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়, তুলে ধরা হয় দেশিয় ঐতিহ্য, দেখানো হয় বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের পথ কিংবা কোটি টাকার শিক্ষা বৃত্তি ঘোষণা তখন আমরা আশান্বিত হই। ভাবি, এবার বুঝিবা আমরাও গ্রিন পার হয়ে হলিষ্টিক মার্কেটিংয়ের জগতে প্রবেশ করলাম। আমরা তখন সংশ্লিষ্টদের সাধুবাদ জানাই অকুণ্ঠচিত্তে। সমস্যাটা হয় তখন, যখন দেখতে পাই কিছু কিছু বিজ্ঞাপনের জন্য আমাদের দিতে হচ্ছে চড়া মূল্য। যা শুধুমাত্র অর্থদণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দিতে হয় আরও অনেক কিছুই।

আসুন দেখি কিছু কিছু বিজ্ঞাপন কি কি কেড়ে নিচ্ছে-

বাড়তি অর্থ- বিজ্ঞাপনের যা কিছু লাভা লাভ তা পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও তদসংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তা, বিজ্ঞাপন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণ সংশ্লিষ্ট জন, বিজ্ঞাপন প্রচারকার্যে যুক্ত গণমাধ্যম এবং নির্দিষ্ট পণ্যের বিক্রেতার ভাগেই বর্তায়। আর সমস্ত অর্থদণ্ডই ভোক্তার। যেমন এক বোতল ৫০০ মিলি মিনারেল ওয়াটার ১৫ টাকায় নয় সর্ব্বোচ্চ ৫/৭ টাকায় বিক্রি করা যেত যদি না বিপুল পরিমাণ অর্থ বিজ্ঞাপনে ব্যয় করতে হত।

মিথ্যাচারে অভ্যস্ত- বিজ্ঞাপনে যে সব আজগুবি দাবি করা হয় তার বেশিরভাগই মিথ্যা । কিন্তু বার বার এই মিথ্যা চোখের সামনে দেখতে দেখতে এক ধরনের বিশ্বাস জন্মে যায়। যেটা যা নয়, সেটাকে সে অভিধা দেয়া। টাক মাথায় চুল গজিয়ে বয়স কমিয়ে দেয়া, শ্যামলা ত্বক ফর্সা করে সাফল্য এনে দেয়া, ব্রণ-মেছতার দাগ মুছে রমণীয় করা, শারীরিক উচ্চতা বাড়ান, ফাটা সম্পর্ক জোড়া লাগানো, ভালোবাসা গাড় করে মধুময় করা এসব বিবৃতিতে কি কোনও সত্যই নিহিত আছে বলে আপনি মনে করেন? এটা কি প্রতারণা নয়? এসব দেখভাল করার কি কেউ আছেন? মনে হয় না। থাকলে এরকম মিথ্যা দিনের পর দিন উচ্চ ভলিউমে বলা-কওয়া সম্ভব হতো না। মিথ্যা বলা, বাড়িয়ে বলা এক্ষেত্রে একরকম রেওয়াজেই পরিণত হয়ে গেছে।

কোনও কোনও পণ্যের বিজ্ঞাপনে ‘হালাল’ শব্দটাও ব্যবহার করা হয়। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে এভাবে বাণিজ্য করা কতটা নৈতিক তা আলোচনার দাবী রাখে।
অনেকগুলি এনার্জি ড্রিংক বাজারজাত করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে বলা হচ্ছে এনার্জি ড্রিংক। ভোক্তাও কিনছেন এনার্জি ড্রিংক। এর মধ্যে কতটুকু এনার্জি আছে জানি না তবে পাঠককে অনুরোধ করব এই তথাকথিত এনার্জি ড্রিংক গুলোর গায়ে কি লেখা আছে একবার ভালভাবে দেখুন। আমি যদি ভূল না করে থাকি, লেখা আছে কার্বোনেটেড ড্রিংকস অর্থাৎ সফট ড্রিংকস। কিন্ত এটা যে সফট ড্রিংকস নয় তা এর উৎপাদকেরা নিজেরাই বলছেন। যতদূর জানি বাংলাদেশে এনার্জি ড্রিংকস বা হার্ড ড্রিংকস বাজারজাত করার অনুমতি নেই আর তাই এই পন্থা অবলম্বন করা। আর এটা যদি সত্য হয় তাহলে হয়ত আমরা আর কিছুদিনের মধ্যেই দেখব সকল নিষিদ্ধ পন্য যেমন মাদক দ্রব্য সমূহ ভিন্ন নামে বৈধভাবেই বাজারজাত হচ্ছে।

ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করে- যারা মিডিয়াকে প্রচুর বিজ্ঞাপন দেয়, তারা এর মাধ্যমে তো প্রচারিত হয়ই, আবার তাদের এটা-সেটা নিয়ে মিডিয়া খাতির বশত নানা সংবাদও প্রচার করে, যাতে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ড-এর উৎপাদক প্রতিষ্ঠান আরও প্রচার পায়। যাকে আমরা পাবলিসিটি বলে জানি। আর এই পাবলিসিটির গ্রহণযোগ্যতাও বেশি বলে তারা সে সুযোগটাও সাদরে গ্রহণ করে। যেখানে বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠান মিডিয়ার কাঁধে ভর করে দেদারসে পক্ষপাতমূলক প্রচার চালানোরও সুযোগ পায়। আর সাধারণ মানুষ তাদের এই আন্তরিক লেনদেনে প্রায়শই বিভ্রান্ত হন।

অনিয়মকে উৎসাহিত করে- সবচেয়ে আশংকার বিষয় হল, বিজ্ঞাপনের ওপর সিংহভাগ নির্ভরশীল গণমাধ্যমসমূহ কতদূর সাহস রাখে বিজ্ঞাপনদাতা প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারের। অথচ এই সব অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হতে পারত রক্ষা কবচ।

নকল পণ্য উৎপাদন এবং বাজারমূল্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে- অসততা ও নকল পণ্য উৎপাদনের যে ব্যাপকতা এখন দেশের বড়ো মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার পেছনেও কি জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর লাগাতার বিজ্ঞাপন দায়ী নয়? ইচ্ছে করলেই কি ছোট ছোট কোম্পানিগুলো এই বিজ্ঞাপনের জোয়ারে নিজের পণ্যের জায়গা করে দিতে পারে? জায়ান্ট কোম্পানিগুলো বিজ্ঞাপন বাহুল্যের এই খরচ মেটাতে বৃদ্ধি করছে পণ্য মূল্য। এছাড়া এদের পণ্য মূল্য নির্ধারণে স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়টিও লক্ষণীয়। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পণ্যের গায়ে যে মূল্য লিখে সে মূল্য কতটা যৌক্তিক তা নিয়েও মিডিয়া প্রশ্ন তোলে না। এমনকি যখন তখন দাম বাড়ালেও নয়। মিডিয়া তাদের পুকুরচুরি নিয়েও কখনো টু-শব্দটি করে না। আমাদের দেশে ব্যবসায়ীরা একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোকে ডোনেশন দিয়ে নিজেদের পক্ষের শক্তিতে রূপান্তর করছেন অন্যদিকে বিজ্ঞাপন দেয়ার নামে মিডিয়াগুলোকে রাখার চেষ্টা করছে নিজেদের কব্জায়। এই অসুস্থ মানসিকতার বলি হচ্ছে সাধারণ ভোক্তারা। আর তাই হয়ত আমরা যতটা ব্যাপক হৈচৈ দেখতে পাই চাল-ডাল, পিঁয়াজ-রসুনের দাম বাড়লে, লাক্স বা ফেয়ার এন্ড লাভলীর বেলায় তার ছিটেফোঁটা নয়। অনেকে হয়ত বলবেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য আর বিলাস সামগ্রী এক নয়। মেনে নিচ্ছি । সেই সাথে এটাও মনে করিয়ে দেব নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উৎপাদন খরচ যে হারে বেড়েছে বিলাস সামগ্রীর তত নয়। আর তাছারা পিঁয়াজ-রসুনের উৎপাদকেরা বা বাজারজাতকারীরা তাদের পন্যের বিজ্ঞাপন প্রচার না করায় তাদের সাথে মিডিয়াপাড়ার সখ্যতা নেই বোধকরি এটাও একটা বড় কারন।

শিশুস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে ফেলছে- শিশুদের খাবার নিয়ে করা বিজ্ঞাপন গুলো শিশুস্বাস্থ্যকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। ২০০৪ সালে ডেনমার্কে যে হরলিক্স নিষিদ্ধ করা হয় অতিরিক্ত ভিটামিন এবং মিনারেল ব্যবহারের কারণে এবং UK-তে “Stronger, Taller, Sharper”এই অ্যাডটি নিষিদ্ধ করা হয় ২০০৮ সালে। যদিও ইউকে’র হরলিক্সটি ফুড ফরটিফাইড নয়। অথচ ইউরোপ আমেরিকায় প্রত্যাখ্যাত হরলিক্সের বিজ্ঞাপন এদেশে চলছে জোরেশোরে। এখন বলা হচ্ছে ২ গ্লাস হরলিক্স = ৬৬৬ গ্রাম ইলিশ মাছের সমান আয়রন এবং ছয়টি লেবুর সমান ভিটামিন। তাদের কথা অনুযায়ী শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য হরলিক্স রেগুলার খাবার। তাহলে প্রতিদিন একটি শিশুর ঐ পরিমাণ আয়রন এবং ভিটামিন ফুড সাপ্লিমেণ্ট হিসাবে গ্রহণ করা উচিৎ! সত্যিই কি এর প্রয়োজন রয়েছে?

জানা যায় ভিটামিন হচ্ছে এক ধরনের জৈবিক পদার্থ যা মানুষের শরীরের নির্দিষ্ট কিছু কোষের কাজ সম্পাদনের জন্য খুব কম পরিমাণে এর প্রয়োজন হয়। আমরা সাধারণত আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সাথে তা নিয়েও থাকি। আর মিনারেল হচ্ছে অজৈব উপাদান যা মানুষের দেহ গঠনমূলক পদার্থ। এটি এনজাইম এর বিশ্লেষণে এবং স্নায়ুর সঞ্চালনে সাহায্য করে। মানুষের দেহ মিনারেল তৈরি করতে পারে না। প্রত্যেকটি মিনারেল প্রতিদিন খাবারের সাথে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে নিতে হয় যা বেশি পরিমাণে নিলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

আমেরিকান একাডেমী অব ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান্স (এএএফপি) এর মতে, একজন চিকিৎসক নিম্নোক্ত কারণে ভিটামিন প্রেসক্রাইব করতে পারেন। এগুলো হচ্ছে—

● নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যায়।

● নিরামিষ ভোজীদের ক্ষেত্রে।

● মায়েদের ক্ষেত্রে অন্তঃসত্ত্বা বা সন্তানকে দুগ্ধ দান কালে।

যদি এমন হয় যে, কোন ব্যক্তির নিয়মিত খাদ্য কোনোভাবেই নির্দিষ্ট কোনও পুষ্টি ঘাটতিকে পূরণ করতে পারছে না। তখনি ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট উপযোগী হয় আর তাও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। স্বাভাবিক অবস্থায় যা নেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ, এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে যায়।

দুধে ম্যালামাইন নিয়ে যখন চারিদিকে হৈ চৈ, তখন ডানো না কে একটা ‘মা’র আবেগকে ব্যবহার করেছিল : মা তোমাকে কখনো খারাপ জিনিস খাওয়াতে পারে? পায়ের পছন্দ ডানো, কাজেই ডানো বিপদমুক্ত — এরকম কিছু একটা ছিল সম্ভবত। এখন এইসব ‘মূল্যবোধ’ ব্যবহার করা হয় বিজ্ঞাপনে।

একটি মোবাইল ফোনের বিজ্ঞাপন জিঙ্গেলে বলা হচ্ছে “ সবাই যখন বলছে, করছ ভুল। তখন তোরাই বলছিছ ঠিক। তোরা ছিলি তোরা আসিছ জানি তোরাই থাকবি ……বন্ধু……”। বন্ধুত্বের এই জয়গান নিশ্চয়ই প্রসংশনীয় কিন্ত তাই বলে সবাইকে প্রতিপক্ষ করে? আর এই সবাই বা কারা? নিশ্চয়ই এখানে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বোঝানো হচ্ছে। তার মানে কি, একমাত্র বন্ধুরাই শুভাকাঙ্ক্ষী। আর সব প্রতিদ্বন্দ্বী? কিছু কিছু বিজ্ঞাপনে আমাদের চিরায়ত পারিবারিক বন্ধন এবং মূল্যবোধকে এভাবেই বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা হচ্ছে অহরহ।

শিশুদের যে ক্যান্ডি খেতে চিকিৎসক গন অনবরত নিরুৎসাহিত করছেন। টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনের কল্যাণে সেই শিশু এখন জানছে ক্যান্ডি দুধের বিকল্প। এমনকি ক্যান্ডি খেলে বাঘের শক্তি মেলে। পেস্ট এর বিজ্ঞাপন গলাধঃকরণ করতে গিয়ে শিখছে মারামারি।

একটি চুইংগামের বিজ্ঞাপনে দেখা যায় বাচ্চাটি যতক্ষণ চুইংগাম খাচ্ছে ততক্ষণ সে গল্প বলছে। আর চুইংগাম ফুরিয়ে গেলেই তার গল্পও ফুরিয়ে যাচ্ছে।’ এমন একটি বিজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু ইউসুফ ফকির বলেন, এ রকম আরও অনেক বিজ্ঞাপন বাচ্চাদের কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের ড. মিলন মিলনায়তনে ‘স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন চাই কার্যকর দুর্নীতি প্রতিরোধ’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিজ্ঞাপনে ভুল কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া এক ধরনের ‘দুর্নীতি’। ভুল কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিজ্ঞাপনে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া অবশ্যই নিন্দনীয়। এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে। তথ্য বিভ্রান্তি অনেক দুর্নীতির সুযোগ করে দেয়। এ কারণে সাধারণ রোগী যেমন প্রতারিত হয় তেমনি ডাক্তার ও কর্মচারীদের মধ্যেও বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়।

আমাদের দেশে বিজ্ঞাপনের কোনও সেন্সর নেই বলেই জানি। বিজ্ঞাপন-সংশ্লিষ্টরা এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছেন। একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচারের অনুমতি পাওয়া উচিৎ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রশাসন, তথ্যমন্ত্রণালয় এবং সবশেষে এ সংক্রান্ত একটি সেন্সরবোর্ডের যাচাই বাছাই সাপেক্ষে। তবেই আমরা রক্ষা পাব ওমেগা সিটির মত প্রতারণার হাত হতে। সেন্সরবোর্ড থাকলেই যে রাতারাতি এই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, তা হয়ত নয়। তবু অন্তত কারো উপর এর দায় দায়িত্ব তো বর্তাবে। তাকে এর জন্য জবাবদীহীও করতে হবে। যাতে এই বিজ্ঞাপনী প্রতারণার হাত থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি না-মিললেও নিশ্চয়ই মাত্রাগত দিক থেকে কম ক্ষতির শিকার হবার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাও বা কম কিসে।

বৃটিশ লেখক Herbert George “H.G.” Wells এর ভাষায়- “Advertising is legalized lying”

পরিশেষে ওয়েলস এর উপরোক্ত উক্তিটি মেনে নিয়েই বলব- মিথ্যে হোক, কিন্তু এই বিজ্ঞাপনী মিথ্যে যেন অন্তত ক্ষতির কারন না হয়।

kmgmehadi@yahoo.com

তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ২৪.কম, দৈনিক ডেসটিনি অন্যান্য।
http://www.banglanews24.com/dev404/detailsnews.php?nssl=1385c716e0293b5609ab0456bb17fbdd&nttl=31052012115575
http://www.dainikdestiny.com/index.php?view=details&type=main&cat_id=1&menu_id=1&pub_no=263&news_type_id=1&index=14&archiev=yes&arch_date=28-05-2012
http://www.guruchandali.com/amaderkatha/guruchandali.Controller?portletId=8&porletPage=2&contentType=content&uri=content1342526539046#.UC4OsOxVOIU